ভয়ানক রোগ! হাঁচি দিলেই নাক দিয়ে বেরিয়ে আসছে মাথার ভেতরে বাস করা ‘শত শত পোকা’ !

বরিশাল প্রতিনিধি-

কোন রুপকথা বা গালগল্প নয় ! সত্যি সত্যিই মাথার ভেতরে শত শত পোকা বাসা বেঁধে আছে অনেকদিন ধরেই। বরিশালের মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর গ্রামের কৃষাণী হনুফা বেগমের মাথার ভেতরে এতদিন ঘাপটি মেরে চুপ বসে থাকলেও এখন হাঁচি দিলেই নাক থেকে বেরিয়ে আসছে নানান রঙয়ের জীবন্ত  পোকা। গাঁ শিউড়ে উঠা এমন ঘটনায় আতংকিত এলাকার মানুষের মধ্যে এ নিয়ে ব্যপক কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে। হনুফাকে একনজর দেখতে হাসপাতালে ভীড় করছেন শত শত উতসুক মানুষ।

গত কয়েক দিনে হাঁচির সঙ্গে তার নাক দিয়ে অন্তত ৩০ থেকে ৩৫টি জীবন্ত পোকা বের হয়েছে।

শুধু তাই নয়, গত কয়েকদিন ধরে তার চোখ থেকে পানি ঝরছে অনবরত। অসুস্থ হনুফাকে বরিশাল নগরীর ব্রাউন্ড কম্পাউন্ডের রয়েল সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ ডা. খান আবদুর রউফের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছে তার।

চিকিৎসক জানিয়েছেন, হনুফার মাথার মধ্যে বাসা বেঁধেছে পোকা। এ কারণে হাঁচির সঙ্গে তার নাক থেকে পোকা বের হচ্ছে। চোখ দিয়ে ঝরছে পানি। চিকিৎসাধীন হনুফা বেগম জানান, তিনি খেতে কৃষিকাজ করেন। গত কিছু দিন ধরে তার মাথায় ব্যথা অনুভব করেন এবং চোখ থেকে অনবরত পানি পড়তে শুরু করে। মাঝে মধ্যে ওষুধ খেয়ে মাথা ব্যথা নিবারণের চেষ্টা করতেন।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি আকস্মিক তার নাক দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করে। এতে তার মাথা ব্যথা আরও বেড়ে গেলে তিনি জেলার গৌরনদীর একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি হন। সেখান থেকে তাকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেখানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি তার নাক থেকে রক্ত পড়া বেড়ে গেলে ওইদিনই তিনি নগরীর রয়েল সিটি হাসপাতালে ইএনটি বিশেষজ্ঞ ডা. খান আবদুর রউফের তত্ত্বাবধানে ভর্তি হন।

রয়েল সিটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসক খান আবদুর রউফ এক ধরনের যন্ত্র ব্যবহার করেন তার নাকের মধ্যে। এরপর তিনি হাঁচি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার নাক থেকে ১৫ থেকে ২০টি জীবন্ত পোকা বের হয়ে আসে।

গত সোমবারও তার হাঁচির সঙ্গে আরও ১০ থেকে ১২টি পোকা বের হয় নাক থেকে। এতে তার মাথা ব্যথা অনেকটা কমে যায়।

ইএনটি বিশেষজ্ঞ ডা. খান আবদুর রউফ জানান, এই রোগের নাম ‘ম্যাগোট ইন দ্য নোজ অ্যান্ড প্যারানাজাল এয়ার সাইনাস’। তিনি বলেন, নাক, চোখ এবং কপালের অভ্যন্তরে একাংশে ফাঁকা জায়গা থাকে। কোনোভাবে পোকা সেখানে প্রবেশ করতে পারলে খালি স্থানে তারা বাসা বাঁধে এবং ডিম পাড়ে। এরপর ওই ডিম থেকে বাচ্চা হয়। হনুফার ক্ষেত্রেও এমনটা হয়েছে বলে তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বুঝতে পেরেছেন।

চিকিৎসক বলেন, অচেতন অবস্থায় হনুফার নাকের ভিতর পোকা প্রবেশ করে নাক, চোখ ও কপালের খালি স্থানে বাসা বেঁধেছে। সেখানে ডিম দেওয়ায় সেই ডিম থেকে অনেক বাচ্চা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে পোকাটি বাসা বাঁধলেও হনুফা ও তার পরিবার বিষয়টি বুঝতে পারেননি। এ কারণে তার মাথা ব্যথা এবং চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝরছে। সিটিস্ক্যান করে তার মাথার মধ্যে পোকার বাসাটি নির্ণয় করে ওই বাসা ওষুধের মাধ্যমে ধ্বংস করা হবে। এতে হনুফা সুস্থ-স্বাভাবিক হয়ে উঠবে বলে আশা করছেন তিনি।naker-poka

চিকিৎসক ডা. রউফ বলেন, মাথার ভিতর কীভাবে পোকা ঢুকেছে সে বিষয়ে হনুফা কিছু বলতে পারছে না। তবে চিকিৎসকের ধারণা কৃষাণী হনুফা কৃষি কাজের ফাঁকে কখনো কোনো গাছের নিচে ঘুমিয়ে পড়লে অচেতন অবস্থায় তার নাক কিংবা কান দিয়ে পোকা প্রবেশ করে খালি স্থানে বাসা বেঁধেছে। এ ধরনের সমস্যা এড়াতে কোনো গাছের নিচে বেশিক্ষণ না থাকার অনুরোধ করেছেন ইএনটি বিশেষজ্ঞ খান আবদুর রউফ।