শরীয়তপুরের মেঘনা নদী থেকে তিন মাটিকাটা শ্রমিকের লাশ উদ্ধার

নয়ন দাস, শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার কুচাইপট্টি ইউনিয়নের খেজুরতলা নামক স্থানে মেঘনা নদী থেকে তিন ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে নদী থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ওই ব্যক্তিরা হলেন, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার চয়রা গ্রামের শহীদুল ইসলামের পুত্র হাফিজুর রহমান (৩০) ও পাবনার চাটমোহর উপজেলার ছাইখোলা গ্রামের নওশের আলীর পুত্র মাহাবুব প্রামানিক এবং একজন নাম জানা যায়নি। তারা কুচাইপট্টি এলাকায় মাটিকাটা শ্রমিকের কাজ করতেন।

গোসাইরহাট থানা সূত্র জানায়,স্থানীয় একটি চক্র রাতের আধারে নদীর তীর থেকে মাটি কেটে ইট ভাটায় বিক্রি করছিল। ওই চক্রটি সিরাজগঞ্জ ও পাবনার শ্রমিক দিয়ে মাটিকাটার কাজ করাচ্ছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারী রাতে ওই চক্রটি আনুয়াকাঠি এলাকা থেকে ৪-৫ টি ট্রলার নিয়ে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে এমন সংবাদে গ্রামবাসী তাদের বাধা দেয়ার জন্য সংঘবদ্ধ হচ্ছিল। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান পুলিশকে জানায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাটিকাটা শ্রমিকরা পালাতে থাকে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি ট্রলারসহ ২৪ জন শ্রমিককে আটক করে। পরে তাদের থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয়।
শুক্রবার সন্ধায় এলাকাবাসী মেঘনা নদীতে দুটি লাশ ভাসতে দেখে । খবর পেয়ে গোসাইরহাট থানার পুলিশ রাতে মেঘনা নদীর তীরে খেজুরতলা এলাকায় গিয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করে। লাশ দুটি ময়না তদন্তর জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে ওই দুই শ্রমিকের স্বজনরা হাসপাতালের মর্গে ছুটে আসে। এছাড়া, শনিবার দুপুরে আরেকটি লাশ উদ্ধার করা হয়।

Screenshot_21

নিহত হাফিজুর রহমানের ভায়রা হাসেম মিয়া বলেন, আমার ভায়রা মাটিকাটা শ্রমিকের কাজ করে। মাটি কাটার জন্য তাদের এ এলাকায় কারা এনেছে তা আমরা জানিনা। বুধবার খবর পাই আমার ভায়রা ও আরো এক ব্যক্তির কোন খোজ পাওয়া যাচ্ছেনা। তাদের খুজতে এসে লাশের সন্ধান পাই। কিভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে তাও আমরা বলতে পারছি না।

গোসইরহাট উপজেলার কুচাইপট্টি ইউপির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন স্বপন বলেন, দীর্ঘদিন থেকে একটি চক্র নদীর তীর থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে অনেকবার উপজেলা উন্নয় সমন্বয় কমিটির সভায় আলোচনা হয়েছে। গত ২৮ র্ফেরুয়ারী কাটি কাটার সময় গ্রামবাসী বাধা দিবে এমন খবর পেয়ে আমি পুলিশে খবর দেই। পুলিশ সেখান থেকে কয়েকজন শ্রমিককে আটক করেছিল। পরের দিন এলাকায় শুনতে পাই মাটিকাটার দুই শ্রমিক নিখোজ। বৃহস্পতিবার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নিয়ে ট্রলার যোগে মেঘনা নদীতে ওই স্থান পরিদর্শন করেছি। শুক্রবার লাশ উদ্ধারের কথা শুনতে পেয়েছি।

গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাসুদ বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারী মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে একটি ট্রলারসহ ২৪ জন শ্রমিককে আটক করেছিলাম। তারা মুছলেখা দিয়ে থানা থেকে চলে যায়। শুক্রবার দুই ব্যক্তির লাশ মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করার পর তাদের মাটিকাটা শ্রমিক হিসেবে সনাক্ত করা হয়। দুপুরে আরেকটি লাশ উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে এখনও মামলা হয়নি। মামলা হলে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।