জামালপুরে বিদ্যুতের লোডশেডিং এ কৃষকরা দিশেহারা

we


আবদুল লতিফ লায়ন, জামালপুর প্রতিনিধিঃ

জামালপুর জেলায় পল্লী বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংএ কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। চলতি মৌসুমের বিদ্যুতের অভাবে সময় মত কৃষিসেচ দিতে  না পেরে পানির অভাবে ক্ষেত শুকিয়ে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। ফলে ধান গাছ মরে যাবার আশঙ্কায় ভূগছেন কৃষক। পল্লী বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডসেডিং এর ফলে চলতি মৌসুমে ইরি-বোরো চাষ-আবাদ ব্যাহতের আশংকাং করছেন এলাকার কৃষক।

পল্লী বিদ্যুৎ এলাকাবাসি ও কৃষকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানাযায়,জামালপুর জেলার সাতটি উপজেলাসহ কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর ও রৌমারী উপজেলায় পর্যন্ত জামালপুর পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধিন বিদ্যুতায়িত এলাকা রয়েছে।এসব এলাকায় প্রায় আড়াই হাজার কৃষি সেচপাম্পের আওতায় প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক কৃষক এ বৎসর ইরি-বোরো চাষা করেছেন।

জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানিয়েছে, জামালপুর সদর, মাদারগঞ্জ, মেলান্দহ, ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ,বকশীগঞ্জ ও সরিষাবাড়ী উপজেলায় এ বছর ১ লাখ ২৭ হাজার ৫১৩ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষ-আবাদ হয়েছে। তাতে করে প্রায় ৫ লক্ষ ১৮ হাজার ৯ শ ৪৬ জন কৃষক এবার ইরি-বোরো ধান চাষাবাদ করছেন।

ভূক্তভোগি এলাকাবাসিরা জানায়, মৌসুমের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সর্বোচ্চ চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন পল্লী বিদ্যুত গ্রাহকরা। টানা ২০ মিনিটও বিদ্যুৎ স্থায়ী থাকে না। দুই তিন ঘণ্টা পরপর হঠাৎ বিদ্যুৎ দেখা মেলে। কিছুক্ষন পর-পর বিদ্যুতের অভাবে অন্ধকার নেমে আসে। একারণে বিদ্যুতের অভাবে সেচযন্ত্র চালাতে পাচ্ছে না বলে হতাশায় ভোগছেন কৃষকরা। এদিকে পানি সেচের অভাবে ইরি-বোরো ধান ক্ষেত শুকিয়ে চৌচির হয়ে বড়-বড় ফটল দেখা দিচ্ছে।

অপরদিকে ঘনঘন বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে ছোট-বড় মাঝারী ধরনের শিল্পকারখানাসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অচল হয়ে পড়েছে। ঘনঘন বিদ্যুৎ যাওয়া-আসার মেশিন, টেলিভিশন, রেফ্রিজারেটরসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি কবে নাগাত উন্নতি হবে, তাও সঠিত ভাবে বলতে পারছে না জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্দা ইউনিয়নের নয়া মালমারা, নাপিতের চর, আগুনের চর, বলিদাপাড়া মরাকান্দিসহ বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের অভাবে ইরি-বোরো ধান ক্ষেত ফেঁটে চৌচির হয়ে গেছে। ইসলামপুরের কাছিমারচর গ্রামের সাইফুল ইসলাম, মালমারা গ্রামের আব্দুস ছালাম, বকশীগঞ্জের বাট্টাজোড় গ্রামের  দুলাল হুসাইন বলেন, বিদ্যুতের অভাবে সেচযন্ত্র চালাতে পারছেন না। এতে ইরি-বোরো চাষআবাদ ব্যাহতের আশংকা করছেন তারা। বকশীগঞ্জের কোহিনূর এমদাদ এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিয়াল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমদাদুল হক জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ফলে কারখানার মেশিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বিদ্যুতের অভাবে পণ্য  বকশীগঞ্জ শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি মো. মানিক সওদাগর বলেন,বিদ্যুতের অভাবে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান,মেশিন পত্র প্রায় বিকল হয়ে যাচ্ছে। ফলে কয়েক হাজার ব্যবসায়ীর লাখ লাখ টাকা লোকসানের মুখে পবে।

বকশীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি অফিস সুত্রে জানাগেছে, বকশীগঞ্জ ও পাশ্ববর্তী ইসলামপুরের কিছু অংশে, রাজিবপুর ও রৌমারী উপজেলায় বকসিগঞ্জ সাবষ্ট্রেশন থেকে বিদ্যুৎ বিতরণ করা হয়। এখানে প্রায় ৪০ হাজার বিদ্যুত গ্রাহক রয়েছেন। তারমধ্যে কৃষি সেচপাম্প ১ হাজার ৩৫টি, বাণিজ্যিক ৩ হাজার ৫১৪টি, ভারী শিল্প ১০টি, ক্ষুদ্র ও মাঝারী শিল্পকারখানা ৩২৫টি এ ছাড়া অসংখ্য আবাসিক গ্রাহক রয়েছে। এখানে বিদ্যুতের চাহিদা ১২ মেগাওয়াট।বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩ মেগাওয়াট।বকশীগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ ডিজিএম মোহাম্মদ আবদুল জলিল জানান, বিদ্যুৎ বিভ্রাট কত দিনের সমস্যার সমাধান হবে তা’ আমি জানি না। জামালপুর পল্লী বিদ্যুত জিএম অফিস সূত্রে জানাগেছে, পল্লী বিদ্যুতের সারা জেলায় ৪৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১৮ মেগাওয়াট।

এ বিষয়ে জামালপুর পল্লী বিদ্যুত সমিতির জেনারেল ম্যানেজার পানা উল্ল্যাহ কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের একটি ইউনিট মেরামত করা হচ্ছে।অপর দু’টিতে গ্যাসের চাপ কম থাকায় পুরোদমে উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে লোডশেডিং হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ এ সমস্যার সমাধান হবে, তা তিনি নিশ্চিত নন বলে জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক,জামালপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন ও বিতরণ বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিস সুত্রে জানায়,জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ কতৃপক্ষ ৩৩ কেভিএ এবং ১১কেভিএ সঞ্চালন লাইনের সাব ষ্ট্রেশন গুলো অনেক পুরুনো। তাই বিতরণী চাহিদার তোলনায় সাব ষ্ট্রেশন গুলোর ধারন ক্ষমতা কম থাকায় তাদের ষ্ট্রেশনে অটোমেডিক লাইন বন্ধ হয়ে যায়। তাই জাতীয় গ্রীডে বিদ্যুৎ থাকা সত্ত্বেও তারা বিদ্যুৎ বঞ্চিত হচ্ছে বলে জানান।