শ্রীপুরে মানুষরূপি হায়েনাদের দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার তরুণী

0b4856ae5e7d9973963e7825418e2c43


মোশারফ হোসাইন তযু, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি:

শ্রীপুরে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে এক তরুণী। ওই সময় ছুটে বনের ভেতর লুকিয়ে পড়ায় রক্ষা পান আরেক তরুণী। শনিবার সন্ধ্যায় গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ডালেশহর গ্রামে এ দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

ধর্ষকরা হল গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের ডালেশহর গ্রামের হাসেম খাঁর ছেলে সেলিম (২০), গেনু মিয়ার ছেলে রাশিদুল ইসলাম ও মৃত লাল মিয়ার ছেলে রফিকুল ইসলাম (২৮)। ধর্ষিত তরুণী (১৮) পাশের ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার লংগাইর ইউনিয়নের সতেরবাড়ী গ্রামের দরিদ্র কৃষকের মেয়ে। জানা গেছে, গত প্রায় দেড় মাস আগে মোবাইল ফোনে তরুণীর সঙ্গে পাশের গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার ডালেশহর গ্রামের হাসেম খাঁর ছেলে মো. সেলিমের সঙ্গে পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তরুণীকে সেলিম প্রেম নিবেদন করে এবং বিয়ের প্রস্তাব দেয়। তরুণী জানায়, তাঁর দারিদ্রতার কথা জানালে সেলিম তাঁকে মোটা অঙ্কের বেতনে পোশাক কারখানায় চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।

পরে চাকরির জন্য কাগজপত্র জমা দিতে তাঁকে আসতে বলে সেলিম। ওই তরুণী আরো জানায়, তাঁর প্রতিবেশী এক বান্ধবীসহ তিনি গত শনিবার দুপুরে শ্রীপুর যান। সেখান থেকে কারখানায় যাওয়ার কথা বলে তাঁদের একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে সেলিম। পথে অটোরিকশায় তার আরো দুই সহযোগী ওঠে। ডালেশহর গজারি বনের পাশে গিয়ে অটোরিকশা ছেড়ে দেয়। পরে সেলিমসহ তার আরো দুই সহযোগী তাঁদের টেনে-হেঁচড়ে বনের ভেতর নিয়ে যায়। ওই তরুণী আরো জানান, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তিনি ছুটে গিয়ে বনে ঝোপের ভেতর লুকিয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনজন পালাক্রমে তাঁর ওপর নির্যাতন চালায়।

স্থানীয়রা জানায়, তারা টের পেয়ে ছুটে গিয়ে ধর্ষিতসহ দুই তরুণীকে উদ্ধার করে। ওই সময় ধর্ষকদের আটক করলেও কয়েকজন প্রভাবশালী তাদের ছেড়ে দেয়। পরে ধর্ষিতসহ দুই তরুণীকে স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছে জিম্মায় দেয় প্রভাবশালীরা। ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য হারুন-অর রশিদ দাবি বলেন, ‘আমার জিম্মায় দেওয়ার পর আমি তরুণীদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করি। গতকাল তারা (অভিভাবকরা) আসার পর থানায় পৌঁছে দেই তরুণীদের।

তবে শ্রীপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম মোল্লা বলেন, ঘটনা জেনে গতকাল দুপুরে ধর্ষিতসহ দুই তরুণীকে উদ্ধার করি। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে। পলাতক থাকায় ধর্ষকরা এখনো ধরা পড়েনি, তবে তাদের ধরতে অভিযান চলছে।