লোন্দা-নোমরহাট আট কিঃ মিঃ সড়কের বেহাল দশা

জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী প্রতিনিধি: যানবাহনের চাকায় উঠে গেছে সিলকোট। ইটের খোয়াও নেই বললেই চলে। বালুর স্তর পর্যন্ত দেবে গেছে। হাল্কাসহ ভারি যানবাহন চলাচলে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় খানাখন্দের।

rasta

বোঝার উপায় নেই এ সড়কটি কখনও সিলকোট করা হয়েছে। এখন পুরো সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। বর্তমানে সড়কটিতে টমটম, ভ্যান, অটোসহ যাত্রীবহনকারী হোন্ডা চলাচল বন্ধের উপক্রম হয়েছে। উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের লোন্দা থেকে নোমরহাট পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার সড়কের এমন চরম বেহাল দশায় দুর্ভোগে পড়েছে ত্রিশ হাজার মানুষ।

স্থানীদের অভিযোগ, ২০০৭-২০০৮ অর্থ বছরে সড়কটি করার পরে আজ পর্যন্ত মেরামত করা হয়নি। তরমুজসহ ধানখালীর বিদ্যুৎ প্লান্টের মালামাল নিয়ে ছয় চাকার ভারি যানবাহন চলাচলে সড়কটি সম্পূর্ণভাবে ভেঙ্গে একাকার হয়ে গেছে। এখন স্কুলগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ সকল শ্রেণির মানুষ এ সড়কটিতে চলাচল করতে পারছেন না। ধুলাবালিতে জামা কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। বৃষ্টি হলে যোগাযোগ বন্ধ থাকে। কোথাও কোথাও হাটু সমান গর্ত হয়ে গেছে।

এলাকাবাসীর জানান, খুব শীগ্রই মেরামত না করলে তাদের সড়ক যোগাযোগ বন্ধের আশঙ্কা রয়েছে। টমটম চালক জাফর ও হোন্ডা চালক রহিম জানান, তাদের এখন যাত্রী টানার সুযোগ নেই। কৃষক হানিফ জানান, তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্য নিয়ে এখন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় সড়কটি ভেঙ্গে যাওয়ার কারনে। দুই এক জায়গায় আবার এতোটা বেশি ডেবে গেছে যে আগামী বর্ষা মৌসুমে অস্বাভাবিক জোয়ারের প্লাবনে প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। হাফেজপ্যাদার হাট সংলগ্ন দক্ষিন দিকে পানি ওঠা-নামার একটি ইনলেটসহ এমন বিপর্যয় ঘটতে পারে। এসব মানুষের অভিযোগ ছয় চাকার যানবাহন চলাচলে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটির সবচাইতে বেশি ক্ষতি হয়েছে।

তবে ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানকারী সংস্থার একাধিক সুত্র জানিয়েছে তারা লোন্দা থেকে হাফেজ প্যাদার কাছাকাছি টিয়াখালীর ব্রিজ পর্যন্ত সড়কটি মেরামত করবেন। বাকি ছয় কিঃ মিঃ অংশের কী হবে তা কেউ জানে না। যদিও এ আট কিলোমিটার বেড়ি বাঁধ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মাণ করা। যা পরবর্তীতে এলজিইডি বিভাগ পাকা করে। এলজিডির প্রকৌশলরা আদৌ এ বছর সড়কটি মেরামত করতে পারবে কী না তা জানাতে পারেননি। ফলে ধানখালীর সকল শ্রেণির মানুষের লোন্দা থেকে নোমরহাট সড়কটিতে চলাচলে দুর্ভোগ কবে লাঘব হবে তা তারা জানেন না।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ গাজী সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান, এ সড়কটি মেরামতের জন্য এলজিইডি কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে।