বার্সাকে শীর্ষে তুললেন মেসি

news_picture_43408_mmmmmmm


স্পোর্টস ডেস্ক:

ম্যাচ শুরুর আগে অ্যাতলেটিকো বস চ্যালেঞ্জ দিয়েছিলেন বার্সাকে। কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জকে বাস্তবে রূপ দিতে দিলেন না আরেক আর্জেন্টাইন। বার্সার হয়ে খেলে ৪০০ তম জয় উপহার দেন স্বাগতিকদের মাঠে।

চার বছর আগে মৌসুমের শেষ দিনে লিওনেল মেসি-আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাদের জালে বল জড়িয়ে তাদের শিরোপা স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছিলেন অ্যাতলেটিকো তারকা ডিয়াগো গডিন। উরুগুয়ান ডিফেন্ডারের আরেকটি হেডারে সেই সম্ভাববা ফের জেগে উঠতে শুরু করেছিল। তবে শেষ বাঁশি বাজার চার মিনিট আগে দলকে আরেকবার উদ্ধার করেন মেসি। ফুটবলের ক্ষুদে যাদুকরের ২০তম লিগ গোলে এখনো শিরোপা স্বপ্ন জিইয়ে রেখেছে কাতালনরা।

প্রথমার্ধ গোলশূন্য। দ্বিতীয়ার্ধেরও প্রায় ২০ মিনিট পার হতে চলল, গোল নেই। অবশেষে খেলার ৬৪তম মিনিটে রাফিনহার পা থেকে ডেডলক ভাঙা গোল; কিন্তু মাত্র ৬ মিনিট যেতে না যেতেই ভিসেন্তে কালদেরনকে খুশির জোয়ারে ভাসিয়ে সেই গোল শোধ করে দিলেন দিয়েগো গোডিন।

কিন্তু মাদ্রিদ সমর্থকদের উল্লাস বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারলো না। লিওনেল মেসি আছেন না? ৮৬ মিনিটে বার্সা জাদুকরের ছোঁয়ায় ঠিকই জয়ের নিশানা খুঁজে পেয়ে গেলো বার্সেলোনা। শুধু তাই নয়, মেসির এই গোল লা লিগার পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে তুলে দিলো কাতালানদের।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে পিএসজির কাছে বিধ্বস্ত হওয়া এবং লা লিগায়ও বাজে পারফরম্যান্সের কারণে ফরমেশনই পরিবর্তন করার কথা ভাবছিলেন লুইস এনরিকে। ৪-২-৩-১ ফরমেশনে ফিরে গিয়েছিলেন তিনি; কিন্তু অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে রক্ষণাত্মক ভূমিকা ছেড়ে এসে আক্রমণাত্মক হওয়ার চিন্তাই করলেন এনরিকে। সুতরাং, ভিসেন্তে কালদেরনে ৩-৪-৩ ফরমেশনে আবারও দলকে মাঠে নামালেন তিনি।

জেরার্ড পিকে, স্যামুয়েল উমতিতি, জেরেমি ম্যাথিউ ডিফেন্সে। মিডফিল্ডে সার্জিও বস্কুয়েটসের সঙ্গে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, সার্জি রবার্তো। মেসিকে করে দেয়া হয়েছিল ফ্রি। ইচ্ছামত খেলেছেন তিনি। নেইমার এবং রাফিনহা ছিলেন দুই উইংয়ে। মাঝে লুইস সুয়ারেজ।

তবে অ্যাটলেটিকোর সাম্রাজ্য ভাঙতে বেশ কষ্টই করতে হয়েছে বার্সাকে। উল্টো বার্সার চেয়ে অনেক বেশি সুযোগ তৈরি করেছিলেন অ্যাটলেটিকো ফুটবলাররা। বরং, তারাই লিড নিতে পারতো। তবে শেষ পর্যন্ত লুইস সুয়ারেজের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল বার্সাই; কিন্তু বিতর্কিতভাবে সুয়ারেজের গোলটি বাতিল ঘোষণা করা হয়।

আন্দ্রেস ইনিয়েস্তো পুরো ফিটনেস ফিরে না পাওয়ায় মিডফিল্ডে একটা ঘাটতি দেখাই যাচ্ছিল। সার্জি রবার্তো কিছুটা ব্যাকেই খেলেন। যে কারণে লিওনেল মেসিকে অনেকটা মিডফিল্ডে নেমে এসে খেলতে হচ্ছিল। নেইমার প্রাণপন চেষ্টা করছিলেন গোল আদায় করার; কিন্তু কঠিন ডিফেন্সে সব ভেঙে যাচ্ছিল। তবে উল্টো গোলটা পেয়ে গেলেন রাফিনহাই। ৬৪ মিনিটে লুইস সুয়ারেজের পাস থেকে বল পেয়ে ডান পায়ের দারুণ এক শটে অ্যাটলেটিকো গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন রাফিনহা।

খেলার ৭০তম মিনিটেই অ্যাটলেটিকোকে দারুণ এক হেডে সমতায় ফেরান দিয়েগো গোডিন। সেট পিচ পরিস্থিতি থেকে বল পেয়ে ক্রস করেন কোকে। সেই বলকে প্রায় ৬ গজ দুর থেকে বার্সার জালে জড়িয়ে দেন গোডিন।

এরপর দু’দলই মরিয়া হয়ে চেষ্টা করে তিন পয়েন্ট কেড়ে নেয়ার। কিন্তু খেলার ৮৬ মিনিটে সুযোগটা কাজে লাগিয়ে বসেন লিওনেল মেসি। প্রায় ৬ গজ দুর থেকে বাম পায়ের দুর্দান্ত শট জড়িয়ে যায় অ্যাটলেটিকোর জালে। এ নিয়ে চলতি মৌসুমে ২২ ম্যাচে মেসি করেছেন ২২ গোল আর লা লিগায় করেছেন ২০তম গোল।

এই ম্যাচ জয়ের ফলে ২৪ ম্যাচ শেষে বার্সেলোনার পয়েন্ট ৫৪। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের পয়েন্ট ২২ ম্যাচ শেষে ৫২। ২৪ ম্যাচে ৫২ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সেভিয়া এফসি।