নৌমন্ত্রীর অপসারণ চেয়ে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি

সময়ের কণ্ঠস্বর- সারা দেশে চলমান পরিবহন ধর্মঘটে সমর্থন দেয়ায় নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন এক আইনজীবী। বুধবার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ এই স্মারকলিপি পাঠান।

shahjahan-khan-_স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, শাহাজান খান নৌ-পরিবহণমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি। ১ মার্চের ডেউলি স্টার এবং অন্যান্য পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী নৌ-মন্ত্রী পরিবহণ শ্রমিকদের ধর্মঘটকে সমর্থন করেছেন।

তিনি বলেছেন, ‘দেশে কোন ধর্মঘট নেই। শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করা থেকে বিরত আছে। তারা কোন ধর্মঘট আহ্বান করেনি।’

এতে বলা হয়েছে, পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী পরিবহণ শ্রমিকদের ধর্মঘট করে প্রতিবাদ জানাতে এবং আদালতের রায় প্রত্যাহার করতে নৌমন্ত্রীর উসকানি আদালত অবমাননার সামিল এবং মন্ত্রীর শপথ ভঙ্গ হয়েছে। সংবিধানের ৭(এ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নৌমন্ত্রীর বক্তব্য অসাংবিধানিক ও রাষ্ট্রদ্রোহের সামিল।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, একইসঙ্গে ২টি পদ মন্ত্রী ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন অবৈধ এবং আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত। একজন মন্ত্রী সরকারের বিপক্ষে শ্রমিকদের ধর্মঘটের পক্ষে কখনো অবস্থান নিতে পারেন না। এসব কারণে ওই মন্ত্রীর পদে থাকার কোনো অধিকার তার নেই।

পরে আইনজীবী ইউনুস সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, স্মারকলিপি গৃহীত হলে প্রথমে নৌমন্ত্রীকে পদত্যাগ করার জন্য বলবেন প্রধানমন্ত্রী। যদি তিনি পদত্যাগ না করেন, তবে প্রধানমন্ত্রী ওই মন্ত্রীকে অপসারণের জন্য রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করতে পারবেন।

সড়ক দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্রকার তারেক মাসুদ, এটিএন নিউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হওয়ার মামলায় গত ২২ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গা ডিলাক্স পরিবহনের বাসচালক জামির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে গতকাল মঙ্গলবার থেকে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করেন তাঁরা।

ধর্মঘটে গতকাল রাতে গাবতলীতে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। আজ সকালেও সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষে এক শ্রমিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পরে বুধবার দুুপরে সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন ভবনে মালিক-শ্রমিক ও সরকারের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা করেন।

২০১১ সালের ১৩ আগস্ট ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মানিকগঞ্জের জোকা এলাকায় বিপরীতগামী যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় একটি মাইক্রোবাসের। এতে তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করে।