নব্য জেএমবির নামে মন্দিরে হামলা করিয়েছিলেন কাদের খাঁন

news_picture_43439_kader-2


গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ

তদন্ত কর্মকর্তার হেফাজতে ১০ দিনের রিমান্ডে থাকার কথা থাকলেও চার দিনের মাথায়ই গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সাবেক এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে খুনে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন সাবেক এমপি ডা. আবদুল কাদের খাঁন। গত শনিবার গাইবান্ধা জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জয়নুল আবেদীনের আদালত ১৬৪ ধারায় তার এ জবানবন্দি রেকর্ড করে। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ার আগে তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা মোবাইল ট্র্যাকিংয়ে তার কণ্ঠ শোনালে তিনি হতভম্ব হয়ে যান। পরে তিনি খুনের ঘটনা সম্পর্কে তার পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও বাস্তবায়ন বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ দিতে সম্মত হন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে। এর বাইরে সুন্দরগঞ্জে মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের বিষয়েও তার সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা।

পুলিশ জানিয়েছে নব্য জেএমবির নামে গাইবান্ধার একাধিক মন্দিরে হামলা ও দুর্গা প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটিয়েছিলেন সাবেক এমপি। পুলিশ দাবি, তার নির্দেশেই গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, সদর ও সাদুল্যাপুর উপজেলায় বিভিন্ন মন্দিরে হামলা হয়।এখন তার বিরুদ্ধে মন্দিরে আগুন ও প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগ তদন্ত শুরু হয়েছে।

পুলিশের দাবি, গত বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে কাদের খাঁনের নির্দেশ এবং পরিকল্পনায় মন্দিরে হামলা হয়। ৯ অক্টোবর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুরের কামারপাড়া কালিমন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ এ অভিযোগে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ছাপড়হাটি ইউনিয়নের মণ্ডলেরহাট থেকে কথিত চার নব্য জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করে। তারা হলেন- সুন্দরগঞ্জের ফয়সাল খাঁন ফাগুন (১৭), নজরুল ইসলাম খাঁন (৩৫), আশিকুল ইসলাম (১৬) এবং শহিদ মিয়া (১২)। এদের মধ্যে ফয়সাল কাদের খাঁনের ভাতিজা। আর নজরুল ইসলাম খাঁন তার বাড়ি দেখাশুনা করতেন।

সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিয়ার রহমান জানান, ‘মন্দিরে হামলার ঘটনায় গ্রেফতার চারজন স্বীকার করেছেন কালিমন্দিরে আগুন দেওয়া ঘটনা। এছাড়া ২২ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে সাদুল্যাপুর উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব কেশালীডাঙ্গা সার্বজনীন মন্দিরের মূর্তিও ভাঙচুর করে তারা। ভাঙচুর করার পরে প্রতিটি মন্দিরেই নব্য জেএমবি নামে হাতে লেখা চিঠি ফেলে আসে।’

তিনি আরও জানান, ‘গত ২২ সেপ্টেম্বর তারা আরও একটি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুরের পরিকল্পনা করেন। কিন্তু তার আগেই তারা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে।’

ওসি বলেন, ‘প্রাথমকিভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় কাদের খাঁনের নির্দেশেই হয়েছিল। মন্দিরে আগুন দেওয়ার ঘটনার তার ভাইয়ের ছেলে ফয়সাল গ্রেফতার হয়েছে। তাই ওসব হামলায় তার সংশ্লিষ্টার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শুরুও হয়েছে।’

৩১ ডিসেম্বর এমপি লিটন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের সাহবাজ (মাস্টারপাড়া) গ্রামের নিজ বাড়িতে গুলিতে নিহত হন। এ ঘটনায় লিটনের বোন তাহমিদা বুলবুল বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামি করে ১ ডিসেম্বর সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

এ মামলায় গত ২১ ফেব্রুয়ারি কাদের খাঁনকে বগুড়ার গরীব শাহ ক্লিনিক থেকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।তার তথ্য মতো বাড়ি থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা একটি পিস্তল, ছয় রাউণ্ড গুলি ও একটি ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়।