মৃত্যুর পরে ‘মুসলমানদের কবর’ নিয়ে মন্তব্য করে এবার এক বড় বিতর্কের জন্ম দিলেন মোদীর দল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক– উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন মানে অনেক রকমের অঙ্ক। সেই অঙ্কে জাত-পাত যেমন বড় বিষয়, তেমনই ধর্মের ভিত্তিতেও ভোট ভাগের কথাও মাথায় রাখতে হয়। আর সেই ভাগের খেলা চলছে।

এর আগে অখিলেশ যাদবকে কটাক্ষ করতে কবরস্থান আলো দিয়ে সাজানোর ইস্যু সামনে এনেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এর পরে ‘গাধা’ ইস্যুতে মন্তব্য পাল্টা মন্তব্যে জমে উঠেছে লখনউ দখলের রাজনীতি। এবার এক বড় বিতর্কের জন্ম দিলেন বিজেপির বিতর্কিত সাংসদ সাক্ষী মহারাজ।

17640170_303বিতর্কের জন্ম দেওয়াই যেন সাক্ষী মহারাজের কাজ। এবার তিনি এমন একটি বিষয় সামনে নিয়ে এলে,ন তা বিজেপির ভিতরে বা বাইরে কেউ কখনও তোলেনি। মোদীর কবরস্থান বিতর্ককে আরও এগিয়ে দিয়ে তাঁর মন্তব্য, দেশের এত মুসলমানের জন্য কবরস্থান তৈরি করা সম্ভব নয়। তাই হিন্দুদের মতো মুসলমানদেরও মৃতদেহ দাহ করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশে এমন আইন তৈরি করা দরকার, যাতে নতুন করে কবরস্থান তৈরি না হয়। পর্যাপ্ত জায়গার অভাবে এবার মুসলমানদেরও দাহ করা উচিত।

শুধু মুসলমানদেরই মৃতদেহই নয়, হিন্দুদের মধ্যেও যেই সব সম্প্রদায়ের সমাধি দেওয়ার প্রচলন রয়েছে তাদের কথাও বলেছেন উত্তরপ্রদেশের উন্নাও লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ সাক্ষী মহারাজ।

নিজের লোকসভা এলাকাতেই মঙ্গলবার একটি জনসভায় তিনি বলেন, ‘কবরস্থান বা শ্মশান নাম যাই হোক না কেন, কোনও জায়গাতেই কাউকে কবর দেওয়া উচিত নয়। এই দেশে দু থেকে আড়াই কোটি সাধুসন্ত রয়েছেন যাঁদের মৃত্যুর পরে সমাধি বানানো উচিত। এর পরে দেশে ২০ কোটি মুসলমান সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন। তাদের সবার জন্যও কবরস্থান দরকার। কিন্তু হিন্দুস্থানে অত জমি কোথায়?’

সাক্ষী মহারাজের এমন মন্তব্যের পরে সব দলই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কংগ্রেস থেকে সমাজবাদী পার্টি— সব দলই বিজেপি সাংসদের এই বক্তব্যকে সাম্প্রদায়িক উস্কানি বলে মন্তব্য করেছে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসেই ফতেহ্‌পুরের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, ‘যদি গ্রামে কবরস্থান বানানো হয়, তবে শ্মশানও বানাতে হবে। যদি রমজানে আলো দিয়ে সাজানো হয় তবে দীপাবলিতেও সাজাতে হবে।’ কবরস্থান বিতর্কের সেটাই ছিল শুরু। এবার অনেক কদম এগিয়ে গিয়ে মোদীর অস্বস্তি বাড়িয়ে দিলেন সাক্ষী মহারাজ। সূত্র- এবেলা