নরসিংদী শিবপুরে মুক্তিযোদ্ধা হত্যা: দীর্ঘ ১১ মাসেও আসামীদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ!

মো. হৃদয় খান, স্টাফ রিপোর্টার: নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বিরাজনগর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই’র হত্যা মামলার আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। দীর্ঘ এগার মাসেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে পারেনি। আজ বৃহস্পতিবার ২ মাচ পলাতক আসামী শাহিন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট চন্দন কান্তি নাথের আদালতে হাজির হলে তাকে জেল হাজতে প্রেরন করেন।17101586

অপর আসামীরা এখনো পলাতক আর উপরোক্ত ফেরারি আসামীরা মুক্তিযোদ্ধা হত্যা মামলার বাদীর পরিবারকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে। ইতোমধ্যে আসামীরা মামলার সাক্ষী নিহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাইয়ের ছোট ভাই হারিছ মিয়ার মুরগীর ফার্ম এবং ৩টি খড়ের গাদায় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে।

এ ব্যাপারে পুনরায় শিবপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে। আসামীদের ভয়ে আতংকিত দিন যাপন করছে নিহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই-এর পরিবার।

শিবপুর থানার বিরাজনগর গ্রামের মৃত আব্দুল হাশিমের পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হাই (৬২) কে চলতি বছরের ২৬ মার্চ রাতে বাড়ির সামনে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। ঘটনার দিন রাতে সাড়ে ৯ টার দিকে বিরাজনগর বাজার থেকে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন আব্দুল হাই। এসময় পূর্ব থেকে ওঁৎপেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তাকে ধরে নিয়ে বাড়ির পাশের একটি জমিতে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে খুন করে পালিয়ে যায়।

এ হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে আব্দুল হাই-এর ছেলে রিমন মিয়া বাদী হয়ে শিবপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এতে আসামী করা হয় একই গ্রামের জাকির হোসেন, আমজাদ হোসেন, আব্দুল মান্নান, মোঃ জাহাঙ্গীরসহ অজ্ঞাত ৫/৬জনকে। শিবপুর থানার পুলিশ আসামী আমজাদ হোসেনকে গ্রেফতার করে ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দী প্রদান করে। অন্য আসামীদের গ্রেফতার না করায় বাদী পক্ষ মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তরের জন্য আবেদন জানালে কর্তৃপক্ষ মামলাটি সিআইডিতে প্রেরণ করে। এরপর নরসিংদী সিআইডির এস.আই ইউসুফ হাওলাদার মামলাটির তদন্ত শুরু করেন। ইতোমধ্যে তিনি মান্নান ডাক্তারকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। আমজাদ হোসেনের ১৬৪ ধারার জবানবন্দীতে জানা যায়, দুর্র্ধষ সন্ত্রাসী এককালে সর্বহারা দলের লিডার জেলখাটা দাগী আসামী শাহীন এ হত্যাকাণ্ডের মূল নায়ক।

অতঃপর সিআইডি পুলিশ জাহাঙ্গীর নামে আরেক আসামীকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়েও কোন তথ্য আদায় করতে পারেনি। শিবপুর উপজেলার বাঘাব ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তরুণ মৃধা জানান, কুখ্যাত সন্ত্রাসী শাহীনের ভয়ে এলাকাবাসীতো আতংকিত বটেই এমনকি তার মা বাবাও তার ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত। সে এলাকার কতিপয় গডফাদারদের সহযোগিতায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাকে ধরতে সাহস পাচ্ছে না। ফলে আদারতে হাজির হলে আদালত তাকে হাজতে প্রেরন করে এব্যাপারে এ প্রতিবেদক সিআইডির এসআই ইউসুফ হাওলাদার জানান, নিহত আব্দুল হাই একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তিনি এলাকাবাসীর অতি প্রিয়জন। তাকে সবাই ভালবাসে। তার হত্যাকারীদের গ্রেফতারের জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। কুখ্যাত শাহীন সহ আসামীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দাখিল করা হয়েছে। তাদের ধরার জন্য আমরা জোর তৎপরতা শুরু করেছি। এব্যাপারে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুনজর প্রার্থনা করছেন বাদী পক্ষ।