‘৫০ বছর পরে মুসলমানদের দখলে যাবে বিশ্ব’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক- বিশ্বখ্যাত সমীক্ষা সংস্থা পিউ রিসার্চ সেন্টার তাদের প্রতিবেদনে দেখিয়েছে, ২০৭০ সালে কেমন হবে বিশ্বের জনসংখ্যার চিত্র। সেখানে বলা হয়, ৫০ বছর পরে বিশ্ব মুসলমানদের দখলে যাবে। সমীক্ষায় বলা হয়, ৫৩ বছর পর পৃথিবীতে ইসলাম ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা হবে সবচেয়ে বেশি। গতকাল শুক্রবার এ খবর দেয় দ্য টেলিগ্রাফ।

এদিকে এনডিটিভি জানিয়েছে, একই সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ২০৫০ সালে বিশ্বের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হবে ভারত।

2017-03-02-19-india-muslim-02-03-17মার্কিন ওই সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনসংখ্যার দিক দিয়ে পৃথিবীতে সব থেকে বেশি মানুষ হবে ইসলাম ধর্মাবলম্বী। এখন যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে এই ধারা চলতে থাকলে এ শতাব্দীর শেষের দিকে খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীর থেকে ইসলাম ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা বেশি হবে।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইউরোপসহ বিশ্বের বহু অঞ্চলে আগামী বছরগুলোয় দ্রুত ইসলাম ধর্মের অনুসারী লোকের সংখ্যা বাড়তে থাকবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোটা পৃথিবীতেই অন্যান্য ধর্মের তুলনায় দ্রুত হারে বাড়ছে মুসলিম জনসংখ্যা। অন্যদিকে খ্রিস্টান জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার প্রায় থমকে গেছে। ওই সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, খ্রিস্টানদের মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণের হার যতটা বেশি, মুসলমানদের ক্ষেত্রে ঠিক ততটাই বেশি বংশ বৃদ্ধির হার। একজন মুসলমান নারী গড়ে তিনটি শিশু সন্তানের জন্ম দেন। অন্য ধর্মের নারীদের ক্ষেত্রে এ হার ২ দশমিক ৩ শতাংশ।

পিউ রিসার্চের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালে ভারতে মুসলিমদের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩০ কোটির বেশি।

এখন বিশ্বের মোট যুব সমাজের মধ্যে ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। ২০১০ সালের হিসাবে, ২৩ বছর বয়স্ক যুবকের সংখ্যা মুসলমানদের মধ্যেই বেশি। এর ফলে এই যুবসমাজ বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নেবে। আর এতেই অন্য সব ধর্মের অনুসারীদের তুলনায় আগামী বছরগুলোয় মুসলিম জনসংখ্যা বেশি বাড়বে।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের দেওয়া তথ্য বলছে, ২০১০ থেকে ২০৪০ এই ৩০ বছরের মধ্যে মুসলমান জনসংখ্যা বাড়বে ৭৩ শতাংশ, যা ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন থেকে বেড়ে হবে ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন। অন্যদিকে খ্রিস্টান জনসংখ্যা বাড়বে ৩৫ শতাংশ।

২০১০ সালে বিশ্বে মোট খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীর সংখ্যা ছিল ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন। ২০৫০ সালে সেটা হবে ২ দশমিক ৯২ বিলিয়ন। ইউরোপের মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশই হবে ইসলাম ধর্মাবলম্বী।

একই সময়ের মধ্যে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের জনসংখ্যার হেরফের হবে না। জৈন ও হিন্দু জনসংখ্যা অল্প হলেও বাড়বে বলে পিউ রিসার্চ সেন্টারের সমীক্ষায় বলা হয়েছে।