জবানবন্দী দিতে প্রস্তুত জাকির নায়েক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক – মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জবানবন্দি দেবেন বলে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে জানিয়ছেন ইসলামি বক্তা ও পিসি টিভি’র আলোচক জাকির নায়েক। সশরীরে ভারতে এলে তাকে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়তে হবে, এ কারণে ভারতে আসা তার জন্য প্রায় অসম্ভব বলেই তিনি এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

জাকির নায়েক ভারতে ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন (আইআরএফ) প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। গত বছরের নভেম্বর মাসে ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় প্রতিষ্ঠানটিকে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় এবং এর জন্য কোনো ধরনের বিদেশি অনুদান গ্রহণও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

গত সপ্তাহে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট জাকির নায়েকের সহযোগী আমির গাজদারকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি আইআরএফের বিরুদ্ধে আনীত মানি লন্ডারিংয়ের মামলার তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করেননি। আইআরএফের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মানি লন্ডারিং ছাড়াও তারা তাদের অনুদানের অর্থ পিস টিভিকে দিয়ে থাকে। এই টিভি চ্যানেলটি জাকির নায়েকের বক্তৃতা প্রচার করে থাকে এবং এসব বক্তৃতায় বিভিন্ন ধর্মের মধ্যে বৈরিতা ও ঘৃণা উসকে দেওয়া হয়।

zakir-nayek

মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগেই জাকির নায়েককেও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের সামনে হাজির হতে বলা হয় ৯ ফেব্রুয়ারি। তিনি ডিরেক্টরেটের সামনে হাজির হননি।

তার আইনজীবী জানিয়েছেন, জাকির নায়েক দাবি করেছেন, তাকে ভারতে তীব্র বৈরিতার মুখে পড়তে হবে। এ কারণে ভারতে আসার জন্য কয়েক মাস সময় চেয়েছেন তিনি। তবে এর বদলে তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জবানবন্দি দিতে রাজি হয়েছে। জাকির নায়েকের আইনজীবীর দাখিল করা চিঠিতে বলা হয়েছে, “আমার মক্কেল আপনাদের তদন্তের জন্য স্কাইপ বা যেকোনো ধরনের ইলেকট্রনিক মিডিয়ার মাধ্যমে জবানবন্দি দিতে সম্মত রয়েছেন।”

শুধু তাই নয়, ওই চিঠির মাধ্যমে জাকির নায়েক তদন্ত কর্মকর্তাদের বেআইনি তৎপরতা (প্রতিরোধ) আইন ট্রাইব্যুনালের আদেশের জন্যও অপেক্ষা করার আহ্বান জানান। হাইকোর্টের একজন বিচারকের অধীনে পরিচালিত এই ট্রাইব্যুনালে আইআরএফের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জারি করা নিষেধাজ্ঞার শুনানি চলছে।

জাকির নায়েকের বক্তৃতা গত বছরের জুলাই মাসে ঢাকার গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারির জঙ্গি হামলায় জড়িত সন্ত্রাসী/জঙ্গিদের উৎসাহ জুগিয়েছিল- এমন অভিযোগ আসার পর নিরাপত্তা বাহিনী জাকির নায়েকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে শুরু করে।

এই অভিযোগে বাংলাদেশেও পিস টিভিকে নিষিদ্ধ করা হয়। ওই সময়ের পর থেকে জাকির নায়েক সৌদি আরবে রয়েছেন এবং নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় ভারত সফরের সব ধরনের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন।