শিরশ্ছেদের আগে ভয়হীন সামারাইয়ের ছবি, সাড়া বিশ্বজুড়ে ভাইরাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক – ইসলামিক স্টেটের (আইএস) ঘাতকের ছুরি তাঁর গলায়। ছুরি এদিক-ওদিক ঘোরালেই চলে যেতে হবে পরপারে। কিন্তু শিরশ্ছেদের ঠিক আগ মুহূর্তে ইরাকি সেনা আবু বকর আল-সামারাই নির্বাক, ভয়-ভীতিহীন, ভাবলেশহীন। এরপরেই আইএস ঘাতকের ছুরিতে প্রাণ যায় তাঁর। ভয়-ভীতিহীন ও ভাবলেশহীন থাকার সেই ছবি সাড়া বিশ্বজুড়ে ভাইরাল হয়েছে।

ছবির সূত্র ধরে ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, আইএস তিনজনের শিরশ্ছেদ করেছে। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে সুন্নি অফিসার আবু বকর আল-সামারাই এবং অপর দুজন হলেন ইরাকের সীমান্ত সুরক্ষা কর্মকর্তা। আইএস সম্পর্কিত একটি চ্যানেল গতকাল মঙ্গলবার এই তিনজনের ছবি প্রকাশ করে। তবে এ ঘটনা কবেকার তা জানা যায়নি।

এমনিতেই আইএস জঙ্গিরা তাদের হাতে বন্দীদের নৃশংসভাবে হত্যার পর ছবি এবং ভিডিও নিয়মিতই প্রকাশ করে থাকে। সাধারণ নাগরিকসহ বন্দী সেনাদের শিরশ্ছেদের ছবি-ভিডিও অনেক ভাইরালও হয়েছে। এটা নিয়ে নিন্দার ঝড়ও ওঠে বিশ্বজুড়ে। সেভাবেই আইএসের হাতে বন্দী ইরাকের ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট আবু বকর আল-সামারাইয়ের শিরশ্ছেদের ভিডিও তাদের ওয়েবসাইটে সম্প্রতি প্রকাশ করেছে আইএস। সেই ভিডিও থেকে ছবি ‘স্ক্রিন গ্র্যাব’ করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রকাশ করেন হায়দার আল খোয়েই নামের এক ব্যক্তি। এরপরেই ওই ছবি ভাইরাল হয়ে যায়।

ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সামারাইয়ের ঘাড়ের কাছে তাঁর জামার কলার ধরে রেখেছে এক জঙ্গি। তাঁর দুই চোখে নির্ভীক চাহনি। ভয় বা ভেঙে পড়ার চিহ্নমাত্র নেই। অন্য ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সামারাইয়ের মাথা পেছন থেকে টেনে ধরেছে এক জঙ্গি। আর গলার কাছে ধরা ছুরি। একটু পরেই সেই ছুরি সামারাইয়ের গলায় চলে।

vitihin

যুক্তরাজ্যের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস টাইমস এই ছবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

ইরাকের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মসুল আইএসের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়ার জন্য যুদ্ধ করছে ইরাকের সেনাবাহিনী। ২০১৪ সাল থেকে আইএস এ শহরটির দখলে রেখেছে। বলা হচ্ছে, আল-সামারাই ইরাকি সেনাবাহিনীর প্রথম কোনো সেনা অফিসার, যিনি আইএসের হাতে বন্দী হন। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সামারাইয়ের গুণগান গেয়ে একটি হ্যাশট্যাগ ‘শহীদ আবু বকর আল-সামারাই’ চালু হওয়ার পরপরই দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।

ইরাকের সাবেক একজন কূটনীতিক লোকমান ফেইলি। তিনি জাপানে ও যুক্তরাষ্ট্রে ইরাকি রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অনেকের মধ্যে তিনিও একজন, যিনি মৃত্যুর মুখে সৈনিকের দৃঢ়তার প্রশংসা করেছেন।

লোকমান ফেইলি টুইটারে আরবিতে একটি টুইট করেছেন। ওই টুইটে তিনি লিখেছেন, ‘বলা হয়ে থাকে যে একটি ছবি হাজার শব্দের চেয়ে বেশি কাজ করে। আমি বলতে চাই, এই ছবিটি সারা বিশ্বের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ইতিহাসের প্রতিফলন এবং এতে আপনার মাথা উঁচুই হবে।’ এরপরেই তিনি ইংরেজি ক্যাপশন দিয়ে সামারাইয়ের একটি ছবি পোস্ট করেন। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘শিরশ্ছেদের মাধ্যমে ইরাকি সেনাকে শহীদ করা হচ্ছে, এটার তাঁর জন্য অহংকারের।’

এ ছাড়া লোকমান ফেইলি আল-সামারাইয়ের একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিও প্রচার করেছেন। তারিখবিহীন ওই ভিডিওতে সামারাই বলেন, ‘মর্যাদা সব সময় ভালোবাসার ওপর জয়ী হবে।’

ইরাকি বিশ্লেষক হায়দার আল-খোয়েই লিখেছেন, ‘তাঁর মতো একজন নায়ক মরতে পারে না।’

টুইটার ব্যবহারকারী বিন মায়মুন বলেন, ‘দায়েস একজন বকরকে মেরে ফেলতে পারে। কিন্তু ইরাক এক হাজার বকরের জন্ম দেবে।’