নব্য জেএমবির ‘আধ্যাত্মিক নেতা’ ৭ দিনের রিমান্ডে

সময়ের কণ্ঠস্বর – গ্রেফতার হওয়া নব্য জেএমবির আধ্যাত্মিক নেতা আবুল কাশেমের সাত দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুক্রবার মূখ্য মহানগর হাকিম আদালতে তাকে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম। শুনানি শেষে আদালতের বিচারক সত্যব্রত শিকদার সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর সেনপাড়া পর্বতা এলাকা থেকে কাসেমকে (৬০) গ্রেফতার কর হয় বলে জানিয়েছেন পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। শুক্রবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের একথা জানানো হয়।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কাসেমের বাড়ি কুড়িগ্রাম। তিনি দিনাজপুরের রানীরবন্দর এলাকার একটি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ছিলেন। নব্য জেএমবির আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে ২০১৫ সালে তার নাম জানতে পারে পুলিশ। তার আরেক নাম শায়েখ আবু মোহাম্মদ আইমান হাফিজুল্লাহ। তাকে সংগঠনের সবাই বড় হুজুর বলে ডাকতেন।

kashem-neta

মনিরুল আরো বলেন, তার দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তারপর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান বলেন, জেএমবির শীর্ষ নেতা মাওলানা সাইদুর রহমান ২০১০ সালে গ্রেফতার হন। এরপর কাসেম জেএমবির বিদ্রোহী অংশের (নব্য জেএমবি) আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি তার নিজস্ব মনগড়া ধর্মীয় মতবাদ দিয়ে নব্য জেএমবিকে হিংস্র করে তোলেন।

মনিরুল বলেন, নব্য জেএমবির শীর্ষস্থানীয় নেতা তামিম চৌধুরী ২০১৩ সালে কানাডা থেকে আসার পর রাজশাহীতে যে বৈঠক করেছিলেন, সেখানে কাসেম উপস্থিত ছিলেন। গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়ার পর তার কাছ থেকে কাসেমের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়। তবে জাহাঙ্গীরের দেয়া ঠিকানায় গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। সর্বশেষ নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী চক্রের প্রধান মো. মিজান ওরফে বড় মিজান গ্রেফতারের পর কাসেমের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।