‘পাকিস্তানি হানাদারদের মতো পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে বিএনপি’

সময়ের কণ্ঠস্বর- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একাত্তরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যেমন বাংলাদেশের মানুষের ওপর পাশবিক নির্যাতন করেছিল, তেমনি ক্ষমতায় এসে বিএনপিও এ দেশের মানুষের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহিলা আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

SHEIKH_HASINAপ্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দেশবাসীর ওপর নির্যাতন চালানো হয়। ২০০১ সালেও বিএনপি ক্ষমতায় এলে তাদের নির্যাতনের ভয়াবহতা বাড়ে। পাকিস্তানি বাহিনী যেভাবে নির্যাতন চালিয়েছে, ঠিক সেইভাবে তারা নির্যাতন করেছে। ১০ বছরের শিশু থেকে ৬৫ বছরের নারীরা তাদের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। বিএনপি নির্যাতন চালিয়েছে সারা দেশের মানুষের ওপর।

তিনি বলেন, তাদের অত্যাচারে কত মানুষ জীবন দিয়েছে। ২০১৩, ১৪, ১৫তেও তারা একই কায়দায় নির্যাতন করেছে। চলন্ত গাড়িতে আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে মেরেছে। আগুনে দগ্ধ ব্যক্তিরা এখনো সেই যন্ত্রণা ভোগ করছেন।

দীর্ঘ বক্তব্যে বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন এবং সার্বিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকারের নানা প্রকল্পের বর্ণনা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতির মূল কাজটা হচ্ছে গ্রামে টাকা দেয়া। সেখানে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়া। এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদী না থাকে সে দিকে লক্ষ্য রেখে নানা কর্মসূচি নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি বলেই আজকে বাংলাদেশে পাঁচ কোটি মানুষ নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্তে উঠে এসেছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আসার পরেই দারিদ্র্যের হার কমতে শুরু করেছে। মাঝখানে বিএনপি আসার পর পাঁচ বছর এবং তত্ত্বাবধায়কের দুই বছর-এই সাত বছর দারিদ্র্যবিমোচন থমকে ছিল। পরে ২০০৯ সালে আমরা যখন সরকারে আসি তখনও দারিদ্র্যের হার আমরা পেয়েছিলাম ৫০ ভাগের কাছাকাছি। সেখান থেকে আট বছরের মধ্যে দারিদ্র্যের হার কমিয়ে ২২ ভাগে নিয়ে এসেছি। এবং আমরা আরও কমাবো।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য কোনো মানুষ দরিদ্র্য থাকবে না। দারিদ্র্যের হাত থেকে মানুষকে মুক্তি দিতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘রাজনীতি করতে এসেছি জনগণের জন্য। নিজের ভাগ্য গড়ার জন্য না, ব্যবসা করার জন্য না। দারিদ্র্য হ্রাস পেলে ব্যবসা করে বড়লোক হওয়ার জন্য বিত্তশালী হওয়ার জন্য আসি নাই। এসেছি মানুষকে দারিদ্র্যমুক্ত করতে। এসেছি জনগণের সেবা করতে, জনগণের কল্যাণ করতে, জনগণকে সুন্দর জীবন দিতে। যার কারণে দেশের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নতি হচ্ছে।’