নিজের জীবন দিয়ে ৩৭ যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়ে গেলেন বাস চালক

sd


সময়ের কণ্ঠস্বর ডেস্কঃ

৩৭ যাত্রী নিয়ে বাস চালিয়ে যাচ্ছেন চালক। রাত ৩টা। সব যাত্রীই ঘুমন্ত অবস্থায় আছে। কিন্তু চালকের শারীরিক অবস্থা খুবই খারাপ। এক পর্যায়ে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়লেন চালক। কিন্তু বাঁচিয়ে গেলেন সব যাত্রীর জীবন।

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বাসের স্টিয়ারিং হুইলের উপরে পড়েই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন চালক। কিন্তু তার আগে তিনি সব যাত্রীদের নিরাপদ থাকার ব্যবস্থা করে যান। রাস্তার ধারে ঘেঁষে থামিয়ে দেন বাসটি। এর সঙ্গে সঙ্গেই চালকের মৃত্যু ঘটে।

এই চালকের নাম সাইদুল। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের তেলেঙ্গানায়। সোমবার রাতের এই ঘটনার পর ঘোর কাটাতে পারছেন না বাসটির অনেক যাত্রীই।

যে বাসে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি খাম্মাম থেকে হায়দরাবাদের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। নলগোন্ডা জেলার নাকিরেকলের কাছে পৌঁছে মৃত্যুর হাতছানি অনুভব করেন চালক সাইদুলু। যাত্রীরা সবাই তখন ঘুমাচ্ছিলেন। আচমকা বাস রাস্তার ধার ঘেঁষে থেমে যাওয়ার পর কারও কারও ঘুম ভাঙে। তারাই দেখেন, সাইদুলু স্টিয়ারিং-এর উপর উপুড় হয়ে রয়েছেন।

তেলেঙ্গানার পুলিশ বলছে, বাস চালাতে চালাতে সাইদুলু হৃদরোগে আক্রান্ত হন। তার জেরেই স্টিয়ারিং-এর উপরে ঢলে পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু ঢলে পড়ার আগে তেলঙ্গানা রাষ্ট্রীয় সড়ক পরিবহণ নিগমের বাসটিকে যেভাবে রাস্তার ধার ঘেঁষে পার্ক করিয়ে দিয়েছিলেন সাইদুল, তাতে স্পষ্ট যে নিজের অসুস্থতা বুঝতে পারার পর তিনি বাসটিকে তথা যাত্রীদের বাঁচাতে বদ্ধপরিকর হয়ে ওঠেন।

চালক ঢলে পড়েছেন দেখতে পাওয়ার পর যাত্রীরা দ্রুত খবর দেন পুলিশে। অ্যাম্বুল্যান্সও ডেকে পাঠানো হয়। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়ে দেন, সাইদুলুর দেহে আর প্রাণ নেই।

পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সী সাইদুল তেলেঙ্গানার সরকারি পরিবহণ সংস্থার খাম্মাম ডিপোতে নিযুক্ত ছিলেন।