সৌন্দর্য বর্ধনকারী এক অপরুপ ফুল মাধুরীলতার যত জানা- অজানা

আরেফন শিমন, লাইফস্টাইল কন্ট্রিবিউটর , সময়ের কণ্ঠস্বর।

বাংলা সাহিত্যে মাধুরীলতা নামটি অনেকবার এসেছে। হয়েছে অনেক গল্প কবিতা। এমন কি বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মেয়ের নামও ছিল মাধুরীলতা। সে ক্ষয় রোগে মারা গিয়েছিল তার বিয়ের মাত্র ১৭ বছরের পর। মাধুরীলতাকে নিয়ে রচিত হয়েছিল সুখ- দুঃখের নানা গল্প কবিতা। যা কার বা অজানা। মাধুরীলতা ফুলের রঙের জন্য ও দেখতে খুব সুন্দর হওয়াতেই এই নামে নামকরন করা হয়েছে অনেক মানুষের কিংবা সাহিত্যের নানা গল্প উপন্যাসের চরিত্রগুলোর।

মাধুরীলতা একটি লতানো গাছ । এর বোটানিক্যাল নাম Quisqualis indica , ফ্যামিলি Combretaceae। মাধুরীলতার হিন্দি নাম রঙ্গন-কা বেল! এছাড়া আরো নাম আছে । যেমন- বোম্বে অঞ্চলে বারমাসী , লাল চামেলী ইত্যাতি । কুঞ্জ তৈরির জন্যে মাধুরীলতা ব্যাবহার করা হয়, বলা হয় কুঞ্জ তৈরির এটি আদর্শ গাছ। এর আদি বাসস্থান দক্ষিণ আফ্রিকা ও ইন্দো- মালয়েশিয়া। তবে কেউ কেউ মনে করেন, এটি মালয় দেশের গাছ এবং এখানে এনে লাগানো হয়েছে।

মাধুরীলতার লতা খুব শক্ত, প্রথমে চিকন থাকলেও কয়েক বছর হয়ে গেলে মোটা হয়। তখন এর চেহারাই বদলে যায়। এর লতা তখন হয় মোচড়ানো, আর রঙেও আসে পরিবর্তন, হয়ে যায় ধূসর রঙের।

মাধুরীলতার গর্ভকাষ্ঠ বা মাঝখানে এক ধরনের ছিদ্র হয়। পাতা বিপরীত দিকে সাজানো থাকে। পাতা আয়তকার, ডিম্বাকৃতি ও আগা সরু হয়ে থাকে। কিনারা হালকা ঢেউ খেলানো এবং একটু খসখসে।

মাধুরিলতাকে অনেকে ‘”মাধবীলতা” বলে ভুল করেন। কিন্তু মাধবী ও মাধুরীলতা দুটি সম্পূর্ণ পৃথক প্রজাতির লতা গাছ। মাধুরীলতার ফুল গন্ধে ভরপুর। ফুল গুচ্ছবদ্ধ, সাদা-লাল-কমলা রঙে মেশানো। পাপড়ি ৫ টি।

ফুলের গন্ধ “মাধবী”র থেকে একটু কম। ফুলের রঙ সাদা থেকে ধীরে ধীরে বদল হয়। রঙের জন্যও এই ফুল খুব সুন্দর। গ্রীষ্ম ও বর্ষায় এর ফুল বেশি হলেও সারা বছর কিছু দিন পরপর ফুল ফোটে। এজন্যে একে বারমাসী ফুল বলা হয়। লতা বড় হয়ে গাছ হলে দির্ঘজীবী হয়। গোড়া এবং শেকড় থেকেও লতা গজায়। কাটিং করে বা লতা কেটে মাটিতে পুঁতলেও চারা হয়। খুব ক্বচিৎ এর ফল হয়।

বাংলাদেশের অপার সৌন্দর্যের এই অপরূপ ফুল শুধু আমাদের সৌন্দর্য ই দেয় না, দেয় অনেক রোগ থেকে মুক্তি ও। এর পাতা চর্মরোগে ব্যবহৃত হয়। পাতা পুরনো বাত ও হাঁপানীর শান্তিকারক।

বাড়ীর সামনের সৌন্দর্য বাড়ানোর জন্য অনেকে লাগিয়ে থাকে লতানো এই ফুলের গাছকে । বাংলাদেশের বিভিন্ন গার্ডেন সহ প্রায় সব জায়গাতেই এই মাধুরীলতা বা মধুমালতী বা মধুমঞ্জরিলতা দেখা যায়।

সুত্রঃ উইকিপিডিয়া।