ছেলের মারধর সহ্য করতে না পেরে মায়ের অভিযোগ থানায়, অতঃপর জেলহাজতে ছেলে!

আব্দুল লতিফ রঞ্জু , পাবনা প্রতিনিধি, সময়ের কণ্ঠস্বর : ১০ মাস ১০ দিন গর্ভে রেখে অতি আদরের এক ফুটফুটে সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন মা লাইলী বেগম। মা-বাবার প্রথম পুত্র সন্তান হওয়ায় বাবা শামছুল আলম ভালবেসে সন্তানের নাম রেখেছিলেন বাবু। আশায় বুক বেঁধে তারা সন্তানকে লালন পালন করেছিলেন যেন এই সন্তান একদিন বড় হয়ে বৃদ্ধ মা-বাবাকে দেখাশুনা করবে। মা-বাবার আদর-যত্নে শিশু সন্তানটি ধীরে ধীরে কৈশর পেরিয়ে হয়ে ওঠে টগবগে এক কর্মঠ যুবক।

সংসারের নানা চড়াই-উৎড়াই এর মধ্যে পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া পৌর সদরের চৌবাড়ীয়া রেল পাড়া এলাকায় বউয়ের প্ররোচনায় মাকে মারধর করার অপরাধে মায়ের অভিযোগে আজ সকালে ছেলে বাবুকে আটক করে পুলিশ।

pabnaজানা গেছে, কর্মজীবনে প্রবেশ করে ছেলে শুরু করে আয় উপার্জন। প্রথম দিকে বাবু উপার্জিত অর্থ মা-বাবা ও ছোট ভাই-বোনকে দেখাশুনার জন্য প্রয়োজনের তুলনায় বেশী ব্যয় করতেন। তখন ভালবাসায় ভরে উঠেছিল তাদের পরিবার। হঠাৎ একদিন বাবু কাউকে না জানিয়ে নিজের পছন্দে তানিয়া নামের এক সুন্দরী রমণীকে বউ করে ঘরে নিয়ে আসে। আর এখান থেকেই শুরু হয় যত বিপত্তি। স্বামীর সংসারে এসেই তানিয়া তার স্বামীর উপার্জিত অর্থ শ্বশুর-শ্বাশুরি এবং পরিবারের জন্য ব্যয় করতে স্বামীকে বাধা প্রদান করে। এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে শুরু হয় বাক-বিতন্ডা।

ইতিমধ্যে বাবুর হতভাগ্য পিতা শামছুল আলম আকষ্মিকভাবে মৃত্যুবরণও করেন। এমতাবস্থায় সদ্য বিধবা লাইলী বেগম অন্য সন্তানদের নিয়ে আরো হতাশ হয়ে পড়েন। এরপর প্রায়ই তার পুত্র বাবু এবং পুত্রবধূ তানিয়া মিলে তাকে মারধর করে। অবশেষে পুত্রের মারধর সহ্য করতে না পেরে বুধবার রাতে ভাঙ্গুড়া থানায় অভিযোগ দেন মা লাইলী বেগম। মায়ের অভিযোগের ভীত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ বাবুকে আটক করে। পরে মায়ের অনুরোধেই বাবুকে মুছলেকা দিয়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ।