আজ নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদ ভবন উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

মুনিরুজ্জামান মুনির, নন্দীগ্রাম প্রতিনিধি: একদিনের সফরে আজ রবিবার বগুড়া আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফরে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থাপনার ভিত্তি প্রস্তর কাজের উদ্বোধন করবেন তিনি। এরপর নির্ধারিত জনসভায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

upjala

প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের তালিকায় রয়েছে বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদের নতুন ভবন। প্রায় ৪ কোটি ২৮ লাখ ৮৪ হাজার ৩৯৪ টাকা ব্যয়ে অত্যাধুনিক বহুতল এ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন উদ্বোধন করবেন তিনি।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৩ মার্চ সাঈদীকে চাঁদে দেখার গুজবে তান্ডবের ৪ বছর পর নির্মিত হয়েছে ৪ তলা বিশিষ্ঠ উপজেলা পরিষদ। নতুন সাজে সজ্জিত হয়ে নবরূপে উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে উপজেলা পরিষদের নব-নির্মিত ভবন। দরজা-জানালা থেকে শুরু করে ভবনের চারপাশে রঙের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঝকঝকে চকচকে করা হয়েছে উপজেলা পরিষদ ভবন। পাল্টে গেছে পরিষদের ২০১৩ সালের ধ্বংসযজ্ঞ চিত্র।

সূত্রমতে, ২০১৩ সালের ৩ মার্চ জামায়াত নেতা মাওলানা দেলোওয়ার হোসাইন সাঈদীকে চাঁদে দেখার গুজবে উপজেলা পরিষদে দফায় দফায় কয়েক ঘন্টা ব্যাপী তান্ডবে ১৬টি অফিসে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। উপজেলা পরিষদের বিশাল এলাকা ছিল এক বিরানভূমি। উপজেলা পরিষদের দোতলা ভবনের প্রতিটি কক্ষের আসবাবপত্র আর নথিপত্র পুড়ে ছাইয়ের স্তুপ হয়েছিল। বিভিন্ন কক্ষের টেবিল, চেয়ার, টেলিভিশন, কম্পিউটার, টেলিফোনসেট, ফ্যাক্স মেশিন, সরকারি নথিপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ভূস্মিভূত ছাইয়ের মধ্যে পড়েছিল এ উপজেলার সকল সম্ভবনার রেখা।

উপজেলার সকল উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, কর্মচারীদের চাকরি সংক্রান্ত রেকর্ড বই, বিভিন্ন সরকারি মামলা, ঋণ, নকশা, ভাউচারসহ সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। থমকে যায় অফিসের সকল কার্যক্রম। নেমে আসে পরিষদের কার্যক্রমে স্থবিরতা। এখনও ক্ষতিগ্রস্থ ভবনের ক্ষত যেন, মনে করিয়ে দেয় সেদিনের বিভীষিকার কথা। কতোটা নিষ্ঠুরতার সাথে এ ধরনের একটি হামলা চালনো সম্ভব সেই কথাই ঘুরে ফিরে এখনো আসছে সাধারন মানুষের আলোচনায়। সেই তান্ডবে প্রায় ১০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল বলে উপজেলা পরিষদ সূত্র জানিয়েছেন।

এরপর সেই উপজেলা পরিষদ ২০১৪ সালের ১৬ এপ্রিল জিওবির অর্থায়নে ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর এলজিইডির বাস্তবায়নে ৪ কোটি ২৮ লাখ ৮৪ হাজার ৩৯৪ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে।

পাশাপাশি চলতি বছরের ১৩ মার্চ স্থানীয় সরকার বাস্তবায়নে ১ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৫৮২ টাকা ব্যয়ে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়। পাঁচতলা বিশিষ্ট তিনতলা ভবনটির নিচ তলায় দোকন ঘর থাকবে। দ্বিতীয় তলায় হবে কমিউনিটি হল এবং তৃতীয় তলায় হবে মুক্তিযোদ্ধাদের অফিস। দোকান ঘর ও কমিউনিটি হল ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে বাড়তি আয় হবে যা মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসা: শরীফুন্নেসা সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি নব-নির্মিত নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদ ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স উদ্বোধন করবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।