বকশীগঞ্জের কামালপুর স্থলবন্দরে এক বছর ধরে আমদানি-রফতানি বন্ধ

আবদুল লতিফ লায়ন, জামালপুর প্রতিনিধি: ভারতীয় বন বিভাগের সঙ্গে সে দেশের ব্যবসায়ীদের দ্বন্দ্বের কারণে বন বিভাগের ছাড়পত্র না পাওয়ায় এক বছর ধরে বকশীগঞ্জের কামালপুর স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানি বন্ধ রয়েছে।

kamalpur

এতে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের এলসি করা প্রায় ৪০ কোটি টাকার পাথর আটকা পড়ে আছে ভারতে। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বেকার হয়ে পড়েছেন স্থলবন্দরের পাঁচ হাজার সাধারণ শ্রমিক।

জানা গেছে, কামালপুর স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানি-রফতানি হয়ে থাকে। দেশের সিংহভাগ পাথরের চাহিদা পূরণ হয় এ বন্দর দিয়ে আমদানি করা পাথরে। কিন্তু নানা কারণে ভারতের পাথর ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ভারতীয় বন বিভাগের দ্বন্দ্ব চলে আসছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার কথা বলে ছাড়পত্র না দিয়ে ভারতের বন বিভাগ পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে এক বছর ধরে কামালপুর স্থলবন্দরে পাথর আমদানি-রফতানি বন্ধ রয়েছে।

আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকায় বন্দরে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। বেকার হয়ে পড়েছেন বন্দরে কাজ করা প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক। এছাড়া বন্দরের দুই শতাধিক আমদানিকারকের এলসি করা প্রায় ৪০ কোটি টাকা আটকে পড়ে আছে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের কাছে। ফলে বসে বসে ব্যাংক ঋণের বোঝা টানছেন ব্যবসায়ীরা। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।

এ ব্যাপারে বন্দরের শ্রমিক সখিনা বেওয়া, আলেহা ভানু, নুর ইসলাম মিয়া, নিরঞ্জন ও ইসমাইল হোসেন বলেন, এক বছর ধরে কোনো কাজকর্ম না থাকায় অতিকষ্টে দিন কাটছে। ধারদেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে। অনেক শ্রমিক বিভিন্ন এনজিও এবং দাদন ব্যবসায়ীদের সুদের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন।

এ ব্যাপারে আমদানিকারক কৃষিবিদ আবদুল্লাহ আল মোকাদ্দেছ রিপন জানান, বন্দরে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকায় বসে বসে ব্যাংক ঋণের সুদ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। বিষয়টি সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

এ ব্যাপারে আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানান, ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নিয়মিত কথাবার্তা চলছে। আশা করছি, অল্প সময়ের মধ্যে বন্দরে আমদানি-রফতানি শুরু হবে। আবার সচল হয়ে উঠবে কামালপুর স্থলবন্দর।

কামালপুর স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকায় গত এক বছরে প্রায় ১০ কোটি টাকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে সরকার। ব্যবসায়ীদের এলসি করা ১০ হাজার টন পাথর আটকা পড়েছে। তবে উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ চলছে। ছাড়পত্র পেলেই বন্দরটি আবার সচল হয়ে উঠবে বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু হাসান সিদ্দিক সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, বিষয়টি সমাধানের জন্য দ্বিপক্ষীয় আলোচনা চলছে। অচিরেই তা ফলপ্রসূ হবে।