মাদারীপুরে চলছে ২য় দিনের পরিবহন ধর্মঘট

মেহেদী হাসান সোহাগ, মাদারীপুর প্রতিনিধি: মাদারীপুরে জেলা সড়ক পরিবহন ইউনিয়নের ডাকা অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট ২য় দিনেও চলতে থাকায় ভোগান্তি পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা। এতে জনমনে ছড়িয়ে পড়ছে আতঙ্ক। এই ধর্মঘটের কারনে বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগের সাথে বন্ধ রয়েছে সড়ক পথে সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা।

jatri

‘সকালে বাসস্ট্যান্ডে এসে শুনি পরিবহন ধর্মঘট এখনো চলছে। ঢাকায় ডাক্তার দেখানোর জন্য বের হয়েছিলাম কিন্তু সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে শ্রমিকরা সেই ভয়ে বাসায় ফিরে যাচ্ছি।’ যাত্রীরা পরিবহন শ্রমিকদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। এভাবেই নিজের অসহায়ত্বের কথা জানালেন মাদারীপুর মস্তফাপুর বাস কাউন্টারে ঢাকাগামী বাসের জন্য পরিবার নিয়ে বসে থাকা যাত্রী ইসমাইল শেখ।

ইমদাদুল হক এক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শরিয়তপুর থেকে মাদারীপুর আসছি বিভিন্ন তিন চাকার যানবাহনে চরে, যাবো খুলনা কিন্তু চার চাকার কোন যান এ শহরে নেই।

গতকাল সোমবার ভোর ৬টা থেকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের সদর উপজেলার মস্তফাপুর ও পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে সড়কের উপর টায়ার জ্বালিয়ে ও লোহার পাইপ ফেলে সড়ক অবরোধ করে শ্রমিকরা। যা আজও চলছে।

মাদারীপুর সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি ফাইজুল শরীফ বলেন, খুলনা বিভাগের সঙ্গে একত্মতা প্রকাশ করে গত রবিবার সন্ধ্যায় জরুরী সভা ডেকে জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এই পরিবহন ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়। দাবি না মানলে বা আমাদের শ্রমিকের সুষ্ঠ বিচার না হলে এই ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে।’

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ১৩ আগস্ট ঢাকা-মানিকগঞ্জের জোকা এলাকায় চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্সের একটি যাত্রীবাহী বাসের সাথে মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ নিহত হয় ৫ জন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গত বুধবার মানিকগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত চালক জামির হোসেনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডদেশ প্রদান করেন।