মির্জাপুরে মসজিদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে

অন্তু দাস হৃদয়, টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় একটি মসজিদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। ওই মসজিদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব থেকে ছয় লাখ ৫৬ হাজার ৫৬৬ টাকা তুলে ব্যক্তিগত প্রয়োজন মিটিয়েছেন তিনি।

বিষয়টি জানাজানি হলে তিনি কিছু টাকা ফেরত দিয়েছেন, বাকিটা জমি বেচে হলেও ফেরত দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে মির্জাপুরের তরফপুর ইউনিয়নের ডৌহাতলী গ্রামের বানিয়াপাড়া জামে মসজিদে।

অভিযুক্ত শওকত মোমেন শাহাজান ওই মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি। তিনি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকও।

11মসজিদের তহবিল আত্মসাতের ঘটনায় সোমবার মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত সাদমীনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বেলায়েত হোসেন ও রমিজ উদ্দিন নামে দুই মুসল্লি।

জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা-ইউএনও ইসরাত সাদমীন বলেন, ‘এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

ইউএনওর কাছে জমা দেয়া অভিযোগ অনুযায়ী, ৪৬ বছরের পুরাতন ডৌহাতলী বানিয়াপাড়া জামে মসজিদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তরফপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শওকত মোমেন শাহজাহান।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন আতিকুর রহমান রহমান আতিক ও কোষাধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান।

এই তিন জনের যৌথ সইয়ে মসজিদের নামে স্থানীয় জনতা ব্যাংক পাথরঘাটা শাখায় একটি হিসাব রয়েছে। বিভিন্ন সময় সরকারি ও মুসল্লিদের দেয়া অনুদানের টাকা মিলিয়ে ব্যাংকের আট লাখ ৬০ হাজার ৬৯৮ টাকা জমা ছিল।

কিন্তু গত ১৩ অক্টোবর ব্যাংকের হিসাব বিবরণীতে দেখা যায়, দুই লাখ চার হাজার ১৩২ টাকা জমা আছে। বাকি সাড়ে ছয় লাখ টাকা কোথায় গেলো-এ নিয়ে খোঁজ করতে গিয়েই জালিয়াতি প্রকাশ পায়। জানা যায়, কমিটির সাধারণ সম্পাদকের সই জাল করে টাকা তুলে নিয়েছেন সভাপতি।

ব্যাংকে হিসাব খোলার ক্ষেত্রে তিনজনের সই দেয়া হলেও দুই জনের সইয়েও টাকা তোলার সুযোগ আছে। কমিটির সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান সময়ের কন্ঠস্বর’কে জানান, তিনি চেকে সই দেননি।

পরে, চাপের মুখে কমিটির সভাপতি শওকত মোমেন শাহজাহান সময়ের কন্ঠস্বর’কে বলেন, সাধারণ সম্পাদকের সই তিনি নকল করেছেন।

মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সময়ের কন্ঠস্বর’কে জানান, আত্মসাত করা টাকার মধ্যে দেড় লাখ এরই মধ্যে মসজিদ কমিটিকে ফেরত দিয়েছেন শওকত মোমেন শাহাজান। বাকি টাকাও জমি বিক্রি করে হলেও ফেরত দেয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।

মসজিদের তহবিল থেকে টাকা সরানোর কথা স্বীকার করেন শওকত মোমেন শাহজাহান। বলেন, নিজ প্রয়োজনে কমিটির সাধারণ সম্পাদকের সই নিজেই দিয়েছেন তিনি।