মাছ ও সামুদ্রিক খাবারপ্রেমীদের জন্য সতর্কবার্তা!

news_picture_43251_sea-food-inner


লাইফস্টাইল ডেস্কঃ

মাছ ও সামুদ্রিক খাবারে অবস্থিত পারদ থেকে দেখা দিতে পারে ভয়াবহ স্নায়বিক ব্যাধি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউহ্যাম্পশায়ার অঙ্গরাজ্যের হ্যানোভারে অবস্থিত ডার্টমাউথ কলেজের বিশেষজ্ঞ ড. এলিজা স্টোমেল ও তার সহকর্মীদের পরিচালিত গবেষণা থেকে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর হেলথ নিউজ লাইন।

ড. এলিজা স্টোমেল ও তার সহকর্মীদের পরিচালিত গবেষণাটির ফল এখনো চূড়ান্ত আকারে প্রকাশ না হলেও এতে উঠে আসা তথ্যগুলোর সারসংক্ষেপ প্রাথমিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, মাছসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক খাবারের সঙ্গে দেহে প্রবেশ করা পারদ থেকে অ্যামিওট্রোফিক লেটারাল স্ক্লেরোসিস (এএলএস) নামে স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষয়জনিত রোগের আশঙ্কা বৃদ্ধি পায়।

প্রসঙ্গত, এএলএস নামের রোগটিকে লাউ গেহরিগস ডিজিজ বা মটর নিউরন ডিজিজ (এমএনডি) নামেও অভিহিত করে থাকেন চিকিত্সকরা। স্নায়ুতন্ত্রের ব্যাধিগুলোর মধ্যে এর প্রকোপই দেখা যায় সবচেয়ে বেশি। এ রোগের ফলে মস্তিষ্ক ও স্পাইনাল কর্ডের স্নায়ুকোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে মানবদেহের পেশি দুর্বল হয়ে পড়ার পাশাপাশি শারীরিক কর্মক্ষমতাও হ্রাস পায়।

প্রচলিত ধারণা হলো, সব ধরনের মাছসহ সামুদ্রিক খাবারের স্বাস্থ্যগুণ ও উপকারিতা অনেক বেশি। পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ সামুদ্রিক খাবার প্রোটিন, ভিটামিন ও মিনারেলের উত্স হিসেবেও বেশ সমাদৃত। সাধারণ কিছু রোগ থেকে নিরাময়ের জন্য ব্যবহার হয় মাছের দেহস্থিত ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। আবার মাছের দেহের টিস্যুতে ক্রমাগত যোগ হতে থাকা পারদের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে অনেক।

সাম্প্রতিক গবেষণাটির কারণে বিতর্কটি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে আবারো। গবেষণায় মাছ ও সামুদ্রিক খাবারে সঞ্চিত পারদের প্রতিক্রিয়ার ওপরই বেশি মনোযোগ দিয়েছেন ড. এলিজা স্টোমেল ও তার সহকর্মীরা। এ বিষয়ে ড. এলিজা স্টোমেল বলেন, ‘অধিকাংশ মানুষই মাছকে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার হিসেবে বিবেচনা করেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো— মাছের শরীরে যে পারদ জমা হয়, তা কীভাবে প্রভাব ফেলে?’

গবেষকরা দেখতে পান, সুপেয় পানির মাছসহ হাঙ্গর ও সোর্ডফিশের মতো যেসব সামুদ্রিক খাবারে ক্রমাগত পারদ জমা হয়, খাদ্যের সঙ্গে সেগুলো গ্রহণের ফলে মানবদেহে এএলএস রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। রোগটিতে আক্রান্ত হলে শরীরের পেশির সঙ্গে মস্তিষ্কের সংযোগ দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে আক্রান্ত রোগী কর্মক্ষমতা হারাতে থাকেন।

চলতি বছরের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে অনুষ্ঠেয় আমেরিকান একাডেমি অব নিউরোলজির ৬৯তম বার্ষিক সভায় গবেষণাটি চূড়ান্ত আকারে প্রকাশ করা হবে।