সাবধান! সামান্য অসতর্কতায় ভয়াবহ কোন দুর্ঘটনা থেকে বাঁচতে আজ, এক্ষুনি হয়ে যান সচেতন

প্রযুক্তি ডেস্ক, সময়ের কণ্ঠস্বর-

প্রযুক্তির ‘আশির্বাদ’ কখনো ভয়ংকর বিরুপ মুর্তিতে অভিশাপ হয়েও দেখা দেয় আমাদের কাছে ।এখন আমরা অনেকেই ঘুমানোর সময় মোবাইল ফোনটিকে সঙ্গী করেই ঘুমিয়ে পড়ি। দিনভর প্রযুক্তির সাথে কারনে অকারনে আস্টে-পিস্টে লেগে থাকার অভ্যাস অথবা প্রয়োজনের কারনেই হয়তো আমরা অনেকেই রাতে বিছানায় ঘুমানোর সময় মোবাইল ফোনটি কাছে রেখেই ঘুমাই।

দৃশ্যত তেমন কোন ক্ষতির কারন হয়তোবা অনেক্কের চোখে পড়েনি এমন অভ্যাসের কারনে কিন্তু সচরাচর  এমন অভ্যাসের পরিণামে আপনার কতবড় সর্বনাশ হতে পারে, আপনার কোনও ধারণাই নেই হয়তো ।

অনেকেই ঘুমানোর সময় মোবাইল ফোন বন্ধ করেন না৷ অ্যালার্ম দিয়ে ফোনকে বালিশের নিচে বা পাশে রাখার অভ্যাস রয়েছে অনেকের৷ অনেকেই আবার ঘুমানোর সময় মোবাইল ফোনটি সঙ্গী করে ঘুমান।

এতে করে বালিশের পাশে বা নিচে পড়ে থাকা ফোনটিতে কল এলে আচমকা ঘুম ভেঙে যায়। আর নিশ্চইই কাউকে ব্যখ্যা দিতে হবেনা যে এমন আকস্মিক ঘুম ভেঙ্গে গেলে কেমন লাগে আর কী কী ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন আপনি ।

এতো গেলো ‘সামান্য ঘুম ভাঙ্গার বিষয়! কিন্তু নিউজিল্যান্ডের এরিন নেলসনের সাথে ঘটে যাওয়া একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনার গল্প এ ক্ষেত্রে সবার জন্য সতর্কবার্তা হতে পারে।

গত বছরের শেষের  দিকে, এরিন তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটি মারাত্মক ঘটনার বিবরণ দিয়ে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, বিছানায় নিজের আইফোন ফাইভ ফোনটিকে অভ্যাসবশত  রেখে রাত্রে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। পরের দিন সকালে যখন ঘুম ভাঙে তার, তখন দেখতে পান, মোবাইলের কভারটি ফেটে গিয়েছে, এবং ফোনের ভিতরকার জিনিসপত্র বেরিয়ে এসে তার কোমরের নীচে লেগে রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, কোমরের যে অংশে মোবাইলের ভিতরের উপাদান লেগে গিয়েছিল, সেই অংশে রীতিমতো গুরুতর কেমিক্যাল বার্ন হয়ে গিয়েছে। চামড়া লাল হয়ে গিয়ে রীতিমতো জ্বালা যন্ত্রণায় কষ্ট পেতে হয়েছে এরিনকে।

এরিন দাবি করেছেন, তিনি তার আইফোনের জন্য যে কভারটি কিনেছিলেন অস্ট্রেলিয়ান ক্লোদিং স্টোর ফরএভার নিউ এর দোকান থেকে, সেটির জন্যই এই পরিণতি হয়েছে তার। তাঁর অনুমান, ২০ ডলার দিয়ে যে মোবাইল কভারটি তিনি কেনেন, তাতেই এমন কিছু রাসাযনিক দ্রব্য ছিল, যার সংস্পর্শে মোবাইলটি আসার পরে কোনও বিষাক্ত বিক্রিয়া ঘটে যায় মধ্যে।

এই পোস্টের পরিপ্রেক্ষিতে ‘ফরএভার নিউ’ সংস্থার তরফে এরিনকে মেইল পাঠিয়ে এই বিষয়ে আরও তথ্য চাওয়া হয়। এরই মধ্যে এমা হিউজেস ডসন নামের এক তরুণী  জানান, তিনিও এরিনের মতোই মোবাইল বিছানায় নিয়ে শুয়েছিলেন। পরের দিন সকালে আবিষ্কার করেন, তারও পায়ের একটি অংশ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় পুড়ে গিয়েছে। তিনিও নাকি ‘ফরএভার নিউ’ কোম্পানির তৈরি মোবাইল কভার ব্যবহার করছিলেন।

‘ফরএভার নিউ’ এর পরই তাদের তৈরি যাবতীয় মোবাইল কভার বাজার থেকে তুলে নেয়। কিন্তু মোবাইল বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, কভার যে কোম্পানিরই হোক না কেন, বিছানায় মোবাইল নিয়ে ঘুমনো সব সময়েই বিপজ্জনক। লন্ডনের ‘দা স্লিপ স্কুল’ এর বিশেষজ্ঞ ডাক্তার গাই মিডোজ জানিয়েছেন, রাত্রিবেলা বিছানায় স্মার্ট ফোন নিয়ে শোওয়ার অভ্যেস নিদ্রাহীনতার কারণ হিসেবে কাজ করে। এ ছাড়াও মোবাইল থেকে রাত্রে এমন কিছু গ্যাস নির্গত হয়, যা স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।

সুস্থ্য থাকতে এখুনি বদলে ফেলুন এমন বদভ্যাস !

বিছানায় ফোন সঙ্গী করে ঘুমানোর এই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাসটি থেকে মুক্তি পেতে এবং শান্তিমতো ঘুমাতে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাঁরা ফোন পাশে রেখে ঘুমান, আগে সেটা বন্ধ করতে হবে।

যেভাবে ক্ষতি হচ্ছে মোবাইল ফোনে

ফোন থেকে নীল রঙের যে আলো নির্গত হয়, তা মস্তিষ্ককে জাগিয়ে রাখে বলে ঘুম নষ্ট হয়। যদিও কম্পিউটার, ল্যাপটপ বা ট্যাব থেকেও এ ধরনের আলো নির্গত হয়, কিন্তু ঘুমানোর আগে আপনার ছোট স্মার্টফোনটির ব্যবহারে ক্ষতি বেশি হয়।

আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে। তা হচ্ছে, মোবাইল থেকে নির্গত হওয়া রেডিয়েশন বা তরঙ্গের বিকিরণের বিষয়টি। অবশ্য মোবাইল থেকে নির্গত রেডিয়েশনে ক্যানসার বা এ-জাতীয় কোনো সমস্যা সৃষ্টির বিষয়ে গবেষকেরা নির্দিষ্ট উপসংহারে পৌঁছাননি। তবে কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ফোনের এই রেডিয়েশনের কারণে ঘুম চক্র নষ্ট হয়। তাই ভালোমতো ঘুমাতে হলে ফোনটি দূরে রাখাই ভালো হবে।

ফেসবুক চালাতে চালাতে ঘুমানোর অভ্যাস ভয়ানক ক্ষতিকারক

অনেকেই ফেসবুক চালাতে চালাতে ফোন চালু রেখেই ঘুমিয়ে যান। আবার অনেকেই ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় মেইল ব্যবহার করেন বা গেম খেলেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের অভ্যাস ঘুমানোর জন্য মোটেও ভাল নয়। এতে মানসিক চাপ বাড়তে থাকে। আপনার ফোন ব্যবহার সীমিত করুন।
গুরুত্বপূর্ণ কল বা বার্তা শোনার অপেক্ষার নিয়ম বদলে ফেলুন

অনেকে মনে করেন রাতে গুরুত্বপূর্ণ কল বা মেসেজ আসতে পারে তাই ফোনটি হাতের কাছে রেখে দেন। জরুরি দরকারে যাতে হাতের কাছে ফোনটি থাকে সে জন্য সারারাত ফোনটি চালু রাখেন। সমাধান হিসেবে একেবারে মাথার কাছে না রেখে ফোনটি বেশ কিছুটা দূরে রাখতে পারেন।

গান শোনার অভ্যাস বদলে ফেলুন

অনেকেই মোবাইল ফোনে গান চালিয়ে তা শুনতে শুনতে ঘুমান। দেখা যায়, মোবাইল ফোনের সঙ্গে হেডফোন লাগিয়ে তা কানে দিয়ে ঘুমানোর আগে গান চালাচ্ছেন অনেকেই। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো হয় ব্লুটুথ হেডফোনের ব্যবহার। আপনার ফোনটিকে দূরে রেখে আপনি ব্লুটুথ হেডফোন দিয়ে গান শুনতে পারেন।

মোট কথা ফোন ব্যবহারের সময়সীমা ঠিক করতে হবে আপনাকে দ্রুতই

আপনি কতক্ষণ মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন তার একটি দৈনন্দিন রুটিন তৈরি করুন। আপনি বাড়িতে ঢুকেই কতক্ষণ ফোন চালাবেন, তা ঠিক করে নিন এবং কখন ঘুমাতে যাবেন—সময় নির্দিষ্ট করে রাখুন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট ওই সময়ের মধ্যেই কেবল ফোন ব্যবহার করবেন আর রাতের বাকি সময়টাতে সকাল না হওয়া পর্যন্ত আর ফোন স্পর্শ করবেন না। এটা যদি অভ্যাস হিসেবে গড়ে ওঠে, তখন আপনার ফোনটিকে সব সময় বিছানার পাশে হাতড়ে বেড়াতে হবে না কিংবা ঘুমের বিঘ্ন হবে না। মোবাইলে ক্যান্ডি ক্রাশ খেলে ঘুমাতে যাওয়ার চেয়ে কোনো একটি বই হাতে তুলে নিতে পারেন, যাতে মস্তিষ্ক কিছুতেই বিক্ষিপ্ত না হয়। এবার ঘুমাবেন শান্তিতেই।