এই খাবারগুলো আপনার অনিদ্রার জন্য দায়ী

লাইফ স্টাইল ডেস্ক, সময়ের কণ্ঠস্বর . সকলেই এতো বেশি সৌভাগ্যবান নয় যে, ঘুমাতে গেলেই ঘুম এসে পড়ে। অনেকে বালিশে মাথা রাখার সাথে সাথে ঘুমের দেশে পাড়ি জমান। আবার অনেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিছানায় শুয়ে থেকেও ঘুমাতে পারেন না।

আবার অনেকের হঠাৎ করে মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে যাবার সমস্যা রয়েছে। এর পেছনে বিভিন্ন ধরণের কারণ থাকতে পারে। যেমন- স্ট্রেস, ডিপ্রেশন, অন্তর্বর্তী শারীরিক দুর্বলতা ইত্যাদি।

আসুন জেনে নেই খাবারগুলি কি –

চকোলেটঃ

মিল্ক চকোলেট বা চকোলেটে থাকা রাসয়নিক হার্ট বিট বাড়িয়ে তোলে। তার ফলে ঘুম আসতে চায় না।

মশলাদার খাবারঃ

মরিচ বা সর্ষে বাটা দেয়া খাবার রাতে না খাওয়াই ভালো। মরিচ আর সর্ষে শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। রসুনকে ‘হট হার্ব’ বলা হয় যা খেলে গ্যাস্টিক আর বুক জ্বালার সমস্যা হতে পারে।

গ্রিন টিঃ

যদিও গ্রিন টির অনেক উপকার আছে কিন্তু ঘুমের খুব ক্ষতি করে গ্রিন টি। তার জন্য দায়ী গ্রিন টি-তে থাকা রাসায়নিক।

আইসক্রিম/ডেজার্টঃ

রাতে আইস ক্রিম বা অন্য কোন ডেজার্ট এড়িয়ে চলা উচিত। এতে হাই ফ্যাট আর প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকে। তাই ঘুমুতে যাওয়ার আগে খেলে আপনার শরীর ফ্যাট বার্ন করে উঠতে পারবে না ফলে আপনি রেস্টলেস হয়ে উঠবেন। এছাড়া শুতে যাওয়ার আগে এসব খাবার খেলে ঘুম গাঢ় হবে না।

চিকেন (প্রোটিন)

চিকেনে হাই প্রোটিন আছে, তাই রাতের খাবারে যদি চিকেন খান বা যে কোনও হাই প্রোটিন খাবার খান তাহলে শরীরে প্রচুর এনার্জি তৈরি হবে। তাতে শরীর শান্ত হওয়ার বদলে উত্তেজিত হয়ে যাবে। এছাড়া হাই প্রোটিন আর ফ্যাট যুক্ত ডায়েটের জন্য ঘুমের সময় নানারকম শারীরিক সমস্যা হয়।

চিজঃ

চিজে থাকা রাসায়নিক ব্রেনকে স্টিমুলেট করে আর আপনাকে সারা রাত জাগিয়ে রাখতে পারে। কারো কারো মাইগ্রেনের সমস্যাও দেখা দিতে। ঘুমোতে যাওয়ার তিন ঘণ্টা আগে অন্তত ডিনার সেরে ফেলার চেষ্ট করুন।

ওয়াইনঃ

ওয়াইন খেলে খুব তাড়াতাড়ি ঘুম চলে আসে কিন্তু একটু পরে মাথাব্যথা, প্রচণ্ড ঘাম, হতে শুরু করবে। তাই যদি ওয়াইন খেতেই হয় তাহলে ঘুমোতে যাওয়ার অন্তত ৬ ঘণ্টা আগে তা পান করুন। আর প্রচুর পানি খান যাতে ওয়াইনের এফেক্ট দূর হয়ে যায়।

Screenshot_16

প্রতিদিন খাবারের তালিকায় রাখুন এই খাবার গুলো

১. প্রতিদিন সকালের নাস্তায় অবশ্যই একটি ডিম রাখুন। ডিমে এক প্রকার অ্যামাইনো এসিড রয়েছে যা আপনার শরীরের নিউরোনকে একটিভেট করে অরেক্সিন বৃদ্ধি করে। এর ফলে দিনের বেলা আপনার ঘুম ঘুম ভাব বজায় থাকতে পারে এবং রাতে খুব ভাল ঘুম হবে।

২. আপনার যদি খাদ্য তালিকার পছন্দের লিস্টে শরবৎ থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই চেরি-ফলের শরবৎ পান করার অভ্যাস করুন। এতে আপনি রাতে গভীর ঘুমে আচ্ছাদিত থাকবেন। তাই, অবশ্যই নিয়মিত এক গ্লাস চেরিফলের শরবৎ পান করার অভ্যাস করুন।

৩. ভাত আপনার ওজন বৃদ্ধি করবে তা চিন্তা করে অবশ্যই ভাত খাওয়া ত্যাগ করবেন না। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অল্প করে হলেও অবশ্যই ভাত রাখবেন। আপনি যদি সবসময় ভালভাবে ঘুমাতে চান, তাহলে অবশ্যই ভাত খাবেন। ভাতে উচ্চ পরিমাণে গ্লাইকেমিক ইনডেক্স বিদ্যামান। এটি শরীরে ট্রিপ্টোফ্যান এর পরিমাণ বৃদ্ধি করে ঘুম আনয়নে সাহায্য করে।

যাদের ঘুমে সমস্যা রয়েছে তারা উপরিউক্ত এই তিনটি উপায় অবলম্বন করে দেখতে পারেন। এতে আপনাদের ঘুমের সমস্যা লাঘব হবে বলে আশা করি।

রাতের ঘুম উধাও হওয়ার কারণ লুকিয়ে থাকতে পারে দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসের মধ্যেই। দীর্ঘদিন ধরেই হয়তো আপনি এ সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু সমস্যার সূত্রটা ধরতে পারছেন না। প্রতিদিনের যে সব অভ্যাস আপনার ঘুম কেড়ে নেয় জেনে নিন সে সম্পর্কে। ঘুমের ওষুধ না খেয়ে কেবল জীবনযাপনের ধরন পাল্টেই রাতে শান্তির ঘুমে সহায়ক হতে পারে এই পরামর্শ।

খাওয়ায় অনিয়ম
সকালে দেরি করে নাশতা করা, মাঝে মধ্যেই দুপুরের খাবার না খাওয়া আর রাতে একেক দিন একেক সময়ে খাওয়া। নগরজীবনে এই রকম উল্টোপাল্টা খাবারের রুটিন কেবল রাতের ঘুম নয়, ঝুঁকিতে ফেলতে পারে আপনার স্বাস্থ্যকেই। খাবারের সময় ঠিক করুন। প্রতিদিন একই সময়ে খাওয়ার অভ্যাস করুন। বিশেষত রাতের খাবারের সময় নিয়ে সতর্ক হন। ঘুমাতে যাওয়ার অন্ততপক্ষে ২/৩ ঘণ্টা আগেই রাতের খাওয়া সেরে নিন।

মুখের পরিচ্ছন্নতা
রাতে খাওয়ার পরই দাঁত মেজে ভালো করে মুখ ধুয়ে নিন। এটা ঘুমাতে যাওয়ার ঠিক আগে আগে না হলেই ভালো। আমরা অনেক সময় মুখ সজীব রাখতে পিপারমিন্ট জাতীয় কিছু চিবিয়ে নিই। কিন্তু এটা ঝামেলা ডেকে আনতে পারে। পিপারমিন্টের কারণে মস্তিষ্কে যে প্রতিক্রিয়া হয় তা আপনাকে জেগে থাকতে সাহায্য করতে পারে। ফলে রাতে মুখ ধুয়ে ফেলার পর এমন কিছু না চিবানোই ভালো। আর যদি তা করতেই হয় তাহলে পিপারমিন্ট ছাড়া স্ট্রবেরি বা অন্য কোনো ফ্লেভার চেষ্টা করা যেতে পারে।

পড়ার অভ্যাস
রাতে পড়তে পড়তে ঘুমাতে যাওয়া অনেকেরই অভ্যাস। এটা নানা দিক থেকেই ভালো। কিন্তু মুশকিল হলো রাতে ঘুমানোর আগে কি পড়বেন। ছুটির দিনের আগে কিছুটা রাত জেগে পড়া ভিন্ন কথা। কিন্তু সকালে অফিস থাকলে? বুদ্ধিবৃত্তিক উত্তেজনা তৈরি করে এমন কিছু পড়তে গেলে আপনার ঘুম উধাও হয়ে যেতে পারে। ফলে, বিছানায় শুয়ে হালকা কিছু পড়ুন। বিনোদন পত্রিকা কিংবা হালকা গল্প-উপন্যাস জাতীয় কিছু। অর্থাৎ আপনার বিশেষ আগ্রহ জাগে না এমন কিছুই পড়ুন। তাতে ঘুম নষ্ট হবে না।

ধূমপান
অনেক ধূমপায়ীরই প্রিয় অভ্যাস রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে একটা সিগারেট খেয়ে নেওয়া। কিন্তু মস্তিষ্কে নিকোটিনের প্রভাবের কারণে আপনার ঘুমের বারোটা বেজে যেতে পারে। ধূমপান যদি ছাড়তে না পারেন তাহলে অন্তত রাতে ঘুমাতে যাওয়ার ঘণ্টাখানেক আগেই শেষ সিগারেটটা খেয়ে নিন। নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করুন যে কোনোভাবেই এরপর আর সিগারেট খাওয়া যাবে না। অনেকেই এই কারণে রাতে বাড়ি ফেরার সময় সিগারেট নিয়ে ফেরেন না বা বাড়িতে সিগারেট রাখেন না।

ফ্রিজের ঠান্ডা পানি
রাতের খাবার খেয়ে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস ঠান্ডা পানির তৃষ্ণা হতেই পারে। এতে শরীর জুড়োয় ঠিকই কিন্তু মস্তিষ্কও চাঙা হয়ে ওঠে। আর শরীর জুড়ানোর কারণেই দেহ নিজেকে আবারও উষ্ণ করে তুলতে নতুন করে তাপ সঞ্চার করতে শুরু করে। ফলে আপনার ঘুম পিছিয়ে যেতে পারে। এ কারণে রাতে আর ঠান্ডা পানি খাবেন না। তবে, ঘুমাতে যাওয়ার খানিকটা আগে হাত-মুখ ধুয়ে পরিচ্ছন্ন হয়ে বিছানায় যান।