আতকে উঠলো পুরো উপকুলবাসী! মুহুর্তেই ছড়িয়ে যাওয়া সংবাদে ‘ভীনগ্রহের প্রানী’ নিয়ে লাখো কৌতুহল

চিত্র- বিচিত্র ফিচার ডেস্ক-

আকস্মিক এক সকালে সৈকতের ধারে স্থানীয় বাসিন্দাদের চোখে পড়ল রহস্যময় এক প্রাণী। সাদা লোমে ঢাকা বিশালাকার ওই প্রাণীটি দেখেই আতকে উঠে সবাই।  রাতারাতি কোথা থেকে এলো এতবড় প্রাণীটি? কী নাম ? ইত্যাদি নানা প্রশ্নের জবাব খুজতে কৌতুহলী মানুষের ভীড় বাড়তেই থাকে ক্রমশ।

দানবাকৃতির ‘অদ্ভুতদর্শন’ এই প্রানী নিয়ে নানা ‘কল্প-কাহিনী’ বাতাসের গতিতে ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকাজুড়ে। ঘটনার স্থান ফিলিপাইনের দিনাগাত দ্বীপপুঞ্জের কাগদাইনাও সমুদ্রসৈকত। সেখানে একনজর দেখতে রাতদিন সমানে বাড়তে থাকে উতসাহীদের ভীড় ।

খবর গড়ায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের পাতায়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, রোববার ওই অঞ্চলে হয় একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প হয়। এতে সমুদ্র উপকূলে ভেসে আসে বিভিন্ন জিনিস। স্থানীয়দের ধারণা, ভূমিকম্পের জের ধরে অন্যান্য জিনিসের সঙ্গে ভেসে এসেছে কিম্ভূতকিমাকার ওই প্রাণী।

ইন্টারনেটে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে শুরু হয় হাজারো জল্পনা কল্পনা । কেও বলছেন,  ‘হলিউডি মুভির চরিত্র’ আবার কেও বলছেন, ‘ভীন গ্রহের প্রানী’ ! এমন হাজারো ব্যক্তির নানা মতে বিভিন্ন কাল্পনিক বস্তুর পরিচয় পেতে থাকে প্রানীটি ।

অনেকেই আবার ধারনা করে লিখে বসেন, এটি  আধা-তিমি আধা-শ্বেত ভালুক হতে পারে। উধৃতি দিয়েও একজন ফেসবুক সেলিব্রেটি জানিয়ে দিলেন, ‘ ১৯২৪ সালের ২৫ অক্টোবর দক্ষিণ আফ্রিকার উপকূলে নাকি এমনই এক প্রাণী ভেসে এসেছিল। ওই প্রাণীর নাম দেওয়া হয়েছিল ‘ট্রানকো’।

তবে প্রাণীটিকে হলিউডি চরিত্র বা দৈত্য-দানব ভেবে যখন কৌতুহলী আলোচনায় সরব লাখো মানুষ ঠিক তখন অনেকটা দাউ আগুনে যেন  পানি ঢেলে দিলেন বিজ্ঞানীরা । প্রাথমিক পরীক্ষা নিরীক্ষা আর গবেষণা করে তাঁরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন,  প্রাণীটি দেখে ভয় পাওয়ার কিছুই নেই। সেটি ২০ ফুট লম্বা একটি তিমির মৃতদেহের অংশ। সেটির ওজন প্রায় দুই হাজার কেজি।

mistry-fish-philipine

কিন্তু গবেষক দলের কথা উরিয়ে দিয়ে কিছু উতসুক মানুষ বলেই বসে, এমনটাই যদি হবে তবে, অদ্ভুতাকার এই প্রানীটি সাদা আর লোমশ কেন? তারও জবাব দিয়েছেন ওই বিজ্ঞানীরা। তাঁরা বলেছেন, তিমিটি দুই সপ্তাহ আগে মারা গেছে। তখন থেকে পচতে শুরু করে তিমিটির মৃতদেহ। পচে গিয়েই এমন বীভৎস আকৃতি ধারণ করেছে মৃতদেহটি। পরে ভাসতে ভাসতে এই উপকুলে এসে আটকে পড়ে মৃতদেহটি।

আপাতত বিজ্ঞানসম্মতভাবে চলমান ঐ ‘রহস্যের সমাধান’ হলেও যেন খানিকটা বেজার হয়তো  ফেসবুক, টুইটারে এই প্রানীকে নিয়ে হাজারো উদ্ভট গল্প ফেদে বসা মানুষেরা।