SOMOYERKONTHOSOR

একেই বলে ‘নেতা কপাল’ ! বিএনপিতে পেলেন ‘তিরস্কার’! রাত পেরুতেই আঃ লীগ দিলো ‘পুরস্কার’!

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি, সময়ের কণ্ঠস্বর-

ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ফেসবুকে বেশ রসিয়েই লিখেছেন এক ভদ্রলোক,

‘চলে গেছো তাতে কি? নতুন একটা পেয়েছি! তোমার চেয়ে আরও সুন্দরী!’

মনে আছে নিশ্চয়ই , বেশ কিছুদিন আগে এমন শিরোনামে একটি গান বেশ ‘প্রিয়তা’ কেড়েছিলো প্রায় সবখানেই।  ভাবছিলাম, ‘আহা! কে জানে এই যোগদান অনুষ্ঠানের সময় নিশ্চয়ই হয়তো এই নেতার মনের ব্যাকগ্রাউন্ডে ঢাউস শব্দে কেও গেয়েছিলো এমনি গান, চলে গেছো তাতে কী …… পেয়েছি……… আরও সুন্দরী’ !

মাত্র ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে, প্রথমে একদলে ‘তিরস্কার’  পাবার পর অন্যদলে পুরস্কার পাওয়া নেতাকে নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। সাতক্ষীরার তালা উপজেলা সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক এম.এ গফফারের ‘ডিগবাজির’ গল্প এখন পুরো এলাকার রাজনৈতিক অঙ্গনের চায়ের কাপে তুলেছে ঝড়।

কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে এই নেতাকে বহিষ্কার করা হয় বলে সময়ের কণ্ঠস্বরকে নিশ্চিত করেছেন তালা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, তালা উপজেলা বিএনপি সভাপতি মৃনাল কান্তি রায় ও সাধারন সম্পাদক উপাধ্যক্ষ শেখ শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই নেতাকে বহিস্কার করা হয়।  শুক্রবার সন্ধ্যায় তালা মেলা বাজারের অস্থায়ী কার্যলয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃনাল কান্তি রায়’র সভাপতিত্ব জরুরী বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়। সভায় উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।এসময় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক এম.এ গফ্ফারকে বহিস্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়া তাকে দলীয় সকল পদ থেকেও অব্যহতি প্রদান করা হয়।

‘দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে’ বিএনপি থেকে বহিষ্কার হওয়ার মাত্র একদিন পরই আ.লীগে যোগ দিয়েছেন এম এ গফফার। শনিবার বিকেলে মুক্তিযোদ্ধা ফাউন্ডেশানের একটি অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনছুর আহমেদের হাতে ফুলের  তোড়া দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দেন তিনি। তবে সদ্য বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত এই নেতার আওয়ামী লীগে যোগদান নিয়ে ক্ষোভে ফুসছে স্থানীয় আঃ লীগের অনেক নেতা-কর্মি।

যোগদানের সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ নুরুল ইসলাম, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ ফিরোজ কামাল শুভ্র, প্রণব ঘোষ বাবলু, জেলা কৃষকলীগ সভাপতি বিশ্বজিৎ সাধু, তালা উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ও তালা সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সরদার জাকির হোসেন, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি সরদার মশিয়ার রহমান।

অন্যদিকে এই যোগদানকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানসহ  উপজেলা ও ইউনিয়ন আ.লীগের একাধিক শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপির এই  নেতার আওয়ামী লীগে যোগদানের বিষয়ে নিয়ে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নজরুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান , ‘ আগে থেকেই গুঞ্জন ছিলো, এই বিতর্কিত ও সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা যেন আ.লীগে যোগদান করতে না পারে সেজন্য ইতোমধ্যে দলের সভাপতি-সম্পাদকসহ খুলনা বিভাগীয় সাংগঠণিক সম্পাদক ও কেন্দ্রে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

‘আওয়ামী লীগের এত দৈন্যদশা হয়নি যে বিতর্কিত, সদ্য বহিষ্কৃত বিএনপি নেতাকে যোগদান করাতে হবে’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘ ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করার জন্য ব্যক্তি বিশেষ এটা করেছে। তার দায় দল নেবে না।’