সরে দাঁড়ালেন ট্রাম্পের অ্যাটর্নি জেনারেল, মানতে নারাজ ডেমোক্রেট সদস্যরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, সময়ের কণ্ঠস্বর . মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনস চাপের মুখেও অবিচল থেকে নিজেকে রাশিয়ান সংযোগের অভিযোগের ক্ষেত্রে এফবিআই’র তদন্ত থেকে প্রত্যাহার করে নিতে পেরেছেন। কিন্তু এ কথা মোটেও মেনে নিতে পারছে না দেশটির ডেমোক্রেট দলের সদস্যরা।

এক বিবৃতিতে সেশন বলেন, ‘আমেরিকার প্রেসিডেন্টের জন্য প্রচারণা চালানোর ব্যাপারে বিদ্যমান বা ভবিষ্যতের কোন ধরণের তদন্ত থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।’

তাদের দাবি গত বছর হোয়াইট হাউজ দৌড়ের সময় মস্কোর রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কারণে তাকে অবশ্যই পদত্যাগ করা উচিত। ক্রেমলিনের হস্তক্ষেপেই ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির প্রেসিডেন্ট হতে পেরেছেন বলেও মন্তব্য তাদের।

এদিকে দেশটির শীর্ষ আইনজীবীরা বলেন, তিনি মিথ্যা বলেননি- গত জানুয়ারিতে মার্কিন নির্বাচনে কথিত রাশিয়ান অনধিকারচর্চা বিষয়ক শুনানিতে ‘রাশিয়ার সঙ্গে কোন ধরণের সংযোগ হয়নি’ বলে সাক্ষ্য দেন তিনি।

josef with logo

এর আগে নির্বাচনী প্রচারণার সময় জেফ সেশনসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত রাশিয়ার দূত সেগের্ই কিসলিয়াকের সরাসরি বৈঠক হয়েছিল, সেই খবরটি ফাঁস করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট। পত্রিকাটির রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছে, গত সেপ্টেম্বরে নির্বাচনী প্রচারণা যখন তুঙ্গে, তখন তত্কালীন সিনেটর জেফ সেশনস তাঁর অফিসে এক ব্যক্তিগত বৈঠক করেন কিসলিয়াকের সঙ্গে।

এছাড়া গত গ্রীষ্মেও তাদের আরেকবার কথা হয়েছিল। জেফ সেশনস এই বৈঠক করেছিলেন এমন এক সময়ে, যখন তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছিলেন তার একজন মুখপাত্র হিসেবে। অথচ অ্যাটর্নি জেনারেল নিযুক্ত হওয়ার আগে সিনেটে যখন তার শুনানি চলছিল, তখন এরকম কোন বৈঠকের খবর তিনি অস্বীকার করেছিলেন।

প্রশঙ্গত রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্প ও তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের কথিত যোগাযোগ নিয়ে তদন্ত করছে এফবিআই। আর সেশনসের অধীনেই ওই সংস্থা। ফলে তিনি পদে বহাল থাকলে তদন্তও বাধাগ্রস্ত হবে—এই আশঙ্কা থেকেই সরে দাঁড়ানের ঘোষণা দেন ট্রাম্পের নিয়োগ করা অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনস।

আলাবামা অঙ্গরাজ্যের সিনেটর জেফ সেশনস ৮ ফেব্রুয়ারি সিনেটের ভোটাভুটিতে কোনোমতে উতরে যান। তাঁর পক্ষে ৫২ ভোট ও বিপক্ষে ৪৭ ভোট পড়ে। একজন বাদে ডেমোক্র্যাট সিনেটরদের সবাই জেফের বিপক্ষে ভোট দেন। পরদিন শপথ নেন তিনি।
মানবাধিকার ইস্যুতে জেফের অতীতের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আফ্রিকান আমেরিকান ও অন্য সংখ্যালঘুদের সঙ্গে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।