বিধ্বস্ত সেতু মেরামতে কতৃপক্ষের ‘উদাসীনতা’! চরম দুর্ভোগে শিক্ষার্থীসহ অর্ধলক্ষাধিক মানুষ

জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি ॥

পটুয়াখালীর দশমিনার বেতাগী-সানকীপুর গ্রামের সুতাবাড়িয়া খালের ওপর নির্মিত সেতুটি ভঙ্গ দশায় পরে থাকায় শিক্ষার্থীসহ সাধারন মানুষের দুর্ভোগ এখন চরমে। দীর্ঘ দিন ধরে সেতুটি এভাবে পরে থাকলেও সংস্কারে কর্তৃপক্ষ রয়েছেন উদাসীন। ফলে জীবনের ঝুকি নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সাধারন মানুষকে নৌকায় করে প্রতিদিন খাল পারাপার করছে।

স্থানীয়রা জানায়, ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরে ঠাকুরেরহাট সংলগ্ন পরিত্যাক্ত লোহার সেতুটি বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের জমির মৃধা বাজারে স্থাপন করা হয়েছিল। লোহার বিমের উপর আরসিসি কংক্রিট ঢালাই এই সেতু নির্মানে ব্যয় হয় ১০ লাখ টাকা। উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের ১১টি গ্রামের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক মানুষকে সরাসরি উপজেলা সদরে যোগাযোগে এই সেতু পার হতে হয়।

এর আগে বালু ভর্তি কার্গোর ধাক্কায় লোহার সেতুটি বিধ্বস্ত হয়। সে সময় সেতুটি ভেঙে একটি শিশু মারা গিয়েছিল। এরপর থেকে সেতুটি মেরামতে আর কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মনিরা আক্তার সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, এখন এলাকার শিক্ষার্থীদের ঝুঁকি নিয়ে নদী পাড় হয়ে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে।

খারিজা বেতাগি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিরন আহমেদ সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, নদীর পশ্চিম পাড়ে খারিজা বেতাগী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও খারিজা বেতাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অন্তত ১৫০ শিক্ষার্থী নদীর পূর্ব পারের বাসিন্দা।

সেতুটি বিধ্বস্ত হয়ে পরায় এখন শিশু শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার কমে গেছে। শিক্ষার্থীদের ছোট্ট খেয়া নৌকায় পারাপার হয়ে আসে। এতে করে সবসময় আমাদের একটা আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়।

patuakhali-2
এলজিইডির পটুয়াখালীর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সালেহ হানিফ সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, এখন আর সেখানে লোহার সেতু নির্মাণ করা হবেনা। এছাড়াও সেতু স্থানে নদী ভাঙ্গন বেশি, তাই স্থান পরিবর্তন করে আরসিসি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই সেতু নির্মাণ কাজ শুরু হবে।
##

Save