গাবতলী পুলিশ-পরিবহন শ্রমিক সংঘর্ষে বাসচালকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, সময়ের কণ্ঠস্বর- রাজধানীর গাবতলীতে পুলিশের সঙ্গে পরিবহন শ্রমিকদের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ বাসচালক মারা গেছেন। নিহত বাসচালক শাহ আলম (৪৫) বৈশাখী পরিবহনের চালক ছিলেন বলে জানা গেছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) বাচ্চু মিয়া এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

gabtaliguli1সারাদেশে চলা পরিবহন ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনেও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজধানীর গাবতলী এলাকা। বুধবার সকাল থেকে পরিবহন শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নিয়ে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। গাবতলীর প্রধান সড়কসহ আশপাশের সড়কগুলো বন্ধ করে নির্বিচারে গাড়ি ভাংচুর চালানো হয়।

আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয় পুলিশের একটি গাড়ি। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ বাধে। গোটা এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। সংঘর্ষ চলাকালে বৈশাখী পরিবহনের ওই চালক মারা গেছেন।

জানা গেছে, সকাল সাড়ে নয়টার দিকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে বাসচালক শাহ আলম আহত হন। প্রথমে তাকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। বেলা ১১টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাস চালককে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে পরিবহন শ্রমিকদের দখলে থাকা রাজধানীর গাবতলী এলাকা বুধবার দুপুরের দিকে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার মাসুদ আহমেদ জানান, পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। রাস্তা নির্বিঘ্ন করতে অবরোধের আওতামুক্ত যানবাহন চলাচলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ধর্মঘটের আওতার বাইরের যান চলাচলে কেউ প্রতিবন্ধকতা তৈরি করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, মানিকগঞ্জের আদালতে চলচিত্রকার তারেক মাসুদ ও সংবাদিক মিশুক মুনীর নিহত মামলায় একজন বাসচালকের যাবজ্জীবন কারাদন্ডের প্রতিবাদে বাস ধর্মঘট পালন করছিলেন কয়েকটি অঞ্চলের শ্রমিকরা। সরকারি পর্যায়ে বৈঠকের পর সেই ধর্মঘট প্রত্যাহার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল সোমবার।

এরই মধ্যে সাভারের একটি সড়ক দুর্ঘটনায় একজন নারী নিহত হওয়ার মামলায় সোমবার ঢাকার জজ আদালত মীর হোসেন নামের একজন চালকের মৃত্যুদন্ডের রায় দেন। এ নিয়ে সোমবার রাতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা দেয়।