চাঞ্চল্যকর এমপি লিটন হত্যা মামলায় আসামিদের মুখোমুখি করে কাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি – বহুল আলোচিত গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগের এমপি মনজুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মুখোমুখী করা হচ্ছে জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি ডা. আবদুল কাদের খানকে।

গ্রেপ্তার তিন যুবকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে পাওয়া তথ্য কাদের খান মুখোমুখি করে যাচাই করছে পুলিশ।

এমনই তথ্য জানিয়েছেন সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিয়ার রহমান।

তিনি জানান, কাদের খান একেক সময় একেক তথ্য দিচ্ছেন। তিনি কখনো নিজেকে নির্দোষ দাবি করছেন, আবারো সন্দেহমূলক কথা বলছেন। ফলে অন্য আসামিদের তার মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এদিকে গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্যে ওই মামলার আরো এক আসামি আনোয়ারুল ইসলাম ওরফে রানাকে বুধবার ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে গাইবান্ধায় নেয়া হয়। রানার বাড়ি সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ভেলারায় কাজিরভিটা গ্রামে। বাবার নাম তমশের আলী। এনিয়ে কাদের খানসহ ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, লিটন হত্যার মূল ‘পরিকল্পনাকারী’ কাদের খান। তিনি এক বছর ধরে এই হত্যার পরিকল্পনা করেন। তার ইচ্ছা ছিল, লিটনকে সরিয়ে পথ পরিষ্কার করে পরবর্তী সময়ে সংসদ সদস্য হবেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি আসামিদের ভাড়া করে ৭ লাখ টাকায়।

kader-mpএদিকে লিটন হত্যা মামলায় বুধবার কাদের খানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। এখন তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

খুনের মোটিভ শতভাগ নিশ্চিত হতে কাদের খানকে রিমান্ডে নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছিলেন জেলা পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম।

তিনি জানিয়েছেন, কাদের খানের ব্যক্তিগত লাইসেন্স করা অস্ত্র ব্যবহার করে এমপি লিটনকে খুন করা হয়। কাদের খানের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় ভাড়া করা সন্ত্রাসী দিয়ে এমপি লিটনকে খুন করা হয়।

এর আগে টানা ৬ দিন কার্যত গৃহবন্দি করে রাখার পর মঙ্গলবার বগুড়ার শহরের বাসা থেকে কাদের খানকে গ্রেপ্তার করে গাইবান্ধা জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর বুধবার তাকে আদালতে তুলে রিমান্ড চাওয়া হয়।

লিটন হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় গ্রেপ্তার ৩ যুবক। তারা হলেন- কাদের খানের ভাতিজা শাহীন মিয়া, গাড়িচালক আবদুল হান্নান ও ব্যক্তিগত সহকারী রাশেদুল ইসলাম মেহেদী।

মঙ্গলবার ভোরে গাইবান্ধা শহরের ব্রিজ রোড এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে রাতে গাইবান্ধার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে তোলা হয়। আদালতে বিচারক মইনুল হাসান ইউসুফের কাছে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে তারা জবানন্দি দেয়।

পুলিশের দাবি, লিটনকে হত্যার জন্য কাদের খান ৭ লাখ টাকায় তিন খুনি ভাড়া করেন। এই খুনিরা আবার তার সহযোগী। এদের মধ্যে মেহেদী ও শাহীন গ্রেপ্তার হয়েছে। এরা দু’জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। আরেক খুনি রানা পলাতক রয়েছে। স্বীকারোক্তিতে তারা খুনের আদ্যপান্ত বর্ণনা করেছে। এমনকি সুন্দরগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শামীমকে হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কেও বলেছে ওই দুই জন।

পুলিশের দাবি, কাদের খানের পরবর্তী টার্গেট ছিল সুন্দরগঞ্জ উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী।

কাদের খান ২০০৮ সালে গাইবান্ধা-১ আসনে জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেছেন, ‘ডা. কর্নেল (অব.) কাদের খান ৩ বছর আগেই জাতীয় পার্টি ছেড়েছেন। তার সঙ্গে এখন পার্টির কোনো সম্পর্ক নেই।’

উল্লেখ্য, গত ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় নিজের বাড়িতে গুলি করে হত্যা করা হয় গাইবান্ধা-১ আসনের সরকারি দলের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে। ঘরের ভেতর ঢুকে খুব কাছ থেকে এমপিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে সন্ত্রসীরা। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ মামলায় এ পর্যন্ত ২৮ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।