কবর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি কথা বলছেন এই মানুষটি!

চিত্র বিচিত্র ডেস্ক, সময়ের কণ্ঠস্বর –

কোন মানুষই মরতে চায় না, আর জীবন্ত কবরে কি যেতে চাইবে? নিশ্চয়ই না।

তবে এর মধ্যে আবার কেউ কেউ আছেন ব্যতিক্রম। যেমন আয়ারল্যান্ডের রাজধানী ডাবলিনের বাসিন্দা জন এডও্যারডস। তিনি স্বেচ্ছায় তিন দিন তিন রাতের জন্য তিন ফুট গভীর কবরে বাস করতে চলে গেছেন। এর মধ্য দিয়ে হতাশাগ্রস্থ মানুষকে হতাশা থেকে বের করে আনাই নাকি তার লক্ষ্য।

৬১ বছর বয়সী জন এখন কফিনে আবদ্ধ অবস্থায় ঈস্ট বেলফাস্টের উইলিফোল্ড গির্জায় সমাধিস্থ আছেন। কফিনটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে তিনি কবরে বসেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি সম্প্রচার করতে পারেন। কাঠের কফিনটি সাধারণ যে কোনো কফিনের চাইতে বেশি খোলামেলা। এটি আট ফুট লম্বা, সাড়ে তিন ফুট উচু এবং চার ফুট প্রশস্ত। এতে আছে একটি চলন্ত টয়লেট, আরো আছে পাইপের সাহায্যে বাতাস চলাচল ও খাদ্য সরবরাহের ব্যবস্থা।

এখান থেকেই আগামী তিন দিন তিনি কবর থেকে মানুষকে ”আশার বাণী” শোনাবেন। ইতিমধ্যেই জন পৃথিবী থেকে ফোন কল, টেক্সট মেসেজ ও ই-মেইল পেতে শুরু করেছেন। বেলফাস্ট টেলিগ্রাফ পত্রিকাকে তিনি বলেন, আমার পরিকল্পনা হচ্ছে, কবরে আসার আগেই মানুষকে কবর থেকে কথা শোনানো এবং তাদের আশার আলো দেখানো।

kobor-live

জন বলেন, আমার বদ্ধতাভীতি নেই, তবে কফিনের ওপর যখন উপর থেকে ঝুর ঝুর করে মাটি পড়তে থাকে, তখন কেমন যেন লাগে।

অবশ্য জনের এটাই প্রথম কবরে যাওয়া নয়, গত বছরও তিনি একই কাজ করেছেন, সেটা ইংল্যান্ডে।

জন প্রথম জীবনে ছিলেন মাদকসেবী। করেছেন অবাধ যৌনাচার, ভুগেছেন মানসিক রোগে, হয়েছেন গৃহহীন। অতিমাত্রায় মাদকের ডোজ নিয়ে ক’বার মরতেও যাচ্ছিলেন। পরে তার ভেতরে পরিবর্তন আসে। তার ভাষায়, ২৭ বছর আগে ”ঈশ্বরের সঙ্গে অবিশ্বাস্য যোগাযোগ” হয় তার। এর পর তিনি ধর্মকর্ম ও সমাজসেবার দিকে মন দেন। প্রতিষ্ঠা করেন বেশ-ক’টি ক্রিশ্চিয়ান রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার ও হোমলেস শেল্টার। মাদক সেবনজনিত কারণে জন ইতিমধ্যে হারিয়েছেন ২০ জনেরও বেশি বন্ধুকে। তাদের কেউ কেউ হতাশা থেকে আত্মহত্যা করেছে। আর এখন তিনি দুঃখী ও হতাশ মানুষকে আশার বাণী শোনান, তাদের জন্য প্রার্থনা করেন।

পুরো ব্যাপারটার মধ্যে এক ধরনের লোকদেখানো ভাব আছে – এ কথা স্বীকার করেও জন বলেন, এর ভেতর সিরিয়াস মেসেজও কিন্তু আছে। সূত্র : বিবিসি