কম খেলে বা না খেয়ে থাকলেই কি ওজন কমবে? ডায়েট মানেই কি না খেয়ে থাকা?

সাজেদুর রহমান, লাইফস্টাইল কন্ট্রিবিউটর, সময়ের কণ্ঠস্বর।

অনেকের মাথায় কিভাবে এ জিনিসটা ঢুকেছে জানিনা!  তারা বুঝে ডায়েট মানেই কম খাওয়া। এমনও মানুষও আছে যারা দিনে ২ টা আপেল আর কফি শষা খেয়ে পার করে দিয়েছে। কম খেলে ওজন কমবে এটা সত্যি। কিন্তু কতটা কম খেতে হবে এটা আপনাকে জানতে হবে। আপনি মাত্রাতিরিক্ত কম খেলে ওজন একটা সময় পর্যন্ত কমে পরে আর কমেনা। আর কমে গেলেও সে ওজন ফিরে আসে।

লো ক্যালরি চার্টে প্রয়োজনীয় ভিটামিন মিনারেল আমাদের শরির পায় না। এতে ইমিউন সিস্টেমের বারোটা বাজে। আর এটার জন্য আপনাকে ভুগতে হবে শেষ বয়সে। আর লো ক্যালরি চার্টে তো মাসল ড্যামেজ হবেই। মাসল ড্যামেজ মানেই মেটাবলিজম কমে যাওয়া। সাথে হেয়ার ফল হয়ে টাকলু হওয়া আর স্কিন ড্যামেজ হয়ে বুড়িয়ে যাওয়া ফ্রী।

অনেকে GM ডায়েট করে। অনেক ডাক্তার কে দেখেছি এ ডায়েট সাজেষ্ট করতে। GM ডায়েট যে ডাক্তার / নিউট্রিশনিষ্ট সাজেষ্ট করে তার ডায়েট জ্ঞান নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। কোন চার্টে যদি ২৫-৩০% প্রোটিন না থাকে তবে সে চার্ট কোনমতেই হেলদি না। আপনার বডি কার্বোহাইড্রেট ছাড়া সারভাইভ করতে পারবে তবে ফ্যাট আর প্রোটিন ছাড়া পারবে না। এ দুটা জিনিষ চার্টে অবশ্যই সঠিক রেশিওতে থাকা লাগবে।

বেশ কিছু ডায়েটিশিয়ানের চার্ট দেখেছি যেগুলা এক্সট্রীমলি লো ক্যালরি চার্ট, সাথে হয়তো একটা ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট সাজেষ্ট করে। বিএমআর এর থেকে ১০০০ ক্যালরির বেশি কখনোই কমানো উচিত না। এতে আপনার মেটাবলিজের বারোটা বাজবে। BMR তো ফল করবে, সাথে যা ওজন কমাবেন তা সহজে ফিরে আসবে। এখন প্রশ্ন হল অভিজ্ঞ ডায়েটিশিয়ান হবার পরেও কেন আপনাকে লো ক্যালরি আনহেলদি চার্ট সাজেষ্ট করছে?

১. ক্লায়েন্টের চাহিদা। মানুষ ওজন বছরের পর বছর সময় নিয়ে বাড়ায় আর একদিনে কমাতে চায়। আর ডায়েটিশিয়ান ও চায় আপনাকে খুশি করতে। যখন দেখবেন মাসে ১০ কেজি কমে গেসে, আপনি মহা খুশি। আরও ১০ জনকে সে ডায়েটিশিয়ান সাজেষ্ট করবেন। লাভ দিন শেষে ডায়েটিশিয়ান এর।

২. যে ওজন খুব জলদি কমে সেটা দ্রুত ফিরে আসার সম্ভবনাও আছে। এমন অনেক মানুষ পাবেন যারা লাইফে বহুবার ৫-১০ কেজি ওজন কমিয়েছে কিন্তু নরমাল ওজনে আসতে পারেনাই কখনও। এখন লো ক্যালরি চার্ট ফলো করে আপনি কমবেন আবার দুদিন পর তার দিগুনের কাছাকাছি গেইন করে ডায়েটিশিয়ান এর কাছে যাবেন, এভাবে লুপে ঘুরতে থাকবেন ডায়েটিশিয়ানের কাছে।

এখানে দোষী যদি কেউ হয় তাহলে সে মানুষটা হচ্ছে আপনি। আপনি সবসময় নিজের কাজটা অন্যকে দিয়ে করাতে চান। ডায়েট করছেন ঠিকাছে, তবে পাশাপাশি ডায়েটের বেসিক জিনিষগুলো শিখে নেয়াও উচিৎ আপনার। ওজন কমাতে না, হেলদি ওজন ধরে রাখতে হলেও আপনাকে এসব সম্পর্কে বেসিক জ্ঞান রাখতে হবে। এতে শুধু মাত্র অাপনি ফল পাবেন তা নয় আপনার আশেপাশের মানুষ ও সাহায্য পাবে আপনার থেকে।

ডায়েট মানেই হল খাদ্য সংযম অভ্যাস করা। এখন কম সময়ে ওজন কমিয়ে ফেললে আপনার হেলদি খাবার অভ্যাস টা তৈরি হবেনা। একটা ভাল অভ্যাস তৈরি করতে অনেক সময় লাগে। দু- এক মাসে তা সম্ভব না। অনেকে এমন চিন্তায় ডায়েট করে, যে দু মাস কষ্ট করে ওজন কমায়ে ধুমায়ে খাব। তারা ওজন কমায় আবার ধুমায়ে খেয়ে বাড়ায়, এভাবেই চলতে থাকে। একটা সহজ জিনিষ বুঝে নেন, কোনকিছুই আনলিমিটেড না। ওজন কমানোর পরও আপনাকে সঠিক নিয়মে মেইন্টেন করে চলতে হবে। সপ্তাহে একদিন -দুদিন আপনি ধুমায়ে খাওয়া দিতে পারেন, বাকি ৫-৬ দিন আপনাকে কিন্তু মেইন্টেন করে চলতে হবে।

BMR হিসাব করার পর তা থেকে প্রথমে ৫০০ ক্যালরি কম করে ১৫-২০ দিন ফলো করলেন, তারপরের ১৫ দিন আরও ১০০ ক্যালরি কমালেন অর্থাৎ BMR থেকে ৬০০ ক্যালরি কমালেন এভাবে ধিরে ধিরে কমাতে হবে। দ্রুত অনেক বেশি ওজন কমালে স্কিন লুজ হয়ে যাবার সম্ভবনা আছে। যারা প্রথমে এক ধাক্কাতে অনেক বেশি ক্যালরি কাট করে ফেলে তাদের ওজন প্রথম দিকে খুব র‍্যাপিড কমে কিন্তু পরে আর কমতে চায় না। আপনি যদি ধিরে ধিরে BMR আর থেকে ক্যালরি কাট করতে থাকেন তবে দেখবেন প্রথম দিকে স্লো কমবে পরে র‍্যাপিড স্পিডে কমবে।

লিখতে গেলে আরও অনেক কিছু লিখা যাবে। সিদ্ধান্ত আপনার হাতে কি করতে চান আপনি।

ডায়েটের বেসিক জিনিষগুলা সম্পর্কে জানতে–

ক্রাশ ডায়েট নিয়ে আরও জানতে ভিডিওটা দেখতে পারেন–

বিএমার বের করার জন্য এটি দেখতে পারেন–