পাইলসের ব্যথা প্রশমনে ঘরোয়া কয়েক কার্যকর টিপস

স্বাস্থ্য ডেস্ক, সময়ের কণ্ঠস্বর . অর্শ হিসেবে পরিচিত এই রোগের ব্যথা উপশম ও আরামের জন্য খাদ্যাভ্যাসে নিয়ে আসতে হবে পরিবর্তন। স্বাস্থ্যবিষয়ক এক ওয়েবসাইটের দেয়া তথ্য মতে, শ্রোণিচক্রের নিচের অংশ ও পায়ুপথের বাইরের বা ভেতরের রক্তনালীতে প্রদাহ বা ফুলে যাওয়াকে বলা হয় পাইলস বা ‘হেমারয়েডস’।

জটিলতা তীব্র আকার ধারণ করলে রক্তপাত হতে পারে। আর অবহেলার কারণে দীর্ঘমেয়াদি রক্তক্ষরণ, কোষ মরে যাওয়া, এমনকি পায়ুপথে কিংবা অন্ত্রে ক্যান্সারও হতে পারে

অর্শ বা পাইলস কেন হয় (অর্শের কারণসমূহ):

অর্শের সঠিক কারণ জানা না গেলেও নিম্নলিখিত বিষয়সমূহ অর্শ হওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখেঃ
১. দীর্ঘমেয়াদী কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া
২. শাকসব্জী ও অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার এবং পানি কম খাওয়া
৩. শরীরের অতিরিক্ত ওজন
৪. গর্ভাবস্থা
৫. লিভার সিরোসিস
৬. মল ত্যাগে বেশী চাপ দেয়া
৭. অতিরিক্ত মাত্রায় লেকজেটিভ (মল নরমকারক ওষুধ)ব্যবহার করা বা এনেমা (শক্ত মল বের করার জন্য বিশেষ
তরল মিশ্রণ ব্যবহার করা) গ্রহণ করা
৮. টয়লেটে বেশী সময় ব্যয় করা
৯. বৃদ্ধ বয়স
১০. পরিবারে কারও পাইলস থাকা
১১. ভার উত্তোলন, দীর্ঘ সময় বসে থাকা ইত্যাদি।

অর্শ বা পাইলস কিভাবে বুঝব (অর্শের লক্ষণসমূহ):

i) মলদ্বারের অভ্যন্তরে হলে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারেঃ

১. পায়খানার সময় ব্যথাহীন রক্তপাত হওয়া
২. মলদ্বারের ফোলা বাইরে বের হয়ে আসতে পারে, নাও পারে। যদি বের হয় তবে তা নিজেই ভেতরে চলে যায় অথবা হাত দিয়ে ভেতরে ঢুকিয়ে দেয়া যায়। কখনও কখনও এমনও হতে পারে যে, বাইরে বের হওয়ার পর তা আর ভেতরে প্রবেশ করানো যায় না বা ভেতরে প্রবেশ করানো গেলেও তা আবার বের হয়ে আসে
৩. মলদ্বারে জ্বালাপোড়া, যন্ত্রণা বা চুলকানি হওয়া
৪. কোন কোন ক্ষেত্রে মলদ্বারে ব্যথাও হতে পারে।

ii) মলদ্বারের বাইরে হলে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারেঃ

১. মলদ্বারের বাইরে ফুলে যাওয়া যা হাত দিয়ে স্পর্শ ও অনুভব করা যায়
২. কখনও কখনও রক্তপাত বা মলদ্বারে ব্যথাও হতে পারে।

 

Screenshot_9পাইলসের ব্যথা কমানোর এবং রোগ নিরাময়ের রয়েছে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি।

আঁশে ভরা খাদ্যাভ্যাস: শাক-সবজি, ভেষজ খাবার, ফলমূল, অপ্রক্রিয়াজাত সিরিয়াল ইত্যাদি খেলে মল নরম হয়, ফলে এর নিঃসরণও সহজ হয়। এতে পাইলসের কারণে পায়ুপথে হওয়া জ্বালাপোড়া ও ব্যথা কমে।

ঘোল: পাইলসের ব্যথা কমাতে দিনে দুবার লবণ, আদা ও গোলমরিচ মেশানো ঘোল পান করতে পারেন। এছাড়া করলার শরবত ঘোলের সঙ্গে মিশিয়েও খেতে পারেন। তবে পান করতে হবে সকালে খালি পেটে।

বীজ: রক্তপাত কমাতে আধা কাপ ছাগলের দুধে এক চা-চামচ সরিষা বীজ মিশিয়ে পান করতে পারেন। স্বাদ বাড়াতে চিনিও যোগ করা যেতে পারে। খালি পেটে পান করতে হবে। এছাড়াও আমের আঁটি-গুঁড়ার সঙ্গে মধু যোগ করে দিনে দুইবার এক চা-চামচ পরিমাণ খেতে পারেন।

হলুদ: হলুদে রয়েছে অ্যান্টিসেপটিক ও ক্ষতস্থান সারিয়ে তোলায় সহায়ক উপাদান। সদ্য ভাঙিয়ে আনা হলুদের গুঁড়া এক চা-চামচ, আদা ও লেবুর রস, পুদিনা-পাতা এবং মধু একসঙ্গে মিশিয়ে নিতে হবে। দিনে দুতিনবার মিশ্রণটি এক চা-চামচ পরিমাণ খেতে পারেন।

দই: ‘প্রোবায়োটিক’ বা শরীরের জন্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া ‘গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টিনাল’ অর্থাৎ পাকস্থলী, ক্ষুদ্রান্ত ও বৃহদান্ত- পর্যন্ত নালীগুলোকে সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। তাই প্রতিদিন এক কাপ পরিমাণ দই খাওয়া পাইলস রোগীদের জন্য উপকারী।

কি খাব না (অর্শ বা পাইলস রোগে বর্জনীয় কিছু খাবার):

খোসাহীন শস্য, গরু, খাসি ও অন্যান্য চর্বিযুক্ত খাবার, মসৃণ চাল, কলে ছাঁটা আটা, ময়দা, চা, কফি, চীজ, মাখন, চকোলেট, আইসক্রীম, কোমল পানীয়, সব ধরণের ভাজা খাবার যেমনঃ পরোটা, লুচি, চিপস ইত্যাদি।