গরীব মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করবে ‘জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষা ফাউন্ডেশন’

পলাশ মল্লিক, স্টাফ রিপোর্টার: সুশিক্ষিত জনগন যে কোন সমাজ কিংবা দেশের জন্য সম্পদ। শিক্ষিত জাতিই কেবল দেশকে দ্রুত সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে পারে। আর এ ভাবনা থেকেই গরীব, মেধাবী ছাত্রদের পাশে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে গাজীপুর মহানগরে কাজ শুরু করেছে ‘জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষা ফাউন্ডেশন’।

sikha

গাজীপুর মহানগরের দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বাধাহীন করতে এই মহৎ উদ্যোগটি নিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা গাজীপুর মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড. জাহাঙ্গীর আলম। মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক এবং স্নাতক শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করাই হবে এ ফাউন্ডেশনের মূল লক্ষ্য।

ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা জাহাঙ্গীর আলম জানান, গাজীপুর মহানগরের ৫৭ টি ওয়ার্ডের যে সব ছেলে-মেয়েরা মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে বিবিএ, এমবিএ, অর্নাস, মাস্টার্স, এলএলবি, এলএলএম, ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও আরবী লাইনে পড়াশোনা করছেন এবং ইতোমধ্যে যারা উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করেছে বা করবে এ সকল ছেলে-মেয়েরা এই ফাউন্ডেশনে অগ্রাধিকার পাবে। ভবিষ্যতে কর্মসংস্থানের জন্যও এই ফাউন্ডেশন থেকে সহযোগীতা করা হবে। প্রাথমিক অবস্থায় মেধা বিবেচনায় ও অর্থনৈতিক ভাবে দূর্বল এমন ২০০ শিক্ষার্থীরকে চিহ্নিত করে তাদের সকল লেখাপড়ার খরচ ও শিক্ষা উপকরণ এই ফাউন্ডেশন থেকে দেয়া হবে বলে তিনি জানান।

আগামী ১০ মার্চ মহানগরের ঐতিহাসিক রাজবাড়ি মাঠে ‘জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষা ফাউন্ডেশন’ আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠাতা। তিনি জানান, সে দিন সারাদিন ব্যাপী আয়োজনে শিক্ষার্থীদের জন্য থাকবে বিভিন্ন উপহার সামগ্রী, শিক্ষা পরামর্শ শালা, দুপুরের প্রীতিভোজ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া আবেদন ফরমের মধ্যে থেকে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত জনদের ১০ টি আধুনিক মোটর সাইকেল, ৫০ টি ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ, মোবাইল সেট ও বইসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ প্রদান করা হবে বলেও জানান প্রতিষ্ঠানটির কর্নধার। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নির্ধারিত ২০০ শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যত সকল সুবিধা প্রদানের জন্য ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সনদও প্রদান করা হবে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে মহানগরে শিক্ষা নিয়ে যারা গবেষণা করেন এবং মানুষকে উজ্জিবিত করেন এমন ব্যক্তিরা ফাউন্ডেশনের শিক্ষার্থীরা কি করবে, তাদের কর্ম পরিধি কেমন হবে তা নিয়ে আলোচনা করবেন। প্রথম অবস্থায় ২০০ জন শিক্ষার্থী এই সুবিধা ভোগ করতে পারলেও পর্যায়ক্রমে আরো অনেক শিক্ষার্থীকে এর আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম।

এছাড়াও এলাকা ভিত্তিক জরিপ করে কোন পরিবারে অর্থনৈতিক সমস্যা সেসব চিহ্নিত করে এর সমাধান করা হবে। এর জন্য মাঠে মনিটরিং টিম রাখার কথাও জানান তিনি। আগামী ১০ মার্চ সকাল পর্যন্ত ‘জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষা ফাউন্ডেশন’ এর ফরম বিতরণ চলবে।