প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি পুরনে অবশেষে জেলে বসে স্বজনদের সাত্থে মোবাইলে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে কারাবন্দীরা

সময়ের কণ্ঠস্বর-ঢাকা-

গত বছরের ১০ এপ্রিল কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার উদ্বোধনের সময় বন্দিদের ফোনে কথা বলার সুযোগ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা । তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রোগ্রামের আওতায় কারাবন্দিদের ফোনে কথা বলা সংক্রান্ত প্রিজন লিংক প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছিলো আগেই । তবে এবারই আলোর মুখ দেখছে প্রকল্পটি।

কারাগারে বন্দিরা মোবাইল ফোনে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে শিগগিরই ।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে কারা অধিদপ্তরে কারা সপ্তাহ ২০১৭ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ প্রক্রিয়া দ্রুতই  শুরু হবে বলে জানিয়েছে কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দীন।

তিনি  জানান, টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে এর পাইলট প্রকল্প শিগগিরই শুরু করা যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

কারা মহাপরিদর্শক বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগামী বৈঠকে এর চূড়ান্ত অনুমোদনের পর আমরা এই প্রকল্পটি চালু করব। আশা করছি আগামী ১ মাসের মধ্যেই এটি কার্যকর হবে। দ‍ুর্ধর্ষ জঙ্গি বা শীর্ষ সন্ত্রাসীরা মোবাইল ফোনে যোগাযোগের সুযোগ পেলে কোনো ঝুঁকি রয়েছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের কাছে নিরাপত্তার বিষয়টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জঙ্গি বা শীর্ষ সন্ত্রাসীরা এ সুযোগ পাবে না। শুধুমাত্র সাধারণ বন্দিদের এর আওতায় আনা হবে।

তিনি বলেন, যখন একজন আসামি কারাগারে আসবে তখন তার বিস্তারিত নথিপত্র তৈরির সময় নির্দিষ্ট দুটি ফোন নম্বর উল্লেখ থাকবে। যা শুধু বাবা-মা, স্ত্রী বা সন্তানদের হতে হবে। পাশাপাশি ফোনে কথা বলার সময় গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন উপস্থিত থাকবেন। নিরপত্তায় বিঘ্ন ঘটে এমন কোনো কাজ যেন তারা না করতে পারে।

কারাগারে একটি অসাধু চক্র ফোনে কথা বলিয়ে অবৈধভাবে টাকা উপার্জন করছে বিষয়টি স্বীকার করে কারা মহাপরিদর্শক আরো বলেন, উন্নত দেশগুলোতেও কারাগারে মোবাইল ও ড্রাগ প্রবেশ ঠেকানো যায় না। সে তুলনায় আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করতে হয়। তবে বন্দিদের মোবাইলে কথা বলার সুযোগ তৈরি হলে ওই চক্রটি ভেতরে মোবাইল ফোনে কথা বলিয়ে অবৈধ অর্থ উপার্জন করতে পারবে না। এতে নিরাপত্তারও কোনো বিঘ্ন ঘটবে না।