শরীয়তপুরে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রীকে গণধর্ষণ, আটক-১

নয়ন দাস, শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুরে অষ্টম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ৪ বখাটের বিরুদ্ধে। আজ দিবাগত রাত ১টায় শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দী ইউনিয়নের বগাদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

dhorson

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শহীদুল ইসলাম বেপারী (২১) নামে এক জনকে গ্রেফতার করেছে চিকন্দী ফারির পুলিশ। বাকী ধর্ষকরা পলাতক রয়েছে। ধর্ষিতাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ধর্ষিতা সদর উপজেলার চন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। এ বিষয়ে পালং মডেল থানায় একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।

পালং মডেল থানা, ধর্ষিতার পরিবার এবং স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিকন্দী ইউনিয়নের বগাদী গ্রামে হারুণ-অর-রশীদের মেয়ে চন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী প্রতিদিনের ন্যায় লেখাপড়া ও খাওয়া দাওয়া শেষে রাত সাড়ে ৯ টায় তার চাচা নুরুজ্জামানের ঘরে ঘুমাতে যায়।

ঐ রাতে একই এলাকার মনসুর বেপারীর ছেলে শহীদুল ইসলাম বেপারী ও তার সহযোগী ইয়াসিন খা, পাভেজ মুন্সি এবং ইকবাল হোসেন পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে রাত আনুমানিক ১ টায় হারুণ-অর-রশীদের ভাই নুরুজ্জামানের ঘরের ছিটকানী খুলে ভিতর ঢোকে। সেখান থেকে তারা স্কুল ছাত্রীকে জোর করে মুখ বেঁধে বাড়ীর উঠানের মাঁচায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে উপর্যপরী গণধর্ষণ করে।

স্কুল ছাত্রীর আত্ম চিৎকার শুনে আশে পাশের লোকজন এগিয়ে আসলে ধর্ষকরা তাকে বাড়ীর পাশে কালাই ক্ষেতে ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। তৎক্ষণিক ভাবে স্থানীয়রা চিকন্দী ফারীর পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। আজ শনিবার সকালে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে শহীদুল ইসলাম বেপারী নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে। এ বিষয়ে পালং মডেল থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

ধর্ষিতার বাবা বলেন, আমার মেয়ে শুক্রবার রাতে পড়াশুনা শেষে আমার ভাইয়ের ঘরে ঘুমাতে যায়। গভীর রাতে আমার মেয়েকে মুনসুর বেপারী ছেলে শহীদুল ইসলাম বেপারী ও তার সহযোগী ইয়াসিন খা, পাভেজ মুন্সি, ইকবাল হোসেন পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে ঘর ঢুকে তাকে তুলে নিয়ে যায় এবং গণধর্ষণ করে। আমরা তার ডাক চিৎকার শুনে ছুটে গেলে ধর্ষকরা তাকে বাড়ীর পাশে কালাই ক্ষেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। তারপর আমরা তাকে উদ্ধার করি। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ খলিলুর রহমান সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, ৪ জন বখাটে এক স্কুল ছাত্রীকে ঘর থেকে জোর করে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করেছে। আমরা ধর্ষিতাকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছি। এ ঘটনায় এক ধর্ষককে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।