খালাস চেয়ে মুফতি হান্নানের রিভিউ আবেদন

সময়ের কণ্ঠস্বর- ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর হামলা ও পুলিশসহ তিনজনের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুফতি হান্নান খালাস চেয়ে রিভিউ আবেদন দাখিল করেছেন।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় মুফতি হান্নানের পক্ষে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড নাহিদ সুলতানা রিভিউ আবেদন করেন। ১০০ পৃষ্ঠারও বেশি রিভিউ আবেদনে মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাসের আর্জি জানানো হয়েছে।

image-21704প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন ৪ বিচারপতির আপিল বেঞ্চ গত ৭ ডিসেম্বর আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলার মামলায় সংক্ষিপ্তভাবে রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মুফতি আবদুল হান্নান, শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে আপিল বিভাগ।

আইন অনুযায়ী রায়ে সংক্ষুব্ধ আসামিরা রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে রিভিউ আবেদন করতে পারেন। রিভিউ আবেদন খারিজ হয়ে গেলে আসামিদের ফাঁসি কার্যকরের দিনক্ষণ গণনা শুরু হবে।

আদেশের কপি হাতে পেয়ে জেল কোড অনুযায়ী আসামিদের ফাঁসি কার্যকর করার ক্ষেত্রে ‘২১ দিনের আগে নয় এবং ২৮ দিনের পরে নয়’ বলে যে বিধান রয়েছে তা অনুসরণ করবে জেল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি এ সময়ের মধ্যে আসামিরা রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সুযোগও নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ করলে তারপর আসামিদের ফাঁসি কার্যকর হবে।

আনোয়ার চৌধুরীর উপর হামলার মামলায় জেল আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে গত ১১ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করে হাইকোর্ট। রায়ে মুফতি হান্নানসহ তিনজনের ফাঁসি ও দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় বহাল রাখে হাইকোর্ট।

আসামিদের মধ্যে মুফতি হান্নান, শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন ওরফে রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং হান্নানের ভাই মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে মফিজ ওরফে অভি এবং মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল সিলেটের একটি আদালত।

হাইকোর্টের দেয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি গত ২৮ এপ্রিল প্রকাশ করা হয়। বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ১৬৭ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করে।

গত ১৪ জুলাই হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আপিল করেন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নান ও শরীফ শাহেদুল আলম ওরফে বিপুল।

কারাসূত্র বলেছে, ২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে যান ঢাকায় নিযুক্ত তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী। ফেরার পথে ফটকের কাছে গ্রেনেড হামলায় আনোয়ার চৌধুরীসহ বেশ কয়েকজন আহত হন, নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন।

এ ঘটনায় করা মামলায় ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান, জঙ্গি শরিফ শাহেদুল ও দেলোয়ারকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখেন।

গত ৭ ডিসেম্বর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে মুফতি হান্নানসহ তিন জঙ্গির আপিল শুনানি শেষে আপিল বিভাগ খারিজ করেন। গত ১৭ জানুয়ারি আপিল বিভাগের ৬৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। দণ্ডিত দুই আসামিও কারাগারে রয়েছেন।