আগামী মাসেই প্রকাশ হবে দু’হাজার ৪২টি শূন্য পদের জন্য ৩৮তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি

সময়ের কণ্ঠস্বর: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও পিএসসি সূত্র জানিয়েছে, দুই হাজার ৪২টি শূন্য পদে সাধারণের জন্য ৩৮তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি প্রশ্ন অনুষ্ঠিতব্য এই বিসিএসে দুই হাজার অধিক ক্যাডার নিয়োগের সুপারিশ করা হবে। ইতিমধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ৩৮তম বিসিএসের শূন্য পদের তালিকা পেয়েছে কমিশন।

পিএসসির সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগস্টে নয়, এপ্রিলের মধ্যে সার্কুলার জারির পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু করেছে পিএসসি। ইতিমধ্যে ৩৮তম বিসিএসের শূন্য পদের উল্লেখযোগ্য তালিকা পাওয়া গেছে। আগামী বিসিএস থেকে বাংলার পাশাপাশি ইংরেজি প্রশ্ন প্রণয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে কমিশনের। কোটা পদ্ধতি শিথিল হওয়ায় পিএসসি কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছে। বর্তমানে প্রথম শ্রেণির চাকরিতে মাত্র ৪৫ শতাংশ পূরণ হয় মেধার ভিত্তিতে। বাকি ৫৫ শতাংশই পূরণ করা হয় কোটার ভিত্তিতে। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ, মহিলা কোটা ১০ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটা ৫ শতাংশ এবং জেলা কোটা বা সাধারণ কোটা ১০ শতাংশ।

pscপিএসসি সূত্রে জানা যায়, কোটা পদ্ধতি অনুসরণ করতে গিয়ে ২৮তম বিসিএসে ৯১টি, ২৯তম বিসিএসে ৪৫টি, ৩০তম বিসিএসে ৮৫টি, ৩১তম বিসিএসে ৩৬টি, ৩২তম বিসিএসে ১৩টি, ৩৩তম বিসিএসে প্রথম শ্রেণীর ৯১টি, দ্বিতীয় শ্রেণীর ৮৫টি এবং ৩৪তম বিসিএসে প্রথম শ্রেণীর ৬২টি ও দ্বিতীয় শ্রেণীর এক হাজার ২৪৬টি পদ শূন্য রয়েছে।

এদিকে, ৩৫তম বিসিএসের নন ক্যাডার নিয়োগে কোটাপদ্ধতি শিথিলের প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ অনুমোদন দেয়ায় ফলাফল প্রকাশের কার্যক্রম শুরু করেছে পিএসসি। চলতি মাসেই ৩৫তম বিসিএস নন-ক্যাডার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর ফলাফল প্রকাশ করা হচ্ছে। নন-ক্যাডার নিয়োগের বাইরে বর্তমানে পিএসসিতে ৩৬ ও ৩৭তম বিসিএসের পরীক্ষা চলছে। এর মধ্যে ১২ মার্চ থেকে ৩৬তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। গত বছরের ১৭ আগস্ট ৩৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ৫ হাজার ৫৩৩ জন উত্তীর্ণ হন। এর মধ্যে ২ হাজার ১৫৮ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের সুপারিশ করা হলেও পদস্বল্পতার কারণে ৩ হাজার ৩৫৯ জনকে নন-ক্যাডারের জন্য রাখা হয়। গত নভেম্বরে নন-ক্যাডারে নিয়োগের জন্য প্রথমবারের মতো অনলাইনে আবেদনপত্র নেয়া হয়েছে। ২ হাজার ৬২৬ জন এতে আবেদন করেছেন। টেকনিক্যালসহ ২হাজার ৫শ মতো নন-ক্যাডার প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর পদে নিয়োগের সুপারিশ করতে পারবে কমিশন। প্রথম শ্রেনীর নন-ক্যাডার পদে ৬২৫টি মতো পদের চাহিদা পেয়েছে পিএসসি। এর মধ্যে সাব-রেজিস্ট্রার, পাসপোর্টের সহকারী পরিচালক, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক, কলখানার সহকারী মহাপরিদর্শক, সমাজসেবা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা পদ রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রথম শ্রেনীর পদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। কমিশনের অনুমোদন পেলে প্রথম শ্রেনীর মেধা তালিকা করে দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করা হবে। এরপর দ্বিতীয় শ্রেনীর ফলাফল প্রস্তুত করবে পিএসসি। দ্বিতীয় শ্রেনীর পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য এনবিআর, মাধ্যমিকের সহকারী শিক্ষক পদের চাহিদা এসেছে। তবে মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ শর্ত অনুযায়ী ৩৫তম বিসিএসের ফলাফল প্রস্তুত করা হচ্ছে। শর্ত পূরণ না হলে ৩৬তম বিসিএস থেকে নন-ক্যাডার পদে নিয়োগের সুপারিশ করা হবে।

জানা গেছে ৩৫তম বিসিএসের নন-ক্যাডার পদের ফলাফল দেয়ার জন্য কমিশন কাজ শুরু হয়েছে। কবে নাগাদ ফলাফল প্রকাশ করা হতে পারে তা সুস্পষ্ট করে জানা যায় নি ।