কালিজিরা চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে মাদারীপুরের তপন

মেহেদী হাসান সোহাগ, মাদারীপুর প্রতিনিধি: জেলায় কৃষকদের মুখে হাসি এনে দিচ্ছে ‘কালিজিরা’। কৃষকদের কম খরচে বেশি মুনাফা লাভের জন্য মসলা জাতীয় ফসল উৎপাদন করা হয়।

topon

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬ গুণ বেশি জমিতে এ বছর চাষ হয়েছে ‘কালো সোনা’ হিসেবে খ্যাত স্থানীয় জাতের এ কালিজিরা। মাদারীপুরের আবহাওয়া কালিজিরা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। আগামী দিনে এ কালিজিরা মাদারীপুরের কালোসোনা নামে চিহ্নিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। আর এই কালিজিরা চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে মাদারীপুরের বড়াইলবাড়ীর এলাকার এওজ গ্রামের পেয়ারপুর ইউনিয়নের জদুনাদ মন্ডলে শিক্ষিত চাকুরীজীবী ছেলে তপন মন্ডল।

মাদারীপুরের ৪টি উপজেলায় চলতি বছর মাত্র ৫৯১ হেক্টর জমিতে মসলা জাতীয় ফসল কালিজিরা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। কিন্তু অল্প পুঁজি বিনিয়োগে অধিক পরিমাণ মুনাফা হওয়ায় জেলায় ৩ হাজার ৮১১ হেক্টর জমিতে স্থানীয় উন্নত জাতের কালো জিরা চাষ করা হয়েছে। যার মধ্যে মাদারীপুর সদরে ১ হাজার ৩০ হেক্টর, কালকিনিতে ৮৫ হেক্টর, রাজৈরে ৪৯৬ হেক্টর এবং শিবচরে ২ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। আর জদুনাদ মন্ডলে ৫ ছেলে মেয়ের মধ্যে ছোট ছেলে তপন মন্ডল সেই ছোট বেলা থেকে বাবার সাথে কৃষি কাজে সময় দিতো এবং পাশাপাশি পড়াশুনা চালিয়ে গেছে।

আজ ১২ বছর যাবত একটি সরকারী চাকুরী করলেও বাবার সেই পেশা আর নিজের শখকে আজ কাজে পরিনিত করেছে কালিজিরা চাষ করে। এর আগে এই একই জমিতে ধান চাষ করে তেমন কোন লাভ না পেলেও আজ এবং গতবছর কালিজিরা চাষ করে অনেক লাভবান হয়েছে। তার দেখাদেখি এই এলাকায় অনেকেই কালিজিরা চাষে আগ্রহী হয়েছে এবং চাষ করছে। এবং এই কালিজিরা চাষী তপন মন্ডলের কাছ থেকে সকল প্রকার পরামর্শ নিচ্ছে, অন্য কৃষকরা। এবং তারা স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে। আর আগামীতে হবে বলে আশা করছে। তবে যদি সকল প্রকার পরামর্শ, বীজ, সার দিয়ে সরকারীভাবে সহযোগীতা করতো তাহলে অসহায় কৃষকরা আরও বেশী জমিতে কালিজিরা চাষ করতে আগ্রহী হবে বলে ধারনা করছে স্থানীয়রা।

সরজমিন কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে, তাই বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন তারা। বর্তমান বাজারমূল্যে বিঘাপ্রতি (৩ একর) ১ থেকে দেড় লাখ টাকা লাভের মুখ দেখবেন কৃষকরা।

মাদারীপুর সদর উপজেলার এওজ গ্রামের সফল কালিজিরা চাষী তপন মন্ডল বলেন, ‘আমি এ বছর এক ৫৪ শতাংশ জমিতে কালিজিরা চাষ করেছি। ফলন খুব ভালো হইছে। এই জমিতে মোট খরচ হয়েছে ১৫ হাজার টাকা যদি কোন প্রকার সমস্যা না হয়। আর বাজার মূল্য যদি থাকে তাহলে ৬০ হাজার টাকার বেশী বিক্রি করতে পারবো। তার এ ধরনের কথার সঙ্গে আরো যোগ করে একই গ্রামের আজাহার মুন্সি বলেন, ‘কালিজিরার বাজারে যে দাম পাওয়া যাচ্ছে, তাতে এ কালিজিরা আমাদের কাছে কালো সোনার মতন।’ এছাড়াও একই গ্রামে রেজাউল, জিতেন হালদার, মিলন হালদার, মানিক হালদার, সুভাশ হালদারসহ প্রায় ১শ জন এই কালিজিরা চাষ করছে। তবে আগামীতে হাজারে ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারনা করছে স্থানীয় চাষীরা।

পেয়ারপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এমদাদুল হক সময়ের কণ্ঠস্বরকে বলেন, কম খরচে বেশি মুনাফা লাভের জন্য বিভিন্ন সময় প্রশিক্ষণে কৃষকদের মসলা জাতীয় ফসল চাষে উদ্বুদ্ধকরণ করা হয়েছে বলেই এ বছর মাদারীপুরের কৃষকরা ব্যাপক হারে কালিজিরা চাষ করেছে। তিনি বলেন, মাদারীপুরের আবহাওয়া কালিজিরা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। আগামী দিনে এ কালিজিরা মাদারীপুরের কালোসোনা নামে চিহ্নিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।