শ্রীপুরের কেমিক্যাল কারখানা কেন বন্ধ ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না- জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট

ds


মোশারফ হোসাইন তযু শ্রীপুর(গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ

শ্রীপুরের টেপির বাড়ি এলাকায় গড়ে উঠা আজিজ গ্রুপের এ.এস.এম কেমিক্যাল কারখানা কেন বন্ধ করা হবে না এবং ক্ষতিগ্রস্থদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না – আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এর কারণ জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দুই সপ্তাহের মধ্যে একটি তদন্ত প্রতিবেদনও দাখিলের নিদের্শ দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি তারিক -উল হাকিম ও বিচারপতি মো. ফারুক (এম ফারুক) এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ দীর্ঘ শোনানী শেষে এই নিদের্শ প্রদান করেন।

কেমিক্যাল তৈরির ওই কারখানা থেকে নি:সারিত রাসায়নিক পদার্থের বিষে পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি সংক্রান্ত ‘নলকূপের পানিতে বিষ ! ’ শিরোনামে গত ১০ জানুয়ারি বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা ও অনলাইনে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত ওই সংবাদের প্রেক্ষিতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী হারুন অর রশিদ ফরিদ হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন করলে আজ রোববার রিট পিটিশনের শোনানী অনুষ্ঠিত হয়। রিট আবেদনকারী পক্ষে শোনানীতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট পঙ্কজ কুমার কুণ্ডু।

শোনানী শেষে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি তারিক -উল হাকিম ও বিচারপতি মো. ফারুক (এম ফারুক) এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ‘ বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন – ১৯৯৫ এর ৪(৩) ধারা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি কেন বন্ধ করা হবে না এবং একই আইনের ৭ ধারা অনুযায়ী কেন ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না-  আগামী ২ সপ্তাহের মধ্যে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক,  জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার, জেলার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক, ইউএনও, ওসি ও কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে এর কারণ জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়েছে। এই সঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক,  জেলা প্রশাসক জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালককে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রিট আবেদনকারী সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী হারুন অর রশিদ ফরিদ বলেন, বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা ও অনলাইনে প্রকাশিত সংবাদ দেখেই মূলত পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে এই রিটটি করেছি। তিনি বলেন এ ছাড়াও স্থানীয় ইউএনও আবদুল আউয়াল গত ২৬ ডিসেম্বর ওই কারখানাটির ভয়াবহতা সম্পর্কে  পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে লিখিত ভাবে জানান। সেই আবেদনের কপিটিও আদালতে দাখিল করা হয়েছে। উল্লেখ্য ভূ-পৃষ্ঠের তিশ ফুট গভীরের পানিতেও মিশে গেছে কেমিক্যাল তৈরির ওই কারখানা থেকে নি:সারিত রাসায়নিক পদার্থের বিষ। কোন নিউবওয়েল কিংবা গভীর নলকূপ থেকে এখন আর বিশুদ্ধ পানি উঠে না। এক কিলোমিটার দূর থেকে বিশুদ্ধ পানি এনে মানুষজন জীবন ধারণ করছেন। বাধ্য হয়ে গবাদি পশু-পাখি বিষমিশ্রিত এই পানিই পান করছে। রাসায়নিক পদার্থের বিষমিশ্রিত এ পানি পান করে প্রতিদিনই মরেছে গরু ছাগল হাঁস মুরগী।

এলাকাবাসী জানান, স্থানীয় এ.এস.এম  কেমিক্যাল কারখানার কর্তৃপক্ষ মাটির নিচে অন্তত ৩শ ফুট গভীরে বিশেষ ব্যবস্থায় দূষিত বর্জ্য নি:সারণ করায় বাস অযোগ্য  হয়ে পড়েছে ওই গ্রামের একাংশ। কারখানার ভেতর এক বিঘা জমির ওপর প্রথমে একটি পুকুর খনন করা হয়। পরে অন্তত ৩শ ফুট মাটির নিচ থেকে কয়েকশ গজ জুড়ে তোলা হয় বিপুল পরিমাণ বালু। সেখানেই নি:সারণ করা হচ্ছে দূষিত বর্জ্য। সেই তরল বর্জ্য নিচের পানির সঙ্গে মিশে বিষে পরিণত হয়েছে। কারখানার আশেপাশের অন্তত ২ শ পরিবার গত ২ বছর ধরে বিষ খাচ্ছে। ইউএনও আবদুল আউয়াল জানান ,গত ২৬ ডিসেম্বর ওই কারখানার ভয়াবহতা সম্পর্কে  পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে লিখিতভাবে জানিয়েছি।