এমপি লিটন হত্যা দুই সপ্তাহ’র মধ্যেই চার্জশিট: রংপুরের ডিআইজি

g


শাহরিয়ার মিম,রংপুর:

গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম লিটন হত্যার ঘটনার সব তথ্য উদঘাটিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুখ। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে এ মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে। রবিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন রংপুরের ডিআইজি। ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুখ বলেন, পুলিশের এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে মূল পরিকল্পনাকারী ও হুকুম দাতা সাবেক সংসদ সদস্য ও জাপা নেতা কর্নেল (অব.) ডা. কাদের খানসহ কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া খুনিদের গ্রেফতার করার মধ্য দিয়ে।

অপরাধীরা প্রত্যেকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে এ হত্যার ঘটনায় নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করায় মামলাটির রহস্য নিয়ে এখন আর কোনও প্রশ্ন নেই। স্পষ্টভাষায় তিনি বলেন, ‘এ কথা এখন আমরা বলতে পারি, জাপা নেতা কাদের খান আবারও সংসদ সদস্য হওয়ার বাসনায় ওই আসনের সংসদ সদস্য লিটনকে গুলি করে হত্যা করিয়েছেন। এ জন্য খুনিদের বিভিন্নভাবে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র সরবরাহ করেন ডা. কাদের। তিনি আশা করেছিলেন, লিটনকে একান্ত অনুগত লোকদের দিয়ে হত্যা করার পর উপ-নির্বাচনে তিনি আবারও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন। কিন্তু উপ-নির্বাচনে তাকে জাপা মনোনয়ন না দিয়ে ব্যারিস্টার শামীম পাটোয়ারীকে মনোনয়ন দেয়।

এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাকেও হত্যার পরিকল্পনা করেন ডা. কাদের খান। সে অনুযায়ী খুনিদের আবারও সুন্দরগঞ্জে ডেকে নিয়ে এসেছিলেন তিনি। শনিবার কাদের খান ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে হত্যার দায় দায়িত্বসহ ঘটনার ছক কীভাবে সাজিয়েছিলেন সে ব্যাপারে বিস্তারিত জানিয়েছেন এবং সব বিষয় স্বীকার করেছেন। কাদের বলেছেন, শুধুমাত্র ক্ষমতার লোভে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য লিটনকে হত্যা করেছেন তিনি।’ অপরাধীদের শনাক্ত করার বিস্তারিত বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, যারা অপরাধ করে তারা নিজেদের অবচেতন মনে কিছু প্রমাণ রেখে যায়। লিটন হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র, বিশেষ করে গুলি এবং অন্য একটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় উদ্ধার হওয়া গুলি পুলিশ হেড কোয়ার্টারে পরীক্ষা করে একই রকম বলে প্রমাণিত হয়। এরপরই মামলাটির দৃশ্যপট পাল্টে যায়।

পুলিশ এ প্রমাণ পাওয়ার পর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে সন্দেহভাজন ৩ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। এছাড়াও ঢাকা থেকে রানা নামের এক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়। রংপুরের ডিআইজি বলেন, ‘এরপর জিজ্ঞাসাবাদে তারা পুলিশের কাছে স্বীকার করে, কার নির্দেশে তারা এ কাজ করেছে। এরপর হত্যার পরিকল্পনা, ছকসহ সব তথ্যই বেরিয়ে আসে। তাদের তথ্য প্রমাণ অনুযায়ী সাবেক সংসদ সদস্য কাদের খানকে গ্রেফতার করা হয়।’ তিনি জানান, গ্রেফতার হওয়া রানাকে আদালতে উপস্থিত করা হলে তারা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং হত্যার ছকের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করে। এরপর মূল পরিকল্পনাকারী জাপা নেতা কাদের খানকে শনিবার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থিত করা হয়। সেখানে খুনের দায় স্বীকার করে পুরো ঘটনা বর্ণনা করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি। ফলে এ মামলার রহস্য উদঘাটনে শতভাগ সাফল্য অর্জিত হয়েছে।

এক প্রশ্নের উত্তরে ডিআইজি বলেন, দ্রুততম সময়ে এমপি লিটন হত্যকারীদের গ্রেফতার করার মধ্য দিয়ে পুলিশের সক্ষমতার আবারও প্রমাণ মিলেছে। এ মামলায় পুলিশ হেড কোয়ার্টারের চৌকস দল এবং গাইবান্ধা পুলিশ যৌথভাবে নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে খুনিদের চিহ্নিত করতে পেরেছে। এ ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তাও রহস্য উদঘাটন করতে পেরেছে।