বাতের যন্ত্রণা থেকে মুক্তির উপায়

news_picture_42970_walk-inner


লাইফস্টাইল ডেস্কঃ

বাতের ব্যথায় যিনি ভুগেছেন, তিনিই জানেন এর যন্ত্রণা! আর বয়স কিছুটা বাড়ার পর বাতের সমস্যায় ভোগার উদাহরণ আছে আমাদের ঘরে ঘরে। তাই বাতের ব্যথা যতটা সম্ভব নিয়ন্ত্রণে রাখা ও উপশম পেতে কিছু খাবার আর ব্যায়াম কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সঙ্গে চটজলদি বাতের ব্যথার হাত থেকে মুক্তির কিছু উপায়ও থাকছে-

আদা চা : বাতের ব্যথা নিরাময়ে সাধারণত যেসব ওষুধ সেবন করতে বলা হয়, আদা সেসব ওষুধের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে। আদা খাওয়ার সুবিধা হচ্ছে এতে ওষুধ সেবনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তাই বাত থেকে মুক্তি পেতে খাবারে ইচ্ছামতো শুকনা আদার গুঁড়ো, কাঁচা আদা অথবা হালকা সিদ্ধ আদা ব্যবহার করুন। আর বেশি করে পান করুন আদা চা। এই চা তৈরিতে কয়েক কাপ পানিতে আদার কিছু টুকরা ফেলে দিয়ে মিনিট ১৫ ফুটিয়ে নিলেই চলবে। যদি সে ঝামেলায় যেতে না চান, তবে বাজার থেকেই কিনতে পারেন আদা চায়ের টি ব্যাগ।

ভাজাপোড়া এড়িয়ে চলুন : ফাস্ট ফুড, জাংক ফুড, ভাজাপোড়া খাবার, প্রক্রিয়াজাত খাবার, এসব খেলে শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি হয়। সুইডিশ এক পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যেসব বাতের রোগী খাদ্যাভ্যাস পাল্টে টাটকা ফলমূল, সবজি, মাছ ইত্যাদি খাবারের দিকে ঝুঁকছেন, তাদের শরীরের প্রদাহের পাশাপাশি বাতের ব্যথা দুইই কমেছে।

বাসন ধোবেন নিজ হাতে : শুনতে কিছুটা অদ্ভুত লাগতে পারে, তবে যদি হাতে বাতের ব্যথা হয়, তাহলে রান্নাঘরের হালকাপাতলা কাজ, যেমন বাসনকোসন ধোয়া ইত্যাদি ব্যথা কমাতে যথেষ্ট সহায়ক। আর বাসন ধোয়ার কাজ করলে সেটা যদি কুসুম কুসুম গরম পানিতে ধোয়ার অভ্যাস করা হয়, তাহলে আরো ভালো ফল পাওয়া যাবে। কারণ গরম পানিতে হাত ডোবালে আপনার হাতের মাংসপেশি সহজ হবে এবং জোড়ার কঠিনভাব কমবে। তাছাড়া বাসন ধোয়ার ফলে হাতের নাড়াচাড়ায় ব্যায়ামের কাজ হবে, যা হাতকে জড়তামুক্ত রাখবে।

ঠাণ্ডা-গরম জলচিকিৎসা : বাতের ব্যথা চট করে কমাতে এ পদ্ধতি বেশ কার্যকর। এর জন্য আপনার দরকার হবে দুটি পাত্র, যার একটিতে রাখবেন ঠাণ্ডা পানি ও বরফ, আর অন্যটি ভরবেন কুসুম কুসুম গরম পানি দিয়ে। প্রথমে যেখানে বাতের ব্যথা হচ্ছে, সে জায়গাটি ঠাণ্ডা পানিতে ১ মিনিট চুবিয়ে রাখবেন। এর পর সেটা গরম পানিতে ডোবাবেন ৩০ সেকেন্ডের জন্য। এর পর মিনিট ১৫ ধরে ৩০ সেকেন্ড করে করে দুটি পাত্রেই ব্যথার জায়গা ডোবাতে থাকুন। জলচিকিত্সা শেষ করবেন ব্যথার জায়গাটা ঠাণ্ডা পানিতে ১ মিনিট রেখে।

হাঁটুন খালি পায়ে : জুতা আবিষ্কারের আগের অবস্থায় ফিরে গেলে হাঁটুর ব্যথা উপশম হয়ে যাবে! গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, খালি পায়ে হাঁটলে হাঁটুর ব্যথা জুতা পরে হাঁটার তুলনায় ১২ শতাংশ কমে যায়। তবে সব সময় তো আর খালি পায়ে হাঁটা সম্ভব না, তাই জুতা পরতে হলেও এমন জুতা পরুন, যাতে আপনার গোড়ালি উঁচু হয়ে না থাকে, হিল জুতায় হাঁটুতে চাপ বেশি পড়ে। বরং এমন জুতা বেছে নিন, যা পরে আপনি পায়ের প্রাকৃতিক গড়ন অনুযায়ী হাঁটতে পারবেন।