‘পুলিশ পরিকল্পিত ভাবে খুন করেছে’ এমনই দাবী বন্দুকযুদ্ধে নিহত খুইল্যা মিয়ার স্ত্রীর

মহেশখালী প্রতিনিধি, সময়ের কণ্ঠস্বর : মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়নের কেরুনতলী পাহাড়ী এলাকায় কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত খুইল্যা মিয়াকে (৪০) পুলিশ ‘পরিকল্পিত’ ভাবে খুন করেছে! এমনই দাবী নিহতের স্ত্রী শাহেনা আক্তারের ।

তিনি শুক্রবার রাতে কক্সবাজার শহরের পালংকি হোটেলের রেষ্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনে এই সব বক্তব্য তুলে ধরেন।

খুইল্যা মিয়া একজন লবণ ও পান চাষী দাবি করে তাঁর স্ত্রী দাবি করেন , ‘আমার সামনে থেকেই ভাত খাওয়া থেকে তুলে লুঙ্গি পরা অবস্থায় আমার স্বামীকে সিভিল পোষাকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। ধরে নিয়ে যাওয়ার পর প্রায় ৩ ঘন্টা মহেশখালী থানায় বসিয়ে রেখে পরে তাকে মাথায় মুখোশ পরিয়ে পুলিশ সদস্যরা আমার স্বামীকে হোয়ানকের কেরুনতলী এলাকায় নিয়ে যায়। ওখানেই তাকে ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে।’

 screenshot gun shotস্ত্রী শাহেনা আক্তার জানান, লবণ জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ ফেরদৌস ও মীর কাসেম বাহিনীর ‘কণ্টাক্ট’ (বিপুল অর্থে ম্যানেজ হয়ে) করে তার স্বামীকে পুলিশ নৃশংসভাবে হত্যা করেছে।

সাংবাদিক সম্মেলনে শাহেনা আক্তার লিখিত বক্তব্যে জানান, শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে বড় মহেশখালী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মাঝের ডেইল এলাকায় বাড়ি ঘিরে সাদা পোশাকে তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করে মহেশখালী থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে কোন অবৈধ অস্ত্র ও গুলি পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সাংবাদিকরাও থানায় গেলে তার স্বামীকে গ্রেপ্তারের কথা পুলিশ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে তাদের ফিরিয়ে দেন।

তিনি প্রশ্ন তুলেন, অস্ত্র কারিগর কিংবা অস্ত্র ব্যবসায়ী না হয়ে তার স্বামীকে যেভাবে বিচারবহিভূত ভাবে হত্যা করা হয়েছে তার দায় কে নেবেন? একই সাথে তিনি তার ২ পুত্র ও ২ কন্যা ৭ম শ্রেণীর ছাত্র মোহাম্মদ সোহেল (১৫), মোহাম্মদ রুবেল (১২), ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী রুমা আক্তার (১০) ও সুমা আক্তারের (২) দায়িত্ব কে নেবেন এই প্রশ্নও ছুড়ে দেন গৃহবধূ শাহেনা আক্তার।

এই ব্যাপারে জানতে মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশের মোবাইলে রাত সোয়া ৯টার দিকে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তার অফিসিয়াল মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়। রাত ১০টার দিকে একই মোবাইলে চেষ্টা করলে ফোন খোলা পাওয়া যায়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।