‘যেই ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হইতে পারলাম না, সেইখানে আমি চ্যান্সেলার হইয়া আসছি’

সময়ের কণ্ঠস্বর – স্বভাবসুলভ হাস্যরসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠান মাতালেন রাষ্ট্রপতি ও সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মো. আবদুল হামিদ।

শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়েল খেলার মাঠে ৫০তম সমাবর্তনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদানের সময় লিখিত বক্তব্যের বাইরেও নিজের অভিজ্ঞতার কথা ডিগ্রীপ্রাপ্তদের উদ্দেশ্যে শোনান তিনি।

তিনি বলেন, “আমি লিখিত বক্তব্যের বাইরে কিছু বলতে চাই । নিজের কাছেই অবাক লাগে, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর। আমি ম্যাট্রিক থার্ড ডিভিশন। আইএ পাশ করছি এক সাবজেক্ট… লজিকে রেফার্ড”।

“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন আসলাম ভর্তি হওয়ার জন্য…তখন ভর্তি তো দূরের কথা, ভর্তির ফরমটাও আমাকে দেয় নাই। বন্ধু-বান্ধব অনেকে ভর্তি হইলো, ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে তখন আমি যুক্ত। ভর্তি যখন হইতে পারলাম না, তখন দয়ালগুরুর কৃপায় গুরুদয়াল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়ে গেলাম।”

রাষ্ট্রপতি বলেন, “বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অংশগ্রহণ করতাম। প্রায়ই ঢাকা আসতে হত। বিভিন্ন হলে থাকতাম। এমন কোনো হল নাই তখনকার সময়ে যেখানে ঢুকি নাই। অবশ্য রোকেয়া হলে ঢুকি নাই। তবে রোকেয়া হলের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করছিলাম”।

“বন্ধু-বান্ধব যারা পড়তো তারা কনভোকেশন ক্যাপ-গাউন পরত। আমাদের কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিল। তবে সমাবর্তনে আমাদের ডাকা হত না। যারা অনার্স-মাস্টার্সে ছিল, তাদের ডাকা হতো। কনভোকেশনে ক্যাপ-গাউন পরার খায়েস ছিল।”

“কিন্তু আল্লাহর কী লীলা খেলা বুঝলাম না, যেই ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হইতে পারলাম না, সেইখানে আমি চ্যান্সেলার হইয়া আসছি”।

এক সময় সমাবর্তনের গাউন পড়ার খায়েশ থাকলেও এখন তা আর ভালো লাগে না-এমন বক্তব্য দিয়েও আবার সবাইকে আনন্দ দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, চ্যান্সেলর হিসেবে প্রায়ই সবখানে আমাকে যেতে হয়। তবে এই ক্যাপ আর সিনথেটিক গাউন পরে বসে থাকা খুব কঠিন। কোন বাতাসই ঢুকতে পারেনা। আর যদি গরমের দিন হয় তাহলে তো অবস্থা কাহিল। আমি আমাদের সন্মানীত ভিসি সাহেবকে অনুরোধ করেছিলাম, শীতকালে এই সমাবর্তন আয়োজন করতে।

hamid

আবদুল হামিদ রাজনীতিতে জড়িয়েছেন ছাত্র জীবনেই। এরপর ১৯৭০ সালের জাতীয় নির্বাচনে কিশোরগঞ্জের একটি আসন থেকে আওয়ামী লীগের টিকিটে জাতীয় পরিষদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। এরপর থেকে ২০০৮ সালের নির্বাচন পর্যন্ত টানা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এর মধ্যে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারও নির্বাচিত হয়েছেন একাধিক বার।

রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। তার রাজনীতিতে হাতেখড়ির কথা উল্লেখ করে সদা হাস্য এই রাজনীতিক বলেন, ছাত্র রাজনীতির সাথে ওই সময় থেকেই আমি জড়িত ছিলাম। যখন এখানে ভর্তি হতে পারলাম না, নিজ জেলায় দয়ালগুরুর কৃপায় গুরুদয়াল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়ে গেলাম। তবে ৬১ সালে আইয়ুববিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে, বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে ঢাবিকে যেহেতু অনুসরণ করতাম, যার জন্য প্রায়ই ঢাকায় আসতে হত, আসতাম।