কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি চাইলেন খাদিজা

news_picture_43349_adalot


সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ

ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমের নৃশংস হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফেরা কলেজছাত্রী খাদিজা বেগম নার্গিস সিলেটের আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

ঘটনার ৩ মাস ২২ দিন পর রবিবার সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে বদরুল আলমের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেন খাদিজা।

খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলায় মোট ৩৩ সাক্ষীর মধ্যে ৩২জন আগেই সাক্ষ্য দিয়েছেন। রবিবার খাদিজার সাক্ষ্য নেয়ার পর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলো।

খাদিজা হত্যাচেষ্টা মামলায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য আগামী ১ মার্চ তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।

মামলার আসামি বদরুলের আইনজীবী সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী বলেন, আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করেছেন বদরুল। খাদিজার ওপর হামলার ঘটনার সময় বদরুল স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন না। তিনি নেশাগ্রস্ত ছিলেন।

আদালত বিষয়টি মানবিক বিবেচনায় নিয়ে তার মক্কেলকে খালাস দেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

খাদিজার আইনজীবী আ ক ম শিবলী বলেন, আদালতে দাঁড়িয়ে খাদিজা তার ওপর হামলাকারী বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন।

তিনি বলেন, বদরুল পূর্বপরিকল্পিতভাবে খাদিজার ওপর হামলা করেছিলো। এখন সে নেশাগ্রস্ত ছিল বলে ভনিতা করা হচ্ছে। এসব ভনিতা ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত করবে না।

খাদিজার ওপর হামলা মামলার আসামি বদরুল আলমকেও রবিবার আদালতে হাজির করা হয়। হামলার ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর রবিবার প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হন বদরুল ও খাদিজা।

গত বছরের ৩ অক্টোবর এমসি কলেজের পুকুরপাড়ে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজা বেগম নার্গিসকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অনিয়মিত ছাত্র ও শাবি ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক বদরুল আলম। ঘটনার পরপরই শিক্ষার্থীরা বদরুলকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

এ ঘটনায় খাদিজার চাচা আবদুল কুদ্দুস বাদী হয়ে বদরুলকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন। ৫ অক্টোবর বদরুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরে তাকে কারাগারে প্রেরণ করে আদালত। এছাড়াও ঘটনার পর শাবি থেকে চিরতরে বহিষ্কার করা হয় বদরুলকে।