প্রতিশোধি এক বুলেটের গল্প!

বুলেট

আরেফিন শিমন , লাইফস্টাইল কন্ট্রিবিউটর, সময়ের কণ্ঠস্বর।

কিছু কিছু অবাস্তব ঘটনা প্রায়ই ঘটে আমাদের সাথে। যা কারো জন্য হয়ে ওঠে সুখকর বিষয় আর কারো জন্য তা হয়ে ওঠে ভয়ংকর কিছু। মানুষ  প্রতিশোধ পরায়ণ তা সকলেরই জানা । ছোটখাটো বিষয় নিয়ে প্রতিশোধ নিতে গিয়ে মানুষ বেঁধে ফেলে ভয়ংকর কিছু ঘটনা।  এমনকি দেশে দেশে যুদ্ধের ঘটনাও ঘটছে।
অবশ্য মাঝেমাঝে অন্যন্য প্রাণীদের কিছুকিছু কাজকর্মের জন্য তাদের মধ্যেও এই প্রতিশোধ পরায়ণ বিষয় টা আছে বলে ধরা হয়।
কিন্তু যদি এমন হয় যে একটি জড় বস্তু কোন কারনে প্রতিশোধ নিল! কেমন হয় ব্যাপার টা ? হ্যাঁ এমনই ঘটছিল এখন থেকে প্রায় ১২৪ বছর আগে। একটা বুলেট নিয়েছিল একটা হত্যার প্রতিশোধ । যা তখনকার  সময়ে নানা রকমের হৈচৈ ফেলে দিয়েছিল। অনেকে আবার নানা গুজব তৈরি করে ফেলেছিল।

এখন থেকে অনেক বছর আগে সেই ১৮৯৩ সালের কথা । হেনরি জিগল্যান্ড নামক এক যুবক  হঠাৎ করেই সিদ্ধান্ত নেন তার তখনকার প্রেমিকাকে ছেড়ে দেওয়ার।আর তাই তিনি তার প্রেমিকাকে বললেন যে তিনি আর সম্পর্ক রাখতে চাইছেন না। তার প্রেমিকা এতে খুবই মর্মাহত হয়ে পড়লেন। তিনি অনেক অনুরোধ করলেন যাতে তিনি তাকে না ছেড়ে দেন। কিন্তু হেনরি জিগল্যান্ড কোন কথাই শুনলেন না।বরং খারাপ ব্যবহার করা শুরু করলেন।

তবুও হাল ছাড়লেন না তার প্রেমিকা। তিনি বুঝাতে চাইলেন নানা ভাবে যে তিনি তাকে অনেক ভালোবাসেন। তার ভুল গুলো কি তা তাকে বলতে বললেন যাতে তিনি এগুলো শুধরাতে পারেন। তবুও যেন তাকে ছেড়ে না দেন। তাতেও মন গলল না হেনরি জিগল্যান্ড এর।

অনেক চেষ্টাতেও সম্পর্ক টেকাতে না পেরে একটা সময় কষ্টে আর আভিমানে মেয়েটি আত্মহত্যা করে ফেলে। মেয়েটির আত্মহত্যার কারন মেয়েটির ভাই জেনে ফেলেন।  ফলে তার ভাইয়ের সব রাগ গিয়ে পড়ে হেনরির ওপর। তিনি পিস্তল নিয়ে চলে যান হেনরি জিগল্যান্ড এর বাড়িতে। বোনের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে হেনরির বাড়ি গিয়ে তাকে গুলি করে তার ভাই।

সৌভাগ্যক্রমে হেনরিকে তাক করে ছোড়া বুলেটটি একটি গাছে আটকে যায় আর বেঁচে যান হেনরি। এরপর অনেকদিন গিয়েছে। পুরোন স্মৃতি ভুলেছেন হেনরি। হয়তো বোনের মৃত্যুর ঘটনা খানিকটা ভুলতে বসেছিলেন ভাইও।

কিন্তু এরা সবাই ভুলে গেলেও ভোলেনি বুলেটটি! বন্দুক থেকে ছোড়া বুলেটটি হেনরির শরীরে গিয়ে লাগাটাইতো ছিল তার উদ্দেশ্য! আর তাই বুঝি সেই উদ্দেশ্য পুরুন করল এত বছর পর।

সেই ঘটনার প্রায় ২০ বছর পর ১৯১৩ সালে হেনরি সিদ্ধান্ত নেন ডিনামাইট দিয়ে বুলেট লাগা গাছটাকে উপড়ে ফেলার। বুলেটটিও যেন এই সময়েরই অপেক্ষায় ছিল। ডিনামাইট ফাটতেই গাছ থেকে বেরিয়ে সোজা হেনরির কপালেই গিয়ে লাগলো সেটা। এরপর আর বেশিক্ষণ লাগেনি হেনরির মরতে!

এই ঘটনার পর অনেকে অনেক গুজব ছড়িয়েছিল যদিও এটা শুধু মাত্র কাকতালীয় ঘটনা ছাড়া কিছুই ছিল না। তবুও খুশিই হয়েছিলেন বোধহয় মেয়েটির পরিবার।

সুত্রঃ ইন্টারনেট।