গ্রীন টি নিয়ে যত কথা! (কেন খাবেন? উপকারিতা কি?) (শেষ পর্ব)

গ্রিন টি

সাজেদুর রহমান, লাইফস্টাইল কন্ট্রিবিউটর, সময়ের কণ্ঠস্বর।

গতকাল আপনাদের গ্রিন টি কি এবং কেন খাবেন তা সম্পর্কে জানিয়েছিলাম। আজ তেমন আরো কিছু উপকারিতা সম্পর্কে জানাচ্ছি।

৫. পঞ্চম কারন হল গ্রীন টি আমাদের ব্লাড সুগার লেভেল ব্যালান্স করে আমাদের এনার্জি স্ট্যাবল রাখতে সাহায্য করে। এটি ব্লাড সুগার বাড়তে বা কমতে বাধা দেয়। যার ফলে বিরক্তি ভাব কমে এবং গ্রীন টি ক্ষুধা কমায়। গ্রিন টি পানকারিদের ক্ষুধার উপর কন্ট্রোল থাকে যা বেশি না খেতে সাহায্য করে। তাই আপনি যদি সেসব মানুষগুলোর একজন হয়ে থাকেন যাদের পেট ভর্তি থাকার পরও ক্ষুধা থাকে বা খাবাবের প্রতি চাহিদা থাকে। তারা রেগুলার গ্রীন টি খাওয়া শুরু করুন আপনার রেগুলার মিলের পাশাপাশি।

৬. রেগুলার গ্রীন টি আপনার আয়ু বাড়াবে এবং আপনাকে ইয়াং দেখাবে। গ্রীন টি তে থাকা EGCG ভিটামিন E এর থেকে ২০০% বেশি কার্যকর স্কিন ড্যামেজ করা সেল ধ্বংস করার ক্ষেত্রে। যাইহোক কথা হল রেগুলার বেসিসে গ্রিন টি খেলে স্কিন ড্যামেজ, রিংকেল এবং চেহারা থেকে বয়সের ছাপ কমায়। আর এশিয়ানদের(চাইনা,জাপান,কোরিয়া) ঝকঝকে তকতকে চেহরার রহস্য হইলো তাদের রেগুলার গ্রীন টি খাবার অভ্যাস। চিরসবুজ থাকতে হইলে সবুজ চা খাইতে হবে।

৭.আপনি হয়তো জানেন না গ্রিন টি দাতের জন্য ভাল এবং এটি মুখের গন্ধ দুর করে। যেখানে কফির কারনে মুখে গন্ধ হয় সেখানে গ্রীন টি তার পুরা বিপরীত। গ্রীন টি তে প্রাপ্ত এন্টিব্যাকটেরিয়া এবং ন্যাচরাল ফ্লোরাইড সেসব ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে যার ফলে ক্যাভিটি,মাড়ির সমস্যা এবং মুখের গন্ধ সৃষ্টি হয়। তাই আপনি আপনার কফিকে রিপ্লেস করে গ্রীন টি খেতে পারেন।

৮. গ্রীন টি ক্যান্সারের ঝুকি কমায়। অনিয়ন্ত্রিত সেল বৃদ্ধির কারনে ক্যান্সার হয়ে থাকে।EGCG ক্যান্সার সেলের বৃদ্ধিতে বাধা দেয়।

৯. গ্রীন টি রক্তে খারাপ কোলেস্ট্রল (LDL)কমায় এবং ভাল কোলেস্ট্রল (HDL)বৃদ্ধি করে। এর ফলে এটি Cardiovascular Disease হতে দেয় না। যা এখন আমেরিকাতে মৃত্যুর প্রধান কারন।

তো এখন যেহেতু গ্রিন টি এর উপকারিতা গুলো জেনে গেলেন তো সর্বোচ্চ ফলাফল পেতে সারাদিনে কত কাপ খাওয়া উচিত?

এটা নিয়ে অনেক মতবিরোধ আছে। কারও মতে ২ কাপ, কেউ ৫ কাপ কেউবা ১০ কাপ পর্যন্ত বলসে। তবে ৩-৫ কাপ খাওয়া সেফ। এবং হ্যা গ্রীন টি তে ক্যাফেইন আছে যা কফির তুলনায় অনেক কম। এক কাপ গ্রীন টি তে ৩৫ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন থাকে যেখানে কফিতে ১০০-২০০ মিলিগ্রামের মত ক্যাফেইন থাকে। কারও যদি ক্যাফেইনে সমস্যা থাকে তবে সে দিনে এককাপ খেতে পারে।

তো কিভাবে গ্রীন টি বানালে ম্যাক্সিমাম ফ্লেভার পাওয়া যাবে। পানি ফুটিয়ে চুলা অফ করবেন। তারপর ১ কাপ পরিমান পানিতে ১ চা চামচ গ্রীন টি দিয়ে ২-৩ মিনিট লিকার ছড়াতে সময় দিন। তারপর ছেকে খেয়ে ফেলুন। যদি আপনি গ্রিন টি ফুটান তবে এটা তিতা হবে আরও।গ্রিন টি আপনি ঠান্ডা গরম দু অবস্থা তে খাইতে পারবেন।

আপনি ফ্লেভার দিতে চাইলে লেবু চিপে দিতে পারেন বা আদা। তবে যাই করেন গ্রীন টি তে দুধ মেশাবেন না। দুধ গ্রীন টি এর উপকারিতা নষ্ট করে দেয় এবং এটা যথেষ্ঠ অদ্ভুত ব্যাপার। যদি সর্বোচ্চ ফলাফল পেতে চান তবে গ্রিন টি তে কোন আর্টিফিশিয়াল সুইটনার বা চিনি মেশাবেন না। গ্রীন টি এমনিতেই হেলদি সাথে কিছু মিক্স করার দরকার নাই। আর বড় কথা হল গ্রীন টিতে কোন ক্যালরি নাই।

শেষ কথা হল, গ্রিন টি আপনি শুরু করলে তারপর কয়েক মাস খেয়ে ছেড়ে দিবেন এমন যেন না হয়। গ্রিন টি থেকে ম্যাক্সিমাম হেলথ বেনফিট পাবার জন্য রেগুলার গ্রিন টি খেতে হবে।
আগের পর্ব পড়তে চাইলেঃ http://www.somoyerkonthosor.com/2017/02/22/99192.htm