গভীররাতে আকস্মিক ঘুম ভেঙে চার ধর্ষকের বিকৃত নারকীয়তার মুখে স্কুল পড়ুয়া কিশোরী!

দুঃস্বপ্ন দেখে মাঝরাতে হুট করে ঘুম ভেঙ্গে যাবার পর কয়েক মুহুর্তের অস্থিরতা কাটিয়ে খানিক হাফ ছেড়ে কতবারই তো মনে হয়েছিলো, যাক স্বপ্নই ছিলো বাবা, সত্যি কিছু নয়! হাফ ছেড়ে আধো ঘুমের চোখে ফের আড়মোড়া দিয়ে ঘুম…

ইস! সেদিনের ঘটনাটাও যদি কিশোরীর অবচেতন মনে দেখা আগের মতই দুঃস্বপ্ন হত! এতবড় একটা ঘটনার পরেও চমকে চমকে উঠে ভয়ার্ত চোখে কিশোরী বুঝি ‘দুঃস্বপ্ন ভেবে ‘হাফ ছাড়তে চাইছিলো অবচেতনেই। কিন্তু নাহ! শরীর জুড়ে চার নরপশুর বিকৃত লালসার ক্ষত চিহ্ন,যন্ত্রনা, অপমান আর স্বপ্নভঙ্গের দারুন কষ্ট প্রতি সেকেন্ডে জানান দিচ্ছিলো ‘দুঃস্বপ্ন মোটেও নয়!’

শরীয়তপুর প্রতিনিধি, নয়ন দাস -সময়ের কণ্ঠস্বর 

গভীররাত । ততক্ষনে ঘুমে কাতর গ্রামের প্রায় সবাই। আগে থেকে ফন্দি এটে এমন নির্জন মুহুর্তেরই অপেক্ষা করছিলো এলাকার কয়েক বখাটে। কৌশলে টার্গেট করা ঘরের ছিটকিনি খুলে ঘরে ঢুকে পড়ে তারা ।  ঐ ঘরে চোখে হাজারো স্বপ্ন নিয়ে গভীর ঘুমে ছিলো এক কিশোরী। খুট খাট শব্দে আকস্মিক ঘুম ভেঙে যায় কিশোরীর। অন্ধকার ঘরে আধখোলা চোখে তার চারপাশে কজন মানুষের উপস্থিতি টের পায় সে। তবে ঘটনার আকস্মিকতায় কিছু বুঝে চিৎকার করার আগেই অষ্টম শ্রেণী পড়ুয়া ঘুমন্ত  কিশোরীর মুখ চেপে ধরে বখাটের দল ।

সময়ের কণ্ঠস্বরের সাথে আলাপকালে ঘটনার শিকার অসহায় কিশোরী (তার ভাষায়) জানিয়েছে, ‘ঘড়ির কাটায় তখন রাত প্রায় দেড়টা। চার ধর্ষকের বিকৃত নারকীয়তার মুখে স্কুল পড়ুয়া কিশোরী! পাশের ঘরেই অন্যরা গভীর ঘুমে তখন। কিশোরীর মুখে শক্ত করে কাপড় বেঁধে ‘নিরাপদ দূরত্বে’ বাড়ির বাইরে নির্জন একটি স্থানে  নিয়ে যায় ধর্ষকের দল। পরে দেশীয় অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে পালাক্রমে  কিশোরীকে ধর্ষণ করে  তারা ।

কিশোরীর অনুমানে রাত তখন ভোর। ঘড়ির কাটায় সাড়ে চার কি পাঁচ, দূরে কোন মসজিদের মাইক থেকে ভেসে আসা ‘আযানের শব্দে’ নাকি কিছুক্ষন পাশবিকতা থেকে রক্ষা পায় কিশোরী। এই সুযোগে  একফাকে বাচার জন্য প্রানপনে আর্তচিতকার করে সে । ভোরবেলা এমন চিতকারে ছুটে আসে প্রতিবেশী কয়েকজন। দিকবিদিক হারিয়ে এসময় কিশোরীকে ফেলে পালিয়ে যায় লম্পট বখাটের দল।

সকালেই কিশোরীর পরিবার নাম ধরে অভিযোগ দেয় থানায়। এ ঘটনায় শহীদুল ইসলাম বেপারী নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে চিকন্দী ফাঁড়ি পুলিশ।

পালং মডেল থানা পুলিশ, ধর্ষিতার মা ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দী ইউনিয়নের বগাদী গ্রামের  চন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ওই ছাত্রী প্রতিদিনের ন্যায় পড়াশুনা শেষে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় তার চাচা নুরুজ্জামানের ঘরে ঘুমাতে যান।

পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী একই এলাকার মুনসুর বেপারীর ছেলে শহীদুল ইসলাম বেপারী ও তার সহযোগী ইয়াসিন খা, পারভেজ মুন্সি ও ইকবাল হোসেন রাত ১টার দিকে নুরুজ্জামানের ঘরের ছিটকানী খুলে ঘরের ভেতর ঢুকে। এরপর তারা ওই স্কুলছাত্রীর মুখ বেঁধে বাড়ির উঠানের মাচায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জোর পূর্বক গণধর্ষণ করে বখাটেরা।

কিশোরীর ছাত্রীর চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তাকে বাড়ির পাশের কলই ক্ষেতে ফেলে রেখে ধর্ষণকারীরা পালিয়ে যায়।

খবর পেয়ে চিকন্দী ফাঁড়ির পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। শনিবার সকালে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে শহীদুল ইসলাম বেপারী নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ধর্ষিতা কিশোরীর বাবা সময়ের কণ্ঠস্বরকে  বলেন, আমার মেয়ে শুক্রবার রাতে পড়াশুনা শেষে আমার ভাইয়ের ঘরে ঘুমাতে যায়। গভীর রাতে আমার মেয়েকে মুনসুর বেপারী ছেলে শহীদুল ইসলাম বেপারী ও তার সহযোগী ইয়াসিন খা, পাভেজ মুন্সি, ইকবাল হোসেন পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে ঘর ঢুকে তাকে তুলে নিয়ে যায় এবং গণধর্ষণ করে। আমরা তার ডাক চিৎকার শুনে ছুটে গেলে ধর্ষকরা তাকে বাড়ীর পাশে কালাই ক্ষেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। তারপর আমরা তাকে উদ্ধার করি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ খলিলুর রহমান সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ৪ জন বখাটে এক স্কুল ছাত্রীকে ঘর থেকে জোর করে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করেছে। আমরা ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছি। এ ঘটনায় এক ধর্ষককে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।