প্রেম নয়, বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নাহিদাকে নিষ্ঠুরভাবে এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে জাহেদুল

কক্সবাজার প্রতিনিধি – মহেশখালীতে মাদ্রাসাছাত্রীর ওপর হামলা ও ছুরিকাঘাতে ক্ষত-বিক্ষত করে হত্যাচেষ্টা মামলায় অভিযুক্ত প্রধান আসামি জাহেদুল ইসলামকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার ভোরে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ। গ্রেপ্তারকৃত জাহেদুল ইসলাম হরিয়ারছড়ার লোকমান হাকিমের পুত্র।

মহেশখালী থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জাহেদকে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে পাঠানো হবে।

তবে অভিযুক্ত জাহেদুল ইসলামেরর পিতা লোকমান হাকিম জানিয়েছেন ভিন্ন কথা। তিনি জানান, তার ছেলে জাহেদুল মঙ্গলবার বিকালে নিজেই মহেশখালী থানায় আত্মসমর্পণ করেছে। ওই সময় তিনিসহ স্থানীয় অনেক নেতৃবৃন্দও ছিলেন।

এদিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নাহিদার কাছ থেকে জবানবন্দি শেষে মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ প্রদীপ কুমার দাশ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ‘প্রেম নয়, বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে নাহিদাকে কুপিয়েছে জাহেদুল।’ আক্রান্ত নাহিদার বরাত দিয়ে এমনটাই জানান তিনি।

ওসি প্রদীপ বলেন, গত ১ বছর ধরে বখাটে জাহেদুল মাদরাসা ছাত্রী নাহিদাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। সর্বশেষ নাহিদার জন্য শাপলাপুর থেকে একটি বিয়ের প্রস্তাব যায় নাহিদার পরিবারের কাছে। এই খবর শুনার পর জাহেদুল আরো ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। এরই জের ধরে গত ২৫শে ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নাহিদা চাচার বাড়িতে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে তাকে কুপিয়ে জখম করে জাহেদুল।

coxbajar

ওসি প্রদীপ বলেন, এ ঘটনায় নাহিদার চাচা হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে গত ২৭শে ফেব্রুয়ারি ৭ জনের নামে একটি এজাহার করেন। এজাহারের ভিত্তিতে মামলা করা হয়েছে।

বর্তমানে নাহিদা কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেল (ওসিসি) তে ডা. লামারীর চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেল’র (ওসিসি) প্রোগাম অফিসার মো. শাহ্‌ জালাল বলেন, নাহিদার অবস্থা এখন আশঙ্কামুক্ত। খুব দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলে তিনি আশাবাদী। কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. লামারী বলেন, নাহিদার মাথায়, মুখে, বুকে ও শরীরের ৬টি জায়গায় জখম রয়েছে। তবে আঘাতগুলো ব্লেড বা কোনো ক্ষোর জাতীয় অস্ত্রের আঘাত বলে ধারণা করছেন। যা এক সপ্তাহের মধ্যে ভালো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপরও ভালোভাবে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

এদিকে হাসপাতালে নাহিদার দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা চাচী লুৎফুন্নেছা শেলী বলেন, তাদের দুজনের মধ্যে দীর্ঘ প্রায় ৪ বছর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু নাহিদার ইচ্ছে ছিল উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে জাহেদকে বিয়ে করে ঘর সংসার করার। কিন্তু, প্রেমিক জাহেদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা সম্ভব ছিল না। এ কারণে নাহিদার ওপর বারবার চাপ সৃষ্টি করে দ্রুত বিয়ে করার জন্য। এতে নাহিদার পরিবারের ছিল আপত্তি। তাই বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় প্রেমিকা নাহিদাকে জীবনে শেষ করার ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্ত নেন প্রেমিক জাহেদুল।

সর্বশেষ গত ২৫শে ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৬টার দিকে নাহিদার বাড়ির পাশে ওৎ পেতে থাকে প্রেমিক জাহেদুল। এ সময় নাহিদাকে কৌশলে বের করে আনে জাহেদুল। দু’জনের মধ্যে কথোপকথনের এক পর্যায়ে নাহিদাকে জাহেদুলসহ ৩ বখাটে কুপিয়ে পালিয়ে যায়।